প্রকাশ :: ... | ... | ...

উত্তর কোরিয়া কোচের ভাবনায় ঋতুপর্ণা চাকমা


সংযুক্ত ছবি

এশিয়ান কাপে বাংলাদেশের বিপক্ষে ম্যাচের আগে প্রতিপক্ষ দল নিয়ে অকপট মন্তব্য করেছেন উত্তর কোরিয়ার কোচ রি সং হো। চীনের বিপক্ষে বাংলাদেশের লড়াকু পারফরম্যান্স দেখার পর তার আগের ধারণা বদলে গেছে বলে জানিয়েছেন তিনি। উত্তর কোরিয়া কোচের মতে, তার প্রত্যাশার তুলনায় বাংলাদেশ দল অনেক বেশি শক্তিশালী এবং দ্রুতগতির ফুটবল খেলে। শুক্রবার উইমেনস এশিয়ান কাপের গ্রুপ পর্বে মুখোমুখি হবে বাংলাদেশ ও উত্তর কোরিয়া। তিনটি গ্রুপ থেকে চ্যাম্পিয়ন ও রানার্সআপের পাশাপাশি তৃতীয় স্থানে থাকা সেরা দুই দল উঠবে কোয়ার্টার ফাইনালে। ফলে প্রতিটি ম্যাচই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে দলগুলোর জন্য। প্রথম ম্যাচে উজবেকিস্তানকে ৩–০ গোলে হারিয়ে আত্মবিশ্বাসী অবস্থানেই দ্বিতীয় ম্যাচে নামছে উত্তর কোরিয়া। সেই জয়ের ফলে শেষ আটে ওঠার সম্ভাবনাও বেশ জোরালো হয়েছে তাদের। তবে শক্তিশালী এই দলের কোচ রি সং হো বাংলাদেশের বিপক্ষে ম্যাচটিকে মোটেই সহজভাবে নিচ্ছেন না। ম্যাচপূর্ব সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, প্রথম ম্যাচে জয় পাওয়ায় দল আত্মবিশ্বাসী থাকলেও সামনে আরও গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচ অপেক্ষা করছে। তাই পুরো মনোযোগ এখন বাংলাদেশের বিপক্ষেই। তিনি বলেন, “প্রথম ম্যাচটি আমরা সফলভাবে শেষ করেছি এবং সেখানে জয় পেয়েছি। এখন আমরা দ্বিতীয় ও তৃতীয় ম্যাচের মুখোমুখি হচ্ছি, যা আমাদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্রতিটি ম্যাচই আমাদের জন্য বড় সুযোগ। তাই আমরা এখন পুরোপুরি আগামীকালের ম্যাচের প্রস্তুতির দিকেই মনোযোগ দিচ্ছি।” বাংলাদেশ দল নিয়ে নিজের মূল্যায়ন জানাতে গিয়ে রি সং হো বলেন, চীনের বিপক্ষে বাংলাদেশের পারফরম্যান্স তাকে নতুন করে ভাবতে বাধ্য করেছে। তার মতে, বাংলাদেশের খেলোয়াড়রা আক্রমণে দ্রুতগতি এবং রক্ষণ থেকে আক্রমণে যাওয়ার ক্ষেত্রে বেশ দক্ষ। তিনি বলেন, “এখানে এসে আমি চীন ও বাংলাদেশের ম্যাচটি দেখেছি। ম্যাচটি দেখে আমার মনে হয়েছে বাংলাদেশ দল আমি যতটা ভেবেছিলাম তার চেয়ে অনেক বেশি শক্তিশালী। উদাহরণ হিসেবে বলতে পারি, তাদের আক্রমণভাগ খুব দ্রুত এবং রক্ষণ থেকে আক্রমণে যাওয়ার গতি ও দক্ষতা বেশ তীক্ষ্ণ। তারা খুব দ্রুতগতির একটি দল।” বাংলাদেশের আক্রমণভাগের কয়েকজন খেলোয়াড়কে বিশেষভাবে বিপজ্জনক বলেও উল্লেখ করেন উত্তর কোরিয়ার কোচ। বিশেষ করে তরুণ ফরোয়ার্ড ঋতুপর্ণা চাকমার পারফরম্যান্স তার নজর কেড়েছে। চীনের বিপক্ষে দূরপাল্লার একটি শক্তিশালী শট নিয়েছিলেন ঋতুপর্ণা। যদিও সেটি গোল হয়নি, তবু সেই প্রচেষ্টা উত্তর কোরিয়ার কোচের চোখে পড়েছে। তিনি মনে করেন, বাংলাদেশের আক্রমণভাগকে সামাল দিতে হলে তার দলের রক্ষণভাগকে বাড়তি সতর্ক থাকতে হবে। রি সং হো বলেন, “আমি বিশেষ করে তাদের আক্রমণভাগের তিনজন খেলোয়াড়কে বিপজ্জনক মনে করি। এর মধ্যে ১৭ নম্বর জার্সিধারী খেলোয়াড়—ঋতুপর্ণা চাকমা—আমাদের জন্য বড় হুমকি হতে পারে। তিনি বাম প্রান্ত দিয়ে খুব দ্রুত আক্রমণ করতে পারেন। আক্রমণ ও রক্ষণ—দুই ক্ষেত্রেই তাদের গতি আমাদের ভাবিয়ে তুলছে।” তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশের আক্রমণভাগকে সুযোগ দিলে তারা বিপদ তৈরি করতে পারে। তাই ম্যাচে তাদের থামাতে হলে উত্তর কোরিয়ার রক্ষণভাগকে খুব মনোযোগী থাকতে হবে। বাংলাদেশের ফুটবলের সামগ্রিক উন্নয়ন নিয়েও ইতিবাচক মন্তব্য করেছেন উত্তর কোরিয়ার কোচ। তার মতে, কয়েক বছর আগেও পূর্ব এশিয়ার তুলনায় দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার ফুটবল অনেকটাই পিছিয়ে ছিল। কিন্তু এখন পরিস্থিতি দ্রুত বদলাচ্ছে। তিনি বলেন, “কয়েক বছর আগে দক্ষিণ বা দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার ফুটবলের মান পূর্ব এশিয়ার তুলনায় অনেক নিচে ছিল। কিন্তু এখন আমি দেখতে পাচ্ছি বাংলাদেশসহ এই অঞ্চলের দলগুলো খুব দ্রুত উন্নতি করছে। গতকালের ম্যাচ দেখে আমার মনে হয়েছে বাংলাদেশ অনেক বড় অগ্রগতি করেছে।” রি সং হোর মতে, সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশের নারী ফুটবল দল নিজেদের সামর্থ্যের প্রমাণ দিচ্ছে এবং এশিয়ার ফুটবলে ধীরে ধীরে শক্ত অবস্থান তৈরি করছে। এশিয়ার নারী ফুটবলের ঐতিহ্যবাহী দল উত্তর কোরিয়া তিনবার এশিয়ান কাপ জিতেছে। সবশেষ তারা শিরোপা জিতেছিল ২০০৮ সালে এবং ২০১০ সালে হয়েছিল রানার্সআপ। তবে নিষেধাজ্ঞা, বাছাইপর্ব পেরোতে না পারা ও স্বেচ্ছা প্রত্যাহারের কারণে গত তিন আসরে তারা অংশ নেয়নি। দীর্ঘ ১৫ বছর পর আবার এশিয়ান কাপে ফিরেছে উত্তর কোরিয়া। বর্তমানে ফিফা নারী ফুটবল র‍্যাঙ্কিংয়ে তাদের অবস্থান নবম এবং এশিয়ায় দ্বিতীয়। অন্যদিকে বাংলাদেশের জন্য এটি এশিয়ান কাপে প্রথম অংশগ্রহণ। তবু অভিষেক আসরেই শক্তিশালী প্রতিপক্ষের বিপক্ষে লড়াই করে প্রশংসা কুড়িয়েছে পিটার বাটলারের শিষ্যরা। আর সেই পারফরম্যান্সই বদলে দিয়েছে প্রতিপক্ষ কোচের ধারণা—বাংলাদেশকে আর হালকাভাবে নেওয়ার সুযোগ নেই বলেই মনে করছেন তিনি।