বিশ্বকাপের শতবর্ষ পূর্তি উপলক্ষে ২০৩০ সালের আসরে অংশগ্রহণকারী দলের সংখ্যা ৪৮ থেকে বাড়িয়ে ৬৪ করার পরিকল্পনা থেকে সরে এসেছে ফিফা। ফলে ২০২৬ সালের মতো ২০৩০ বিশ্বকাপেও ৪৮টি দল অংশ নেবে। বার্তা সংস্থা ইউএনএনের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিশ্বকাপের ১০০ বছর পূর্তি উদ্যাপনকে স্মরণীয় করে রাখতে ২০৩০ সালের আসরে ৬৪ দল নিয়ে টুর্নামেন্ট আয়োজনের প্রাথমিক পরিকল্পনা করা হয়েছিল। তবে শেষ পর্যন্ত সেই উদ্যোগ স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো। তিনি ইতিমধ্যে ফিফা ব্যুরোর সদস্যদের এ সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছেন বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। ২০২৭ সালে পুনর্নির্বাচিত হলেও দলসংখ্যা বাড়ানোর বিষয়ে আর জোর দেবেন না ইনফান্তিনো। এর আগে গত জুনে ইনফান্তিনো নিজেই বিশ্বকাপে ৬৪ দল অংশ নেওয়ার সম্ভাবনা খতিয়ে দেখার কথা জানিয়েছিলেন। পরে দক্ষিণ আমেরিকান ফুটবল কনফেডারেশনের (কনমেবল) সভাপতি আলেহান্দ্রো দোমিঙ্গেসও জানিয়েছিলেন, ২০৩০ বিশ্বকাপ সামনে রেখে ৬৪ দলের টুর্নামেন্ট আয়োজনের বিষয়টি নিয়ে ফিফা নতুন করে কাজ শুরু করেছে। তবে সেই পরিকল্পনা আর বাস্তবায়িত হচ্ছে না। ২০২৬ বিশ্বকাপ থেকেই প্রথমবারের মতো ৩২ দলের পরিবর্তে ৪৮ দল নিয়ে টুর্নামেন্ট আয়োজন শুরু হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোয় অনুষ্ঠিতব্য এই আসরের পর ২০৩০ বিশ্বকাপেও দলসংখ্যা ৪৮ রাখার সিদ্ধান্তের কথা জানা গেল। তবে আয়োজনের দিক থেকে ২০৩০ বিশ্বকাপ হবে ব্যতিক্রমী। বিশ্বকাপের শতবর্ষ উপলক্ষে ইতিহাসে প্রথমবারের মতো ছয়টি দেশে অনুষ্ঠিত হবে টুর্নামেন্টটি। উরুগুয়ে, আর্জেন্টিনা ও প্যারাগুয়েতে হবে উদ্বোধনী পর্বের তিনটি ম্যাচ। এর মধ্যে উদ্বোধনী ম্যাচটি আয়োজন করা হবে উরুগুয়ের মন্টেভিডিওর ঐতিহাসিক এস্তাদিও সেনতেনারিওতে। বাকি ম্যাচগুলো হবে স্পেন, পর্তুগাল ও মরক্কোয়। এদিকে বিশ্বকাপের বাণিজ্যিক স্বত্ব ও সার্বিক পরিচালনার অংশীদারত্ব বিক্রি করে আধা-বেসরকারি একটি সহযোগী প্রতিষ্ঠান গঠনের প্রস্তাব দিয়েও সমালোচনার মুখে পড়েছিলেন ইনফান্তিনো। ইউরোপীয় ফুটবল সংস্থা উয়েফাসহ ইউরোপ, এশিয়া ও উত্তর আমেরিকার ফুটবল কনফেডারেশনগুলো এ উদ্যোগের বিরোধিতা করে। শেষ পর্যন্ত বেসরকারি বিনিয়োগকারী যুক্ত করার প্রস্তাব থেকে সরে আসতে হয় ফিফা সভাপতিকে। আগামী ২০২৭ সালের মার্চে মরক্কোয় ফিফা সভাপতি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। ইনফান্তিনো আবারও প্রার্থী হলে তাঁর বিপরীতে বিকল্প প্রার্থী দাঁড় করানোর ইঙ্গিত দিয়েছে উয়েফা। ইউরোপীয় সংস্থাটির বক্তব্য, অন্য মহাদেশীয় কনফেডারেশনগুলোর সঙ্গে আলোচনা করে এমন একজন যোগ্য প্রার্থীকে সামনে আনা হবে, যিনি সততা, জবাবদিহি, উন্নয়ন ও প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কারে বিশ্বাসী।