প্রকাশ :: ... | ... | ...

উচ্চশিক্ষা ও উচ্চ আদালতে বাংলার ব্যবহার নিশ্চিত করার দাবি চরমোনাই পীরের


সংযুক্ত ছবি

১৯৪৭ সালের স্বাধীনতার পর রাষ্ট্রভাষা প্রশ্নে যে রাজনৈতিক অস্থিরতা তৈরি হয়েছিল, ১৯৫২ সালের একুশে ফেব্রুয়ারিতে তার নির্মম ও চূড়ান্ত রূপ দেখা যায় বলে মন্তব্য করছেন চরমোনাই পীর ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ রেজাউল করীম। শুক্রবার (২০ ফেব্রুয়ারি) আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে এক বিবৃতিতে তিনি ভাষা আন্দোলনের শহিদদের গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করতে গিয়ে এ মন্তব্য করেন। বিবৃতিতে তিনি বলেন, একটি স্বাধীন রাষ্ট্রে নিজের মাতৃভাষাকে রাষ্ট্রভাষা হিসেবে প্রতিষ্ঠার দাবিতে আন্দোলন করতে বাধ্য হওয়া এবং সেই আন্দোলনে গুলি চালিয়ে প্রাণহানি ঘটানো ইতিহাসের এক কলঙ্কজনক অধ্যায়। তিনি বলেন, পাকিস্তান আমলে রাষ্ট্র পরিচালনায় তৎকালীন শাসকগোষ্ঠীর স্বেচ্ছাচারিতা ও বৈষম্যমূলক নীতির কারণে বাঙালিকে তার ভাষার অধিকার আদায়ে রক্ত দিতে হয়েছে। এই নির্মম ঘটনার শিকার হন রফিক, আব্দুল জব্বার, বরকত ও আব্দুস সালামসহ আরও অনেকে। তাদের আত্মত্যাগের মধ্য দিয়েই বাংলা রাষ্ট্রভাষার মর্যাদা অর্জন করে। পীর সাহেব চরমোনাই বলেন, ভাষা আন্দোলনের প্রায় পৌনে এক শতাব্দী অতিক্রান্ত হতে চললেও দেশের উচ্চশিক্ষা ও উচ্চ আদালতে এখনো বাংলা পূর্ণ মর্যাদা পায়নি। প্রশাসন, বিচারব্যবস্থা ও উচ্চশিক্ষার বহু ক্ষেত্রে ইংরেজির প্রাধান্য অব্যাহত রয়েছে, যা ভাষা শহিদদের আত্মত্যাগের চেতনার সঙ্গে সাংঘর্ষিক। তিনি মন্তব্য করেন, ভাষা শহিদদের প্রতি এর চেয়ে বড় অবজ্ঞা আর কিছু হতে পারে না। তিনি এবারের আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসে উচ্চ আদালত ও বিশ্ববিদ্যালয়সহ উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বাংলার পূর্ণাঙ্গ ব্যবহার নিশ্চিত করার জোর দাবি জানান। পাশাপাশি ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর ভাষার বিকাশ, চর্চা ও সংরক্ষণে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণের আহ্বান জানান। তার মতে, ভাষাগত বৈচিত্র্য রক্ষা করা সাংস্কৃতিক স্বাধীনতার গুরুত্বপূর্ণ অংশ। বিবৃতির শেষে তিনি ভাষা আন্দোলনে অংশগ্রহণকারী সকল শহিদ ও সংগ্রামীদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করেন এবং তাদের রুহের মাগফিরাত কামনা করেন।