আন্দোলন দমনে রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত, উসকানি ও অর্থের জোগান | কারও বিরুদ্ধে হত্যাকাণ্ডে ষড়যন্ত্র-সহায়তার অভিযোগ কোথাও কারফিউ জারি, কোথাও কারফিউ চলাকালে দেখামাত্র গুলির সিদ্ধান্ত। আন্দোলনকারীদের দমনে দলীয় নেতাকর্মীদের মাঠে রাখার পাশাপাশি ছিল অর্থের জোগান। এমনকি ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের ‘মার্চ টু ঢাকা’ কর্মসূচি ঠেকাতেও নেওয়া হয়েছিল বিশেষ পরিকল্পনা। জুলাই-আগস্টের গণ-আন্দোলন দমনে এসব সিদ্ধান্ত গ্রহণ, বাস্তবায়ন ও হত্যাযজ্ঞে উসকানি-সহায়তার অভিযোগ উঠেছে আওয়ামী লীগের সাত শীর্ষ নেতার বিরুদ্ধে। জুলাই-আগস্টের গণ-অভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে দাখিল করা আনুষ্ঠানিক অভিযোগে সাত নেতার ভূমিকা আলাদাভাবে তুলে ধরেছে প্রসিকিউশন। তাঁদের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ, আন্দোলনকারীদের উসকানি দেওয়া, কারফিউ ও গুলি চালানোর পরিকল্পনায় অংশ নেওয়া, দলীয় কর্মীদের অর্থের জোগান এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ভূমিকা প্রভাবিত করার অভিযোগ আনা হয়েছে। কয়েকজনