প্রকাশ :: ... | ... | ...

উচ্ছেদ হওয়া হকারদের দ্রুত পুনর্বাসনের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর


সংযুক্ত ছবি

রাজধানী ঢাকার সড়ক থেকে উচ্ছেদ হওয়া হকারদের দ্রুত পুনর্বাসনের নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। শনিবার (২৫ এপ্রিল) দুপুরে তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে এ নির্দেশ দেন তিনি। বৈঠকে স্থানীয় সরকার বিভাগ, ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশন, রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক) ও ডিএমপির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। এ সময় সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও প্রতিষ্ঠানের সমন্বয়ে দ্রুত বিকল্প স্থান নির্ধারণ করার নির্দেশ দেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, উচ্ছেদ হওয়া হকারদের এমন জায়গায় পুনর্বাসন করতে হবে, যেখানে তারা স্বাচ্ছন্দ্য ও উৎসাহের সঙ্গে ব্যবসা করতে পারবেন। সম্প্রতি ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের মিরপুর-১ এলাকা এবং ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মতিঝিল, বায়তুল মোকাররম, পল্টন ও গুলিস্তানসহ কয়েকটি এলাকার সড়ক থেকে কয়েক শতাধিক দোকান উচ্ছেদ করা হয়। বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়েছে, উচ্ছেদ হওয়া হকারদের বিকল্প জায়গা ব্যবস্থা করে দেবে সরকার। পাশাপাশি নিবন্ধনের মাধ্যমে হকারদের পরিচয়পত্র দেয়া হবে, যাতে তাদের কার্যক্রম সুশৃঙ্খলভাবে পরিচালনা করা যায়। এ ছাড়াও স্কুল-কলেজে ক্লাস শুরু ও শেষের সময় সড়কে যানজট কমাতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার তাগিদ দেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সামনে অনিয়ন্ত্রিত গাড়ি পার্কিংয়ের কারণে যানজট তৈরি হয়। এ সমস্যা সমাধানে সংশ্লিষ্ট শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর নিজস্ব মাঠের একটি অংশ গাড়ি পার্কিংয়ের জন্য ব্যবহার করা যেতে পারে। ৬ মাঠে অস্থায়ী মার্কেট তৈরি করবে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন রাজধানীর ফুটপাত দখলমুক্ত করতে হকারদের জন্য ৬টি খোলা মাঠে অস্থায়ী মার্কেট গড়ে তোলার পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) প্রশাসক শফিকুল ইসলাম খান। তিনি জানান, নির্ধারিত এসব স্থানে হকারদের নিবন্ধনের মাধ্যমে বসানো হবে এবং একটি নির্দিষ্ট ফি আদায়ের মাধ্যমে সেই অর্থ দিয়ে জায়গাগুলো রক্ষণাবেক্ষণ করা হবে। শনিবার সকালে গুলশানের একটি হোটেলে 'ঢাকা কি মৃত নগরী হতে যাচ্ছে' শীর্ষক এক আলোচনা সভায় তিনি এসব তথ্য তুলে ধরেন। নগর উন্নয়ন সাংবাদিক ফোরাম বাংলাদেশ এই সভার আয়োজন করে। শফিকুল ইসলাম খান বলেন, 'ফুটপাতে আগে যেখানে ২০০ হকার ছিল, এখন তা বেড়ে প্রায় দুই হাজারে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে জনদুর্ভোগ এখন চরমে। এমনকি হাসপাতালের সামনে ঠিকমতো অ্যাম্বুলেন্স পর্যন্ত চলতে পারছে না। মাত্র দুই শতাংশ মানুষের জন্য ৯৮ শতাংশ মানুষকে চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। হকারদের জন্য নির্ধারিত ওই জায়গাগুলোতে কোনো স্থায়ী স্থাপনা করা যাবে না। তারা চৌকি বা ট্রলির মাধ্যমে ব্যবসা করবেন এবং দিনের শেষে সব কিছু সরিয়ে নিয়ে যাবেন। এতে করে ফুটপাতগুলো সাধারণ মানুষের চলাচলের জন্য উন্মুক্ত রাখা সম্ভব হবে।' নগর ব্যবস্থাপনায় দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার প্রয়োজনীয়তা উল্লেখ করে ডিএনসিসি প্রশাসক বলেন, 'আমরা যা করি, তার অধিকাংশই সাময়িক। দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা ছাড়া কোনো টেকসই সমাধান সম্ভব নয়।' তিনি সিটি করপোরেশন, ওয়াসা, গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংস্থাগুলোকে একটি মাত্র কেন্দ্রীয় কর্তৃপক্ষের অধীনে এনে সমন্বিতভাবে কাজ করার প্রস্তাব দেন। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে রাজউক চেয়ারম্যান মো. রিয়াজুল ইসলাম বলেন, সব সেবা সংস্থাকে একই ছাতার নিচে আনতে পারলে কাজের সমন্বয়হীনতা কমবে এবং নাগরিক সেবার মান বাড়বে। সঠিক তথ্যের অভাবেই অনেক সময় পরিকল্পনাগুলো যথাযথভাবে বাস্তবায়ন করা যাচ্ছে না। রাজউক চেয়ারম্যান আরও জানান, রাজধানীর যানজট নিরসনে পার্কিং স্পেস উদ্ধারে কাজ চলছে। এ সময় তিনি গণপরিবহন ব্যবস্থার উন্নতির বিষয়ে গুরুত্বারোপ করেন। পাশাপাশি পূর্বাচল প্রকল্পকে সক্রিয় করার পরিকল্পনাও নেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি। স্থপতি সুজাউল ইসলাম খান সমালোচনা করে বলেন, 'শুধু কাগজে পরিকল্পনা থাকলে হবে না, তা বাস্তবায়ন করতে হবে। রাজধানীর অধিকাংশ সুবিধা গুলশান-বনানীর মতো অভিজাত ৫ শতাংশ মানুষের জন্য সীমাবদ্ধ, অথচ কড়াইল বস্তির মতো এলাকায় সেই সুবিধা পৌঁছায়নি।' ঢাকা ওয়াসার অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী আলমগীর হাছিন আহমেদ জানান, নগরীর বিভিন্ন স্থানে ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট নির্মাণাধীন থাকলেও প্রশাসনিক জটিলতার কারণে কাজ ব্যাহত হচ্ছে।