রাজধানীর ইডেন মহিলা কলেজে ছাত্ররাজনীতি নিষিদ্ধের দাবিতে যে বিক্ষোভ হয়েছে, তাতে জামায়াতের ছাত্রী সংগঠন ছাত্রীসংস্থার যোগ দেখছে ছাত্রদল। বিএনপির ছাত্র সংগঠনটি বলছে, ছাত্রীসংস্থার ‘গুপ্ত কর্মীদের ইন্ধনে মব সৃষ্টি করে’ ছাত্রদলের নেত্রীদের হেনস্তা করা হচ্ছে। তবে জামায়াতের ছাত্র সংগঠন ছাত্রশিবিরের ভাষ্য, ছাত্রদল ‘পুরনো পন্থায়’ ছাত্ররাজনীতিকে ‘কলুষিত’ করেছে, ফলে ‘ভীতসন্ত্রস্ত্র’ শিক্ষার্থীরা রাজনীতির বিরুদ্ধে স্লোগান তুলছে। ক্যাম্পাসে ছাত্ররাজনীতি নিষিদ্ধের দাবিতে শনিবার রাত ১১টার দিকে ইডেন কলেজের প্রধান ফটকের তালা ভেঙে বাইরে বের হয়ে আসেন একদল শিক্ষার্থী। এসময় ছাত্রদলের এক পদপ্রত্যাশীর টানানো ব্যানার ছিঁড়ে আগুন দেওয়ার চেষ্টা করা হয়। তারা স্লোগান তোলেন ‘ছাত্ররাজনীতির ঠিকানা, এই ইডেনে হবে না’। এ ঘটনায় রাতেই ফেসবুকে ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছির লেখেন, “কিছুদিন আগে তিতুমীর কলেজে রাতের বেলা গেট ভেঙে মব সৃষ্টি করেছিল ছাত্রীসংস্থার কর্মীরা। তারা ছাত্রদলের নেত্রীদের হেনস্তা করেছে। ওই ক্যাম্পাসে পাঁচ আগস্টের পরে ছাত্ররাজনীতি নিষিদ্ধের দাবিতে আন্দোলন করা মুনতাসীর পরবর্তীতে কলেজ শাখা শিবিরের সেক্রেটারি হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে। ইবলিসও লজ্জা পাবে এই সাধারণ শিক্ষার্থী বেশধারী গুপ্ত শিবিরকে দেখলে।” নাছির পোস্টে বলেন, “আজ একইভাবে ছাত্রীসংস্থার গুপ্ত কর্মীদের ইন্ধনে ইডেন কলেজে মব সৃষ্টি করে ছাত্রদলের নেত্রীদের এবং অন্যান্য রাজনৈতিক সংগঠনের নেতাকর্মীদের হেনস্তা করা হচ্ছে। ছাত্রীদের হল থেকে বের করে দেওয়া হচ্ছে। গুপ্ত বাহিনী অবিলম্বে এই মব সন্ত্রাস ও ছাত্রদলের নেত্রীদের হয়রানি করা বন্ধ না করলে আমরা সব ধরনের মবসন্ত্রাসের বিরুদ্ধে কঠোর প্রতিরোধ গড়ে তুলব।” এর প্রতিক্রিয়ায় ফেসবুকে কয়েকটি ‘পত্রিকার কাটিং’ জুড়ে দিয়ে ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় প্রচার সম্পাদক ও ডাকসুর সাধারণ সম্পাদক এস এম ফরহাদ লিখেছেন, “ছাত্রদলের পুরোনো এই আমলনামা ইডেনের শিক্ষার্থীদের কাছে নিশ্চয়ই জানা আছে। “জুলাই গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী সময়ে ছাত্রদল নিজেদেরকে সংশোধন না করে বরং ঠিক তাদের পুরোনো পন্থায় রাজনীতি করে আবারও দেশের নানা জায়গায় সাংগঠনিক স্ট্রাকচার তৈরি করে চাঁদাবাজি করেছে, খুন-ধর্ষণসহ সকল প্রকার অপরাধে জড়িয়ে পুরো ছাত্ররাজনীতিকে কলুষিত করেছে। ফলে ভীতসন্ত্রস্ত শিক্ষার্থীরা ক্যাম্পাসে ক্যাম্পাসে রাজনীতির বিরুদ্ধে স্লোগান তুলছে। ছাত্রদলের প্রতি অনুরোধ, শিক্ষার্থীদের দাস বানানোর প্রকল্প থেকে সরে আসুন। দলকে নতুন করে সাজান, সাংগঠনিক কর্মসূচিগুলো শিক্ষার্থীদের কল্যাণে নতুনরূপে সাজান। সময় পেরিয়ে গেলে আর সুযোগ পাবেন না।” ইডেনের ঘটনায় ব্যবস্থা নিতে কলেজ প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানিয়ে ছাত্রদল নেতা নাছির বলেছেন, “কলেজ প্রশাসনের কাছে দাবি জানাচ্ছি, আপনারা সবার রাজনৈতিক অধিকার ও সুরক্ষা নিশ্চিত করুন। আপনারা শিবিরের কূটচালের সামনে মাথা নত করবেন না। ধোঁকাবাজির শিকার হবেন না। অন্যথায়, সমগ্র দেশ থেকে গুপ্ত রাজনীতির অবসান ঘটানো হবে। সকল শিক্ষার্থীর রাজনৈতিক অধিকার নিশ্চিত করার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।” ছাত্ররাজনীতিতে অংশগ্রহণের সুযোগ, ক্যাম্পাসে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা, রাজনৈতিক মতপ্রকাশের স্বাধীনতা একজন শিক্ষার্থীর মৌলিক অধিকার মন্তব্য করে তিনি এও বলেছেন, “এর আগে আমরা দেখেছি, গুপ্ত সংগঠন শিবির তাদের গুপ্ত শাখার কর্মীদের লেলিয়ে দিয়ে ছাত্ররাজনীতি বন্ধ করার জন্য মব সৃষ্টি করেছিল বিভিন্ন ক্যাম্পাসে। যারা এই মবের নেতৃত্ব দিয়েছে পরবর্তীতে তারাই গুপ্ত সংগঠনের শীর্ষ নেতা হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে। শিবির গুপ্ত রাজনীতির করে ছাত্ররাজনীতিকে দুর্গন্ধময় করে ফেলেছে।” ছাত্রদলের অভিযোগের বিষয়ে ছাত্রী সংস্থার বক্তব্য জানার চেষ্টা করছে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম। সূত্র : বিডিনিউজ