প্রকাশ :: ... | ... | ...

রাজস্থলী ৫০ শয্যার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়মবহির্ভূতভাবে ভুয়া বিল-ভাউচারের মাধ্যমে টাকা উত্তোলনের অভিযোগ


সংযুক্ত ছবি

রাঙামাটির রাজস্থলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাসেবার মান, চিকিৎসক ও কর্মচারীদের উপস্থিতি, ওষুধ সরবরাহ, রোগীদের খাবার, অ্যাম্বুলেন্সের ব্যবহার এবং সরকারি অর্থ ব্যয়ের স্বচ্ছতা নিয়ে নানা অভিযোগ উঠেছে। সবচেয়ে গুরুতর অভিযোগ, বিভিন্ন খাতে ভুয়া বিল-ভাউচার তৈরি করে সরকারি কোষাগার থেকে অর্থ উত্তোলন করা হয়েছে। সাংবাদিকদের উপস্থিতিতে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. নওশাদ খান ভুয়া বিল-ভাউচারের মাধ্যমে অর্থ উত্তোলনের কথা স্বীকার করেছেন বলে জানা গেছে। তিনি এ ধরনের কার্যক্রমকে নিয়মবহির্ভূত বলেও উল্লেখ করেন। এ ছাড়া চিকিৎসক ও কর্মচারীদের নিয়মিত উপস্থিতি, রোগীদের খাবার সরবরাহ, জেনারেটর ব্যবহার, কাপড় ধোলাইয়ের বরাদ্দ এবং জরুরি রোগী পরিবহনে অ্যাম্বুলেন্স চালকের দায়িত্ব পালন নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও রোগীদের স্বজনেরা। হাসপাতালের আর্থিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রমে দীর্ঘদিন দায়িত্ব পালন করা কয়েকজন কর্মচারীর প্রভাব নিয়েও অভিযোগ রয়েছে। তবে এসব অভিযোগের পূর্ণাঙ্গ সত্যতা নির্ধারণে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য, আর্থিক নথি, উপস্থিতি রেজিস্টার এবং প্রশাসনিক কাগজপত্র যাচাই করা প্রয়োজন। ৫০ শয্যার হাসপাতাল, সেবা নিয়ে অসন্তোষ রাজস্থলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটি উপজেলার সাধারণ মানুষের সরকারি চিকিৎসাসেবার অন্যতম প্রধান ভরসা। প্রায় ৪০ হাজার মানুষের স্বাস্থ্যসেবার প্রয়োজন মেটাতে প্রতিষ্ঠানটির ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। হাসপাতালটি ১০ শয্যা থেকে ৫০ শয্যায় উন্নীত হলেও চিকিৎসাসেবার মান, জনবল ব্যবস্থাপনা ও প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা নিয়ে স্থানীয়দের অভিযোগ রয়েছে। রোগী ও তাঁদের স্বজনদের ভাষ্য, হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে এসে কখনো প্রয়োজনীয় চিকিৎসককে পাওয়া যায় না। প্রয়োজনীয় ওষুধ সব সময় পাওয়া যায় না বলেও অভিযোগ রয়েছে। ফলে অনেক রোগীকে বাইরে থেকে ওষুধ কিনতে হয়। জরুরি রোগীকে উন্নত চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল কিংবা চন্দ্রঘোনা খ্রিষ্টিয়ান হাসপাতালে পাঠানোর প্রয়োজন হলে দ্রুত পরিবহন নিশ্চিত করা নিয়েও উদ্বেগ রয়েছে। স্থানীয়দের প্রশ্ন, সরকারি অর্থে পরিচালিত একটি স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসক, কর্মচারী, ওষুধ ও রোগীবাহী গাড়ির ব্যবস্থা থাকার পরও রোগীদের কেন ভোগান্তিতে পড়তে হবে? গত ১৪ অক্টোবর সকাল ১০টার দিকে হাসপাতালের চিকিৎসাসেবা ও ব্যবস্থাপনা পরিস্থিতি সরেজমিনে পরিদর্শন করেন সাংবাদিকেরা। রোগী ও তাঁদের স্বজনদের সঙ্গে কথা বলে বিভিন্ন অভিযোগের কথা জানা যায়। পরিদর্শনকালে চিকিৎসক-কর্মচারীদের উপস্থিতি, অ্যাম্বুলেন্সের দায়িত্ব পালন এবং হাসপাতালের আর্থিক ব্যবস্থাপনা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। ভুয়া বিল-ভাউচারে অর্থ উত্তোলনের অভিযোগ হাসপাতালের আর্থিক ব্যবস্থাপনা নিয়ে ওঠা অভিযোগগুলোর মধ্যে সবচেয়ে গুরুতর হলো বিভিন্ন খাতে নামে-বেনামে বিল তৈরি করে সরকারি অর্থ উত্তোলনের অভিযোগ। আপ্যায়ন, টেন্ডারসহ বিভিন্ন খাতের বিল-ভাউচার তৈরি করে অর্থ উত্তোলন করা হয়েছে বলে অভিযোগকারীরা দাবি করেছেন। এসব বিলের বিপরীতে প্রকৃতপক্ষে পণ্য বা সেবা সরবরাহ করা হয়েছিল কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। এ বিষয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. নওশাদ খানের বক্তব্য বিশেষ গুরুত্ব বহন করে। সাংবাদিকদের উপস্থিতিতে তিনি ভুয়া বিল-ভাউচারের মাধ্যমে অর্থ উত্তোলনের কথা স্বীকার করেছেন বলে জানা গেছে। তিনি বিষয়টিকে নিয়মবহির্ভূত বলেও উল্লেখ করেন। তবে কোন খাতে কত টাকা উত্তোলন করা হয়েছে, কারা বিল প্রস্তুত করেছেন, কার অনুমোদনে অর্থ ছাড় হয়েছে এবং অর্থ উত্তোলনের সঙ্গে কারা জড়িত—এসব বিষয়ে সুনির্দিষ্ট তথ্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয়দের দাবি, আর্থিক অনিয়মের অভিযোগকে শুধু বক্তব্যের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে নিরপেক্ষ নিরীক্ষার মাধ্যমে প্রকৃত অবস্থা বের করতে হবে। সরকারি অর্থের অপব্যবহার প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ারও দাবি জানিয়েছেন তাঁরা। ‘বড় বাবু’ ও ক্যাশিয়ারকে ঘিরে প্রশ্ন হাসপাতালের অভ্যন্তরীণ প্রশাসনিক ও আর্থিক কার্যক্রমে কয়েকজন কর্মচারীর প্রভাব রয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা। তাঁদের দাবি, একজন জ্যেষ্ঠ কর্মচারী, যিনি স্থানীয়ভাবে ‘বড় বাবু’ নামে পরিচিত, এবং ক্যাশিয়ারকে ঘিরে বিভিন্ন কার্যক্রমের ভূমিকা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। অভিযোগকারীদের ভাষ্য, কিছু প্রশাসনিক ও আর্থিক কার্যক্রমে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার পরিবর্তে ওই কর্মচারীদের প্রভাব বেশি বলে তাঁদের মনে হয়েছে। তাঁদের কেউ কেউ দীর্ঘদিন একই কর্মস্থলে দায়িত্ব পালন করছেন বলেও দাবি করা হয়েছে। কয়েকজন কর্মচারীর চাকরির মেয়াদ ২৫ থেকে ৩০ বছর বলে অভিযোগ রয়েছে। তবে দীর্ঘদিন একই কর্মস্থলে দায়িত্ব পালন করা নিজে থেকে অনিয়মের প্রমাণ নয়। সংশ্লিষ্ট কর্মচারীদের দায়িত্বের পরিধি, পদায়ন, বিল প্রস্তুত ও অনুমোদনের ক্ষমতা এবং আর্থিক কার্যক্রমে তাঁদের ভূমিকা নথিপত্রের ভিত্তিতে যাচাই করা প্রয়োজন। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মচারীদের সরাসরি বক্তব্য পাওয়া যায়নি। রোগীদের খাবার ও কাপড় ধোলাইয়ের বরাদ্দ হাসপাতালের রোগীদের খাবার সরবরাহের মান, ঠিকাদার নিয়োগ এবং খাবার বিতরণের প্রক্রিয়া নিয়েও অভিযোগ রয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, খাবার সরবরাহের দায়িত্বপ্রাপ্ত ঠিকাদার বাস্তবে কীভাবে খাবার প্রস্তুত ও বিতরণ করছেন এবং চুক্তির শর্ত যথাযথভাবে পালন করা হচ্ছে কি না, তা খতিয়ে দেখা দরকার। প্রকৃত ঠিকাদারের পরিচয়, নিয়োগপ্রক্রিয়া, চুক্তির শর্ত, রোগীর