প্রকাশ :: ... | ... | ...

এক আসামির স্থগিতাদেশে টিউলিপদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন পিছিয়ে ১১ জানুয়ারি


সংযুক্ত ছবি

রাজধানীর গুলশানে ‘ঘুষ হিসেবে’ ফ্ল্যাট নেওয়ার অভিযোগে করা দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) মামলায় ব্রিটিশ এমপি টিউলিপ রিজওয়ানা সিদ্দিকসহ দুই আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন আবার পিছিয়ে গেছে। মামলার এক আসামির বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতের দেওয়া বিচারিক কার্যক্রম স্থগিতাদেশের কারণে মঙ্গলবার অভিযোগ গঠনের শুনানি হয়নি। ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৫ পরবর্তী শুনানির জন্য আগামী বছরের ১১ জানুয়ারি দিন রেখেছেন। মামলার অন্য আসামি রাজউকের সাবেক সহকারী আইন উপদেষ্টা সরদার মোশাররফ হোসেন উচ্চ আদালত থেকে মামলার কার্যক্রমে স্থগিতাদেশ পেয়েছেন বলে আদালতকে জানান তাঁর আইনজীবী। এরপর অভিযোগ গঠনের শুনানি পিছিয়ে দেওয়া হয় বলে আদালত সূত্র জানিয়েছে। দুদকের আইনজীবী মীর আহম্মেদ আলী সালাম বলেন, মামলার কার্যক্রমে দেওয়া স্থগিতাদেশ প্রত্যাহারের জন্য উচ্চ আদালতে আবেদন করা হবে। তাঁর ভাষ্য, স্থগিতাদেশ বহাল থাকায় মামলার বিচারিক কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়া যাচ্ছে না। গত ৭ জুলাই উচ্চ আদালত সরদার মোশাররফ হোসেনের বিরুদ্ধে মামলার কার্যক্রম স্থগিতের আদেশ দেন বলে দুদকের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। ইস্টার্ন হাউজিং লিমিটেডের কাছ থেকে ‘ঘুষ হিসেবে’ ফ্ল্যাট নেওয়ার অভিযোগে গত বছরের ১৫ এপ্রিল টিউলিপ সিদ্দিক, রাজউকের সাবেক সহকারী আইন উপদেষ্টা শাহ মো. খসরুজ্জামান এবং সরদার মোশাররফ হোসেনের বিরুদ্ধে মামলা করে দুদক। মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, গুলশানের একটি সরকারি লিজের প্লটের মালিকানা, বিভাজন ও হস্তান্তর নিয়ে নানা অনিয়মের ঘটনা ঘটে। দুদকের দাবি, ৯৯ বছরের লিজের শর্ত থাকা সত্ত্বেও প্লটটি হস্তান্তর ও বিভাজনের ক্ষেত্রে নিয়ম ভাঙা হয়েছিল। পরে ওই জমিতে ভবন নির্মাণ করে ৩৬টি ফ্ল্যাট বিক্রি বা হস্তান্তর করা হয়। দুদকের ভাষ্য, ইস্টার্ন হাউজিং লিমিটেড ওই প্লটের আইনগত মালিক না হলেও রাজউকের তৎকালীন আইন উপদেষ্টাদের মাধ্যমে ‘অসত্য তথ্যের ভিত্তিতে’ ফ্ল্যাট হস্তান্তরের অনুমোদন নেওয়া হয়। অভিযোগে বলা হয়েছে, এই প্রক্রিয়ায় ভূমিকা রাখার বিনিময়ে টিউলিপ সিদ্দিক ‘অবৈধ পারিতোষিক হিসেবে’ বিনা মূল্যে একটি ফ্ল্যাট নেন। দুদক একটি চিঠির তথ্যের উল্লেখ করে বলেছে, সেখানে ‘রিজওয়ানা সিদ্দিক টিউলিপ’-কে বিনামূল্যে ফ্ল্যাট দেওয়ার কথা উল্লেখ ছিল। টিউলিপের খালা শেখ হাসিনা তখন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী ছিলেন বলেও মামলার অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। দুদকের দাবি, প্রভাব খাটিয়ে ইস্টার্ন হাউজিংকে প্রয়োজনীয় সুবিধা পাইয়ে দেওয়ার ক্ষেত্রে টিউলিপ ভূমিকা রেখেছিলেন। এক আসামির তদন্তও আগে স্থগিত হয়েছিল মামলা হওয়ার পর অপর আসামি শাহ মো. খসরুজ্জামান তদন্ত স্থগিত চেয়ে উচ্চ আদালতে রিট করেন। তাঁর বিষয়ে উচ্চ আদালত তিন মাসের জন্য তদন্ত স্থগিত করেছিলেন। এরপর তাঁকে বাদ দিয়ে বাকি দুই আসামির বিরুদ্ধে তদন্ত শেষ করে গত ১৩ জানুয়ারি আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন দুদকের সহকারী পরিচালক এ কে এম মর্তুজা আলী সাগর। অভিযোগপত্র আমলে নিয়ে গত ১৮ ফেব্রুয়ারি টিউলিপ ও সরদার মোশাররফ হোসেনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন আদালত। পরে টিউলিপ সিদ্দিককে গ্রেপ্তারের জন্য ইন্টারপোলের মাধ্যমে রেড নোটিস জারির পদক্ষেপ নিতে তদন্ত কর্মকর্তার আবেদন মঞ্জুর করেন আদালত। আসামিদের আদালতে হাজির হওয়ার জন্য গেজেটও প্রকাশ করা হয়। বিচারের জন্য প্রস্তুত হওয়ায় মামলাটি গত ৮ এপ্রিল ঢাকার পঞ্চম বিশেষ জজ আদালতে পাঠানো হয়। এরপর কয়েক দফা শুনানির পরও এখনো অভিযোগ গঠনের পর্যায়ে মামলাটি আটকে আছে। শুরু থেকে অভিযোগ অস্বীকার টিউলিপের টিউলিপ সিদ্দিক বরাবরই তাঁর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অস্বীকার করে আসছেন। তাঁর দাবি, খালা শেখ হাসিনার প্রতি রাজনৈতিক প্রতিহিংসার অংশ হিসেবেই তাঁর বিরুদ্ধে ‘মিথ্যা ও বানোয়াট’ মামলা করা হয়েছে। গণঅভ্যুত্থানে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর টিউলিপকে ঘিরে একাধিক দুর্নীতির অভিযোগ সামনে আসে। লন্ডনে একটি ফ্ল্যাট পাওয়া নিয়ে বিতর্কের মুখে গত জানুয়ারিতে যুক্তরাজ্যের প্রতিমন্ত্রীর পদ থেকেও পদত্যাগ করেন তিনি। এর আগে পূর্বাচলে প্লট বরাদ্দে জালিয়াতির অভিযোগে করা তিনটি পৃথক মামলায় টিউলিপের দুই বছর করে মোট ছয় বছরের কারাদণ্ড হয়েছে। গুলশানের ফ্ল্যাটসংক্রান্ত মামলায় এখন উচ্চ আদালতের স্থগিতাদেশ প্রত্যাহার না হওয়া পর্যন্ত অভিযোগ গঠনের প্রক্রিয়া কার্যত অনিশ্চয়তায় থাকছে। আগামী ১১ জানুয়ারি পরবর্তী তারিখে মামলাটির অগ্রগতি কোন দিকে যায়, সেদিকেই নজর থাকবে।