খেলোয়াড় হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতার পর এবার স্পেনের ক্লাব ফুটবলে বিনিয়োগ; মেসির এলদেন্সে যাওয়ার খবর এখনো নিশ্চিত নয় খেলার মাঠে লিওনেল মেসি ও ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর দ্বৈরথ ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম আলোচিত অধ্যায়। বার্সেলোনা ও রিয়াল মাদ্রিদের হয়ে প্রায় এক দশক ধরে মুখোমুখি হওয়া দুই মহাতারকা এবার মাঠের বাইরেও স্প্যানিশ ফুটবলে নিজেদের উপস্থিতি জানান দিচ্ছেন। খেলোয়াড় হিসেবে স্পেনে দীর্ঘদিন রাজত্ব করার পর দেশটির ক্লাব ফুটবলে বিনিয়োগ করে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছেন তাঁরা। ৪১ বছর বয়সী রোনালদো গত ফেব্রুয়ারিতে স্পেনের দ্বিতীয় বিভাগের ক্লাব আলমেরিয়ার ২৫ শতাংশ মালিকানা কিনেছেন। এবার একই বিভাগের আরেক ক্লাব এলদেন্সে বিনিয়োগের পথে এগোচ্ছেন মেসি। বিভিন্ন সূত্রের বরাত দিয়ে জানা গেছে, ক্লাবটির সঙ্গে বিনিয়োগের বিষয়ে প্রাথমিক চুক্তিতে পৌঁছেছেন আর্জেন্টাইন তারকা। তবে বিষয়টি এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত হয়নি। এর আগে স্পেনের বার্সেলোনা অঞ্চলের পঞ্চম বিভাগের ক্লাব করনেয়ারের মালিকানাও নিয়েছেন মেসি। ফলে স্প্যানিশ ফুটবলে তাঁর ব্যবসায়িক সম্পৃক্ততা এরই মধ্যে শুরু হয়েছে। এলদেন্সে মেসির বিনিয়োগের খবর নিয়ে বুধবার সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেছেন লা লিগার সভাপতি হাভিয়ের তেবাস। তবে তিনি জানিয়েছেন, সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন থেকেই এ বিষয়ে জানতে পেরেছেন। মেসি সরাসরি ব্যক্তিগতভাবে বিনিয়োগ করছেন, নাকি কোনো বিনিয়োগকারী গোষ্ঠীর মাধ্যমে ক্লাবটির সঙ্গে যুক্ত হচ্ছেন, সে বিষয়েও তাঁর কাছে নিশ্চিত তথ্য নেই। তবে মেসির সম্ভাব্য বিনিয়োগ নিয়ে নেতিবাচক কোনো মন্তব্য করেননি তেবাস। বরং রোনালদোর আলমেরিয়ায় মালিকানা নেওয়ার প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেছেন, সাম্প্রতিক সময়ের বিশ্বের সেরা দুই ফুটবলার নিজেদের অর্থ স্প্যানিশ ফুটবলে বিনিয়োগ করছেন—এটি স্প্যানিশ ফুটবলের জন্য সম্মানের বিষয়। তাঁদের বিনিয়োগ দেশটির ক্লাব ফুটবলকে আরও সমৃদ্ধ করতে সহায়তা করবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। খেলোয়াড় হিসেবে মেসি-রোনালদোর প্রতিদ্বন্দ্বিতা স্প্যানিশ ফুটবলের জনপ্রিয়তা ও বৈশ্বিক আকর্ষণের বড় একটি অংশ হয়ে উঠেছিল। মেসি বার্সেলোনার হয়ে এবং রোনালদো রিয়াল মাদ্রিদের হয়ে একে অপরের মুখোমুখি হয়েছেন অসংখ্যবার। ব্যক্তিগত পুরস্কার, গোল ও দলীয় সাফল্য—প্রায় প্রতিটি ক্ষেত্রেই তাঁদের মধ্যে তুলনা হয়েছে। ক্লাব ও জাতীয় দলের হয়ে দুই তারকার সম্মিলিত শিরোপার সংখ্যাও ৮০ ছাড়িয়েছে। ৯০০-এর বেশি গোল করা ফুটবলার হিসেবেও মেসি ও রোনালদো বিশ্বের সবচেয়ে আলোচিত দুই নাম। বার্সেলোনায় ১৭ মৌসুম কাটানোর পর ২০২১ সালের আগস্টে ক্লাবটির আর্থিক সংকটের মধ্যে বিদায় নেন মেসি। কাতালান ক্লাবটির হয়ে অসংখ্য সাফল্যের পাশাপাশি আর্জেন্টিনার হয়েও ইতিহাস গড়েছেন তিনি। বার্সেলোনা ও আর্জেন্টিনার হয়ে পারফরম্যান্সের স্বীকৃতি হিসেবে সাতবার ব্যালন ডি’অর জিতেছেন এই আর্জেন্টাইন তারকা। অন্যদিকে ২০১৮ সালে রিয়াল মাদ্রিদ ছাড়েন রোনালদো। স্প্যানিশ ক্লাবটিতে থাকাকালে নিজেকে ক্লাবটির ইতিহাসের অন্যতম সেরা গোলদাতা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেন তিনি। রিয়ালের হয়ে ১৩টি শিরোপা জয়ের পাশাপাশি চারটি চ্যাম্পিয়নস লিগ জিতেছেন পর্তুগিজ তারকা। জাতীয় দলের হয়ে তাঁর সবচেয়ে বড় সাফল্য ২০১৬ সালের ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপ জয়। খেলোয়াড়ি জীবনের সেই প্রতিদ্বন্দ্বিতা এখন ভিন্ন মাত্রা পাচ্ছে। মেসি ও রোনালদো দুজনই স্পেনের ক্লাব ফুটবলে বিনিয়োগের মাধ্যমে মালিকানা ও ব্যবসায়িক সম্পৃক্ততার দিকে এগোচ্ছেন। তবে এলদেন্সে মেসির বিনিয়োগের বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত এটিকে সম্ভাব্য বিনিয়োগ হিসেবেই দেখা হচ্ছে। তবে দুই তারকার এই নতুন অধ্যায় নিয়ে তেবাসের ইতিবাচক মন্তব্য স্প্যানিশ ক্লাব ফুটবলে মেসি-রোনালদোর প্রভাব যে খেলোয়াড়ি জীবনের পরও অব্যাহত রয়েছে, সেই আলোচনাকে আরও জোরালো করেছে।