সংখ্যা অনুযায়ী খাবারের বরাদ্দ এবং সরবরাহের বিপরীতে পরিশোধ করা বিল যাচাই করা প্রয়োজন বলে মনে করেন তাঁরা। তবে এসব অভিযোগের পক্ষে সংশ্লিষ্ট চুক্তিপত্র বা সরবরাহের নথি স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। একইভাবে রোগীদের ব্যবহৃত কাপড়, বিশেষ করে প্রসূতি বিভাগের কাপড় ধোলাই ও পরিচ্ছন্নতার কাজে বরাদ্দ করা অর্থের ব্যবহার নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। হাসপাতালের কাপড় নিয়মিত পরিষ্কার ও জীবাণুমুক্ত রাখা রোগীদের নিরাপত্তার সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত। এ ক্ষেত্রে বরাদ্দ, প্রকৃত ব্যয়, সেবাদানকারী ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের পরিচয় এবং কাজ সম্পন্ন হওয়ার প্রমাণ যাচাই করা প্রয়োজন। চিকিৎসক ও মেডিকেল টেকনোলজিস্টের উপস্থিতি হাসপাতালের চিকিৎসকদের নিয়মিত উপস্থিতি নিয়েও অভিযোগ করেছেন রোগী ও তাঁদের স্বজনেরা। বিশেষ করে ডেন্টাল বিভাগের চিকিৎসককে প্রয়োজনের সময় পাওয়া যায় না বলে অভিযোগ রয়েছে। স্থানীয় কয়েকজনের দাবি, চিকিৎসককে হাসপাতালে না পেলে কখনো ফোনে পরামর্শ নিতে কিংবা হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে ব্যবস্থাপত্র সংগ্রহ করতে বলা হয়। গত ১৪ অক্টোবর পরিদর্শনের সময় হাসপাতাল থেকে বের হওয়ার পর্যায়ে কয়েকজন চিকিৎসককে প্রবেশ করতে দেখা গেছে বলে জানিয়েছেন উপস্থিত সাংবাদিকেরা। তবে এ পর্যবেক্ষণ দিয়ে তাঁদের নিয়মিত অনুপস্থিতি নিশ্চিত করা যায় না। নির্ধারিত কর্মঘণ্টা, দায়িত্বসূচি ও উপস্থিতি রেজিস্টার যাচাই করেই এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া প্রয়োজন। হাসপাতালের মেডিকেল টেকনোলজিস্ট জসিম উদ্দিনের বিরুদ্ধেও অনিয়মিত উপস্থিতির অভিযোগ তুলেছেন স্থানীয়রা। তাঁদের দাবি, তিনি সপ্তাহে দুই থেকে তিন দিন হাসপাতালে উপস্থিত থাকেন এবং কোনো কোনো দিন সকাল ১১টার দিকে কর্মস্থল ত্যাগ করেন। চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়ার রাজার হাট এলাকায় তাঁর একটি মেডিকেল টেকনোলজিস্ট সেন্টার রয়েছে বলেও অভিযোগ করেছেন তাঁরা। ওই প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রমের কারণে সরকারি দায়িত্ব পালনে ব্যাঘাত ঘটে কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। তবে জসিম উদ্দিন অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ‘আমি মৌখিকভাবে কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে ছুটি নিয়ে থাকি। আমি নিয়মিত কর্মস্থলে উপস্থিত থাকি।’ মেডিকেল টেকনোলজিস্ট জসিম উদ্দিনের অনিয়মিত উপস্থিতির অভিযোগ প্রসঙ্গে ডা. নওশাদ খান জানিয়েছেন, তাঁকে কয়েকবার কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, জসিম উদ্দিন নোটিশের সুনির্দিষ্ট জবাব দিতে পারেননি। এ ছাড়া সাংবাদিকদের উপস্থিতিতে ভুয়া বিল-ভাউচারের মাধ্যমে অর্থ উত্তোলনের বিষয়টি স্বীকার করে তিনি এ ধরনের কার্যক্রমকে নিয়মবহির্ভূত বলে উল্লেখ করেছেন বলে জানা গেছে। তবে আর্থিক অনিয়মের বিষয়ে তাঁর বিস্তারিত ব্যাখ্যা, সংশ্লিষ্ট বিলের পরিমাণ এবং পরবর্তী প্রশাসনিক পদক্ষেপের তথ্য পাওয়া যায়নি। বিদ্যুৎ চলে গেলে জেনারেটর চলে না হাসপাতালে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয়ে গেলে কখনো মোমবাতির ওপর নির্ভর করতে হয় বলে অভিযোগ করেছেন কয়েকজন রোগী। তাঁদের দাবি, জেনারেটর থাকা সত্ত্বেও সেটি নিয়মিত ব্যবহার করা হয় না। অভিযোগটি সত্য হলে জরুরি চিকিৎসা, রাতের সেবা ও প্রসূতি বিভাগের কার্যক্রমে ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। জেনারেটরের লগবুক, জ্বালানি কেনার বিল, রক্ষণাবেক্ষণের নথি এবং ব্যবহারের হিসাব যাচাই করলে এর প্রকৃত অবস্থা জানা সম্ভব হবে। স্থানীয়দের দাবি, বিদ্যুৎ চলে গেলে হাসপাতালের গুরুত্বপূর্ণ বিভাগগুলো সচল রাখার ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে। অ্যাম্বুলেন্স চালকের বিরুদ্ধে অভিযোগ জরুরি রোগীকে উন্নত চিকিৎসার জন্য অন্য হাসপাতালে পাঠানোর প্রয়োজন হলে অ্যাম্বুলেন্স চালককে সময়মতো পাওয়া যায় না বলে অভিযোগ রয়েছে। স্থানীয়দের আরও অভিযোগ, চালক নিয়মিত মদ্যপান করে কর্মস্থলে আসেন। তবে এ অভিযোগের পক্ষে স্বাধীনভাবে যাচাই করা প্রমাণ পাওয়া যায়নি। চালকের বক্তব্য, উপস্থিতির নথি, অ্যাম্বুলেন্স ব্যবহারের লগবুক এবং প্রয়োজন হলে যথাযথ কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে অভিযোগটি তদন্ত করা প্রয়োজন। জরুরি রোগী পরিবহনে দায়িত্বে অবহেলার প্রমাণ পাওয়া গেলে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা। তদন্ত ও জবাবদিহি চান এলাকাবাসী রাজস্থলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আর্থিক ব্যবস্থাপনা ও চিকিৎসাসেবা নিয়ে ওঠা অভিযোগগুলোর বিষয়ে ডা. নওশাদ খানের বিস্তারিত ব্যাখ্যা এবং সংশ্লিষ্ট কর্মচারী, ক্যাশিয়ার, অ্যাম্বুলেন্স চালক ও খাবার সরবরাহের ঠিকাদারের সরাসরি বক্তব্য পাওয়া প্রয়োজন। বিশেষ করে ভুয়া বিল-ভাউচারের অভিযোগের ক্ষেত্রে অর্থের পরিমাণ, বিল প্রস্তুতকারী, অনুমোদনকারী এবং সংশ্লিষ্ট ব্যয়ের বাস্তবতা যাচাই করা জরুরি। স্থানীয়দের দাবি, স্বাস্থ্য বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে হাসপাতালের আর্থিক হিসাব নিরীক্ষা, চিকিৎসক-কর্মচারীদের উপস্থিতি পর্যালোচনা, খাবার সরবরাহের চুক্তি যাচাই, জেনারেটরের ব্যবহার পরীক্ষা এবং অ্যাম্বুলেন্সের কার্যক্রম তদন্ত করা হোক। প্রায় ৪০ হাজার মানুষের স্বাস্থ্যসেবার সঙ্গে জড়িত এই প্রতিষ্ঠানে অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত ও কার্যকর তদারকি নিশ্চিত করা জরুরি। তদন্তে অনিয়ম প্রমাণিত হলে দায়ীদের বিরুদ্ধে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে হবে। একই সঙ্গে অভিযোগের সত্যতা না মিললে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের দায়মুক্তি দেওয়াও প্রয়োজন। জনগণের করের অর্থে পরিচালিত সরকারি স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে মানসম্মত চিকিৎসাসেবা পাওয়া মানুষের অধিকার। তাই সরকারি অর্থের স্বচ্ছ ব্যবহার, কর্মস্থলে দায়িত্বশীলদের উপস্থিতি, প্রয়োজনীয় ওষুধের সরবরাহ এবং জরুরি রোগী পরিবহন নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেবে—এমন প্রত্যাশা রাজস্থলীবাসীর।