প্রকাশ :: ... | ... | ...

আকরাম-টেটের পরই ইতিহাসের সেরা হাসান মাহমুদ


সংযুক্ত ছবি

অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে প্রথম টেস্টেই বাংলাদেশের পেসার হাসান মাহমুদ এমন এক কীর্তি গড়েছেন, যেখানে তাঁর আগে জায়গা করে নিয়েছেন ক্রিকেটের দুই কিংবদন্তি—ইংল্যান্ডের মরিস টেট ও পাকিস্তানের ওয়াসিম আকরাম। ডারউইনে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে বাংলাদেশের ঐতিহাসিক ৯ উইকেটের জয়ে ম্যাচে ৯ উইকেট নিয়ে হাসান শুধু ম্যাচসেরার পুরস্কারই জেতেননি, অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে অভিষেক টেস্টে সফরকারী বোলারদের সেরা ম্যাচ বোলিংয়ের তালিকায় উঠে এসেছেন তৃতীয় স্থানে। হাসানের ম্যাচ বোলিংয়ের পরিসংখ্যান ৯ উইকেটে ১১১ রান। অস্ট্রেলিয়ায় নিজের প্রথম টেস্টে কোনো সফরকারী পুরুষ বোলারের ম্যাচ বোলিংয়ের হিসাবে তাঁর ওপরে আছেন কেবল মরিস টেট ও ওয়াসিম আকরাম। ১৯২৪ সালে সিডনিতে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে নিজের প্রথম টেস্টে টেট ১১ উইকেট নিয়েছিলেন ২২৮ রান দিয়ে। প্রায় ছয় দশক পর ১৯৯০ সালে মেলবোর্নে ওয়াসিম আকরামও নিজের প্রথম টেস্টে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ১১ উইকেট নেন, তবে তাঁর খরচ ছিল ১৬০ রান। সেই দুই কিংবদন্তির পাশে এবার বাংলাদেশের নাম লিখিয়েছেন হাসান মাহমুদ। অস্ট্রেলিয়ার মতো শক্তিশালী ব্যাটিং লাইনআপের বিপক্ষে দুই ইনিংস মিলিয়ে ৯ উইকেট তাঁর কীর্তিকে আরও তাৎপর্যপূর্ণ করে তুলেছে। ডারউইন টেস্টে হাসানের শুরুটাও ছিল দুর্দান্ত। অস্ট্রেলিয়ার প্রথম ইনিংসে একাই ছয় উইকেট নিয়ে তিনি স্বাগতিকদের বড় স্কোর করার পথ আটকে দেন। দ্বিতীয় ইনিংসেও নিজের কার্যকারিতা ধরে রেখে আরও তিনটি উইকেট শিকার করেন। দুই ইনিংসে তাঁর শিকার নয়জন। বাংলাদেশের বোলিং আক্রমণের সামনে পুরো ম্যাচেই অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটারদের কঠিন পরীক্ষার মুখে পড়তে হয়েছে। তবে হাসানের সাফল্যকে কেবল ব্যক্তিগত দক্ষতার ফল হিসেবে দেখছেন না তিনি নিজেই। ম্যাচের আগে দলের পরিকল্পনা, প্রতিপক্ষের ব্যাটারদের নিয়ে বিশ্লেষণ এবং মাঠে সেই পরিকল্পনা বাস্তবায়ন—সব মিলিয়েই সাফল্য এসেছে বলে মনে করেন এই পেসার। ম্যাচসেরার পুরস্কার পাওয়ার পর হাসান বলেন, ম্যাচের ফল কী হবে, তা নিয়ে না ভেবে অনুশীলনের প্রতিটি মুহূর্তে নিজেদের সেরাটা দেওয়ার চেষ্টা করেছেন তাঁরা। নিজেদের ওপর বিশ্বাস রেখেই মাঠে নামার চেষ্টা ছিল দলের। অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটিং লাইনআপ নিয়েও ছিল বিশেষ প্রস্তুতি। কোচদের সঙ্গে আলোচনা, ভিডিও বিশ্লেষণ এবং নির্দিষ্ট ব্যাটারের বিপক্ষে কীভাবে বোলিং করতে হবে, সে অনুযায়ী পরিকল্পনা সাজিয়েছিল বাংলাদেশ। মাঠে সেই পরিকল্পনা বাস্তবায়নের সময় বোলাররা ধৈর্য ধরে সঠিক লাইন ও লেংথ বজায় রাখার চেষ্টা করেছেন। সেই পরিকল্পনার ফলই পাওয়া গেছে ডারউইনে। অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটিংয়ের গভীরতা এবং নিজেদের মাঠে তাদের দীর্ঘদিনের সাফল্যের পরিসংখ্যান বাংলাদেশের জন্য ম্যাচটির চ্যালেঞ্জ আরও কঠিন করে তুলেছিল। কিন্তু হাসান ও তাঁর সতীর্থরা শুরু থেকেই চাপ ধরে রাখতে পেরেছেন। এই জয় বাংলাদেশের টেস্ট ক্রিকেটের জন্যও বিশেষ তাৎপর্যের। অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে স্বাগতিকদের হারানো যে কোনো দলের জন্যই কঠিন চ্যালেঞ্জ। সেখানে প্রথম টেস্ট খেলতে নেমে একজন বাংলাদেশি পেসারের এমন পারফরম্যান্স নিঃসন্দেহে আলাদা করে আলোচনার দাবি রাখে। হাসানের জন্য সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি অবশ্য কিংবদন্তিদের তালিকায় জায়গা করে নেওয়া। এক শতাব্দীরও বেশি সময়ের ইতিহাসে অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে প্রথম টেস্টে সফরকারী বোলারদের সেরা ম্যাচ বোলিংয়ের তালিকায় টেট ও আকরামের পর তাঁর অবস্থান বাংলাদেশের ক্রিকেটের জন্যও গর্বের। আর ব্যক্তিগত অর্জনের বাইরে হাসানের কথায় উঠে এসেছে দেশের মানুষের প্রতি তাঁর আবেগ। ম্যাচসেরার পুরস্কার হাতে নিয়ে তিনি বলেছেন, দেশের মানুষ তাঁর এই সাফল্যে খুশি হবে, উদযাপন করবে। ডারউইনে তাই শুধু অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে একটি ঐতিহাসিক জয়ই পায়নি বাংলাদেশ। এই জয়ের মধ্য দিয়ে হাসান মাহমুদও নিজের জন্য লিখেছেন একটি বিশেষ অধ্যায়—যেখানে তাঁর আগে ছিলেন মরিস টেট ও ওয়াসিম আকরামের মতো কিংবদন্তিরা।