প্রকাশ :: ... | ... | ...

মাতারবাড়ীর উন্নয়নযজ্ঞ ঘুরে দেখলেন প্রধানমন্ত্রী


সংযুক্ত ছবি

বিভিন্ন প্রকল্পের অগ্রগতি, পরিকল্পনা ও ভবিষ্যৎ ব্যবহার নিয়ে মতামত ও দিকনির্দেশনা দিয়েছেন তারেক রহমান কক্সবাজারের মহেশখালী উপজেলার মাতারবাড়ীতে গভীর সমুদ্রবন্দর, কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রসহ বাস্তবায়নাধীন ও প্রস্তাবিত বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প পরিদর্শন করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। রোববার দুপুর সোয়া ১২টার দিকে তিনি মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দর পরিদর্শনে যান। প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন জানান, পরিদর্শনকালে প্রকল্পের সার্বিক বিষয় প্রধানমন্ত্রীকে ব্রিফিং করা হয়। প্রকল্পের কর্মপরিকল্পনা সম্পর্কেও তাকে বিস্তারিত অবহিত করা হয়েছে। এ সময় অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিতসহ গভীর সমুদ্রবন্দরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। এর আগে সকাল ১০টা ৫২ মিনিটে হেলিকপ্টারে করে মাতারবাড়ীতে পৌঁছান প্রধানমন্ত্রী। হেলিপ্যাডে তাকে অভ্যর্থনা জানান বিদ্যুৎ ও জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত। মাতারবাড়ীতে অবস্থানকালে প্রধানমন্ত্রী আল্ট্রা-সুপারক্রিটিক্যাল কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রও পরিদর্শন করেন। প্রধানমন্ত্রীর সহকারী প্রেস সচিব কে এম নাজমুল হক খান জানান, হেলিকপ্টারে বিদ্যুৎকেন্দ্রের হেলিপ্যাডে পৌঁছানোর পর প্রধানমন্ত্রী প্রকল্পের প্রশাসনিক ভবনে যান। সেখানে প্রকল্পের সার্বিক কার্যক্রম নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেন। বৈঠকে বিদ্যুৎকেন্দ্রের বর্তমান অবস্থা, বিদ্যুৎ উৎপাদন ও পরিচালন কার্যক্রম, উৎপাদন সক্ষমতা, জ্বালানি সরবরাহ ও ব্যবস্থাপনা, প্লান্টের পরিচালন দক্ষতা, রক্ষণাবেক্ষণ, নিরাপত্তাব্যবস্থা এবং সংশ্লিষ্ট অবকাঠামো সম্পর্কে প্রধানমন্ত্রীকে বিস্তারিত তথ্য দেওয়া হয়। পরিদর্শনের সময় প্রকল্প এলাকায় একটি নিমের চারা রোপণ করেন প্রধানমন্ত্রী। মাতারবাড়ী বিদ্যুৎকেন্দ্রে ৬০০ মেগাওয়াট করে দুটি ইউনিট রয়েছে। প্রকল্পের আওতায় বিদ্যুৎকেন্দ্রের পাশাপাশি কয়লা পরিবহনের জন্য বন্দর সুবিধা, বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইন, অ্যাকসেস রোড এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় অবকাঠামো নির্মাণ করা হয়েছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়নে ঋণ সহায়তা দিয়েছে জাপান ইন্টারন্যাশনাল কো-অপারেশন এজেন্সি (জাইকা)। প্রধানমন্ত্রী প্রকল্প এলাকার বিভিন্ন স্থাপনা এবং প্রস্তাবিত প্রকল্পের জন্য নির্ধারিত স্থানগুলোও সরেজমিনে ঘুরে দেখেন। তাকে প্রস্তাবিত এলএনজিভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র, মেট্রোকেমিক্যাল প্রকল্প এবং নতুন রিফাইনারির জন্য নির্ধারিত স্থান দেখানো হয়। এ ছাড়া এলপিজি, এলএনজি ও কয়লা টার্মিনাল-সংশ্লিষ্ট অবকাঠামো ও প্রস্তাবিত প্রকল্প এলাকাও পরিদর্শন করেন প্রধানমন্ত্রী। এসব প্রকল্পের পরিকল্পনা, অগ্রগতি ও ভবিষ্যৎ ব্যবহার সম্পর্কে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের কাছ থেকে বিস্তারিত তথ্য নেন তিনি। সহকারী প্রেস সচিব কে এম নাজমুল হক খান জানান, প্রকল্পগুলোর বিভিন্ন দিক সম্পর্কে অবহিত হওয়ার পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রী সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বিভিন্ন বিষয়ে মতামত ও দিকনির্দেশনা দিয়েছেন। পরিদর্শনের একপর্যায়ে প্রধানমন্ত্রী কয়লা জেটি ঘুরে দেখেন। সেখান থেকে মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দর, এলএনজি টার্মিনাল এবং বিদ্যুৎকেন্দ্রের বিভিন্ন স্থাপনা পর্যবেক্ষণ করেন তিনি। কয়লা পরিবহন ও খালাসের জন্য প্রয়োজনীয় বন্দর অবকাঠামো এবং বিদ্যুৎকেন্দ্রের সঙ্গে এসব অবকাঠামোর সমন্বিত কার্যক্রম সম্পর্কেও তাকে অবহিত করা হয়। মাতারবাড়ীকে কেন্দ্র করে গভীর সমুদ্রবন্দর, বিদ্যুৎ উৎপাদন, জ্বালানি আমদানি ও সংরক্ষণ এবং শিল্প অবকাঠামো গড়ে তোলার একাধিক প্রকল্প বাস্তবায়নাধীন রয়েছে। ফলে এ অঞ্চলের উন্নয়ন পরিকল্পনায় বন্দর ও জ্বালানি অবকাঠামোর সমন্বিত ব্যবহারকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। পরিদর্শনকালে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আরও উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তা উপদেষ্টা অবসরপ্রাপ্ত ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এ টি এম শামসুল ইসলাম, অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন এবং বিএনপির বিশেষ রাজনৈতিক সম্পাদক বেলায়েত হোসেন মৃধাসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।