সরকারি সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আজ রোববার (১ নভেম্বর) থেকে পর্যটকদের জন্য প্রবাল দ্বীপ সেন্টমার্টিন খুলে দেওয়া হলেও কক্সবাজার থেকে ছাড়েনি কোনো পর্যটকবাহী জাহাজ। প্রয়োজনীয় কাগজপত্র, ফিটনেস সনদ এবং অনুমোদন প্রক্রিয়া শেষ না হওয়ায় আজ পর্যন্ত কোনো জাহাজকে চলাচলের অনুমতি দেয়নি কক্সবাজার জেলা প্রশাসন। তবে এর মাঝেই টেকনাফ ও কক্সবাজারের বিভিন্ন পয়েন্ট থেকে অনুমোদনহীন স্পিডবোট ও কাঠের ট্রলারে ঝুঁকি নিয়ে দ্বীপে যাতায়াত শুরু করেছেন পর্যটক ও স্থানীয় বাসিন্দারা। টেকনাফের কায়ুকখালী খাল, শাহপরীর দ্বীপ এবং টেকনাফ কয়েকটি পয়েন্ট থেকে উত্তাল বঙ্গোপসাগর পাড়ি দিয়ে এসব লঘুনৌযান সেন্টমার্টিনের উদ্দেশ্যে ছেড়ে যাচ্ছে। নাফ নদী ও সাগরের উত্তাল ঢেউ পেরিয়ে এ ধরনের যাতায়াত চরম নিরাপত্তাহীন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। সেন্টমার্টিনগামী কয়েকজন যাত্রী জানান, জরুরি কাজ এবং দ্বীপ ভ্রমণের প্রবল ইচ্ছায় তারা বাধ্য হয়ে এসব বিকল্প নৌযানে যাতায়াত করছেন। তবে পর্যাপ্ত লাইফ জ্যাকেটের অভাব এবং অনিয়ন্ত্রিত ভাড়া আদায়ের বিষয়ে তারা ক্ষোভ প্রকাশ করেন। কক্সবাজার জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, পর্যটক নিবন্ধনের জন্য বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ডের নির্ধারিত ব্যবস্থা ও জাহাজগুলোর প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দেওয়ার প্রক্রিয়া এখনো চূড়ান্ত হয়নি। আগামী বুধবার জেলা প্রশাসক সেন্টমার্টিন দ্বীপে গিয়ে সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের সঙ্গে বৈঠকের পর জাহাজ চলাচলের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার কথা জানান। সব প্রস্তুতি ঠিক থাকলে আগামী বৃহস্পতিবার বা শুক্রবার থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে জাহাজ চলাচল শুরু হতে পারে। কক্সবাজার জেলা প্রশাসনের পর্যটন সেলের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মাহমুদুর রহমান সায়েম বলেন, "পর্যাপ্ত কাগজপত্র জমা না দেওয়ায় এখন পর্যন্ত কোনো জাহাজকে চলাচলের অনুমতি দেওয়া হয়নি।" বিআইডব্লিউটিএ কক্সবাজার নদীবন্দরের উপপরিচালক নয়ন শীল জানান, সেন্টমার্টিনে যাতায়াতের জন্য বিআইডব্লিউটিএ থেকে রুট পারমিট নেওয়া বাধ্যতামূলক। আবেদন পাওয়ার পর জাহাজ পরিদর্শন করে অনুমোদন দেওয়া হবে। কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মো. আ. মান্নান স্পষ্ট জানান, জাহাজের ফিটনেস ও নিরাপত্তা নিশ্চিত না করে চলাচলের অনুমতি দেওয়া হবে না। একই সঙ্গে তিনি সতর্ক করে বলেন, "কক্সবাজার শহরের নুনিয়ারছড়া বিআইডব্লিউটিএ জেটি ঘাট ছাড়া টেকনাফ, শাহপরীর দ্বীপ কিংবা উখিয়া থেকে অন্য কোনো নৌযানে সেন্টমার্টিন যাওয়ার সুযোগ নেই। সরকার অনুমোদিত জাহাজে অনলাইন নিবন্ধনের মাধ্যমেই পর্যটকদের দ্বীপে যেতে হবে।" জাহাজ চলাচলের অনুমোদন প্রক্রিয়া সম্পর্কে সেন্টমার্টিনগামী জাহাজ মালিকদের সংগঠন সি ক্রুজ অপারেটর ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের সাধারণ সম্পাদক হোসাইন ইসলাম বাহাদুর বলেন, জাহাজ চালাতে পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের ছাড়পত্র, নৌপরিবহন অধিদপ্তরের অনুমোদন, বিআইডব্লিউটিএর রুট পারমিট এবং কক্সবাজার জেলা প্রশাসকের অনুমতি প্রয়োজন। কিন্তু এসব প্রক্রিয়া এখনো শেষ হয়নি। অন্যদিকে পর্যটকদের তথ্য সংগ্রহের জন্য ট্যুরিজম বোর্ডের যে সফটওয়্যার চালুর কথা, সেটিও প্রস্তুত হয়নি। এ কারণে রোববার থেকে জাহাজ চালানো সম্ভব হচ্ছে না। তবে বৃহস্পতি বা শুক্রবার থেকে চলাচল শুরুর প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।