প্রকাশ :: ... | ... | ...

ডিএমপির সাবেক অতিরিক্ত কমিশনার হারুন হারুন বরখাস্ত, একযোগে বদলি ৬ কর্মকর্তা


সংযুক্ত ছবি

ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) সাবেক অতিরিক্ত কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশনস) মোহাম্মদ হারুন অর রশিদকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করেছে সরকার। দীর্ঘদিন অনুমতি ছাড়া কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকার দায়ে তাঁকে বরখাস্ত করা হয়েছে। একই দিনে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ও সহকারী পুলিশ সুপার পদমর্যাদার ছয় কর্মকর্তাকে বদলি ও পদায়ন করা হয়েছে। শনিবার (৩১ অক্টোবর) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জারি করা প্রজ্ঞাপনে হারুন অর রশিদের বরখাস্তের কথা জানানো হয়। এতে বলা হয়েছে, তাঁর বরখাস্তের আদেশ ২০২৪ সালের ৬ আগস্ট থেকে কার্যকর হবে। এর আগে ২০২৫ সালের ১৮ আগস্ট হারুন অর রশিদকে সাময়িক বরখাস্ত করেছিল সরকার। ওই সময় তাঁর সঙ্গে পুলিশের আরও ১৭ কর্মকর্তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, মোহাম্মদ হারুন অর রশীদ (বিপি-৭৪০১১১৯৭৫৩) ডিআইজি পদমর্যাদার কর্মকর্তা। তিনি ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশনস) হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়াই কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকেন। তার বর্তমান ও স্থায়ী ঠিকানা এবং ই-মেইল ঠিকানায় একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও তিনি কর্মস্থলে যোগ দেননি। এ ঘটনায় তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেয়ার জন্য পুলিশ অধিদপ্তর থেকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে চিঠি পাঠানো হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে ২০২৬ সালের ১৫ এপ্রিল তার বিরুদ্ধে ০০৫/২০২৫ নম্বর বিভাগীয় মামলা করা হয়। অভিযোগের বিষয়ে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেয়া হলেও তিনি কোনো লিখিত জবাব দেননি। এমনকি সময় বাড়ানোর আবেদনও করেননি। প্রজ্ঞাপনে আরও বলা হয়, অভিযোগের গুরুত্ব বিবেচনায় গত ২২ জুন তদন্তকারী কর্মকর্তা নিয়োগ করা হয়। তদন্ত শেষে ৬ আগস্ট দাখিল করা প্রতিবেদনে তার বিরুদ্ধে সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮-এর ৩(গ) বিধি অনুযায়ী ‘পলায়ন’-এর অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়। এরপর গত ২০ আগস্ট তাকে দ্বিতীয় দফায় কারণ দর্শানোর নোটিশ দেয়া হয়। তবে এবারও তিনি কোনো জবাব দেননি। পরে তাকে চাকরি থেকে বরখাস্তের গুরুদণ্ড দেয়ার বিষয়ে বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশনের (পিএসসি) পরামর্শ চাওয়া হয়। কমিশন গত ১ অক্টোবর তাকে চাকরি থেকে বরখাস্তের পক্ষে মতামত দেয়। প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, বিভাগীয় মামলার নথিপত্র, তদন্ত প্রতিবেদন ও সরকারি কর্ম কমিশনের পরামর্শ পর্যালোচনা করে তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় চাকরি থেকে বরখাস্তের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। গত ২৫ অক্টোবর রাষ্ট্রপতি এ সিদ্ধান্ত অনুমোদন করেন। এদিকে পুলিশ সদর দপ্তরের পার্সোনাল ম্যানেজমেন্ট-১ শাখা থেকে শনিবার ছয় কর্মকর্তার বদলি ও পদায়নের প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে। এতে স্বাক্ষর করেছেন পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকির। প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, খুলনার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার এস এম আল-বেরুনীকে পুলিশ সদর দপ্তরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার হিসেবে বদলি করা হয়েছে। পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. হান্নানুল ইসলামকে শিল্পাঞ্চল পুলিশে এবং একই সংস্থার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ফারজানা ইমরোজকে ট্যুরিস্ট পুলিশে পদায়ন করা হয়েছে। এ ছাড়া আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের (এপিবিএন) অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তয়াছিল জাহান বাবুকে খুলনার পুলিশ ট্রেনিং সেন্টারের (পিটিসি) অতিরিক্ত পুলিশ সুপার করা হয়েছে। লক্ষ্মীপুরের রামগতি সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার মো. শামসুল আলমকে রাজশাহীর গোদাগাড়ী সার্কেলে এবং এসআরবির সহকারী পুলিশ সুপার মো. আলী আর্শাদকে ঢাকার পুলিশ স্টাফ কলেজে বদলি ও পদায়ন করা হয়েছে। প্রজ্ঞাপনে বদলিকৃত কর্মকর্তাদের আগামী ৯ নভেম্বরের মধ্যে বর্তমান কর্মস্থলের দায়িত্বভার হস্তান্তর করে নতুন কর্মস্থলে যোগ দিতে বলা হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে যোগদান না করলে ১০ নভেম্বর থেকে তাঁদের তাৎক্ষণিক অবমুক্ত (স্ট্যান্ড রিলিজ) বলে গণ্য করা হবে।