প্রকাশ :: ... | ... | ...

অপ্রতিম হত্যায় গ্রেপ্তার ৪ জনের দায় স্বীকার, দ্রুত বিচার শুরুর উদ্যোগ


সংযুক্ত ছবি

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দাবি; তুহিনের কাছ থেকে অপ্রতিমের আইফোন উদ্ধার, ফরেনসিক পরীক্ষা চলছে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক নাহিদা বেগমের ছেলে স্কুলছাত্র ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিম হত্যাকাণ্ডে গ্রেপ্তার চারজন ঘটনার সঙ্গে নিজেদের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তাঁদের মধ্যে প্রধান সন্দেহভাজন তুহিনের কাছ থেকে অপ্রতিমের খোয়া যাওয়া আইফোন উদ্ধার করা হয়েছে। মামলার আলামত ফরেনসিক পরীক্ষার পাশাপাশি আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি নেওয়ার প্রক্রিয়াও চলছে বলে জানিয়েছেন তিনি। রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, অপ্রতিম নিখোঁজ হওয়ার প্রায় ২৪ ঘণ্টার মধ্যে তাঁর মরদেহ উদ্ধার এবং পরবর্তী ১২ ঘণ্টায় হত্যাকাণ্ডে জড়িত সন্দেহে চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। প্রথমে তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হলেও পরে আরও একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের কাছ থেকে ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন আলামত উদ্ধার করা হয়েছে। তাঁদের বয়সও যাচাই করা হচ্ছে। তাঁদের মধ্যে দুজনের বয়স ১৮ বছরের বেশি হলেও একজনের বয়স ১৮ বছরের কম হতে পারে বলে জানান তিনি। জাতীয় পরিচয়পত্রের তথ্য যাচাই চলছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ভাষ্য, গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের সঙ্গে অপ্রতিমের পরিচয় ও নিয়মিত ওঠাবসা ছিল। তাঁদের কয়েকজন অপ্রতিমের চেয়ে পাঁচ থেকে ১০ বছর বয়সে বড়। তাঁদের আচরণ ও কর্মকাণ্ড অনেকটা কিশোর অপরাধী চক্রের মতো বলেও মন্তব্য করেন তিনি। অপ্রতিমের কাছ থেকে নিখোঁজ হওয়া মায়ের আইফোনটি তুহিনের কাছ থেকে উদ্ধারের কথা জানিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, অন্যান্য আলামতেরও ফরেনসিক বিশ্লেষণ চলছে। তিনি বলেন, গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা ঘটনার কথা স্বীকার করেছে। তবে আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি নেওয়ার বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন। তদন্ত শেষ করে দ্রুত চার্জশিট দেওয়ার কথা জানিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, এরপর বিচার বিভাগ মামলাটি গুরুত্বের সঙ্গে নিয়ে দ্রুত বিচার সম্পন্ন করার উদ্যোগ নেবে। এর আগে রোববার সকালে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মাঠে অপ্রতিমের প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। পরে বেলা ১১টায় কোটবাড়ি গন্ধমতি ঈদগাহ ময়দানে দ্বিতীয় জানাজা শেষে পাশের কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়। জানাজায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা-কর্মচারী, স্বজন ও স্থানীয়রা অংশ নেন। প্রিয় শিক্ষক দম্পতির একমাত্র সন্তানকে শেষ বিদায় জানাতে গিয়ে অনেকেই কান্নায় ভেঙে পড়েন। অপ্রতিম কুমিল্লা বর্ডার গার্ড পাবলিক স্কুলের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) দুপুরের পর কোটবাড়ি গন্ধমতি এলাকার বাসা থেকে মায়ের আইফোন নিয়ে বন্ধুদের সঙ্গে ছবি তুলতে বের হয়ে নিখোঁজ হয় সে। পরে তার বাবা সদর দক্ষিণ থানায় জিডি করেন। প্রায় ২১ ঘণ্টা পর শনিবার দুপুরে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়সংলগ্ন লালমাই পাহাড়ঘেঁষা সানন্দা এলাকার একটি জঙ্গল থেকে অপ্রতিমের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ময়নাতদন্তে তাঁর মাথায় গুরুতর আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায় বলে পুলিশ জানিয়েছে। অপ্রতিম হত্যার প্রতিবাদ ও জড়িতদের বিচার দাবিতে রোববার ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ করেন কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। সকাল সাড়ে ১১টার দিকে কোটবাড়ি এলাকায় তাঁরা মহাসড়কে অবস্থান নেন। এতে সড়কের দুই পাশে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যানজটের সৃষ্টি হয়। অপ্রতিমের প্রথম জানাজা শেষে শিক্ষার্থীরা মিছিল নিয়ে ক্যাম্পাস থেকে বের হয়ে মহাসড়কে অবস্থান নেন। তাঁরা হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের সর্বোচ্চ শাস্তি এবং নিরাপদ ক্যাম্পাসের দাবিতে বিভিন্ন স্লোগান দেন। বেলা সাড়ে ১২টা পর্যন্ত তাঁরা মহাসড়কে অবস্থান করছিলেন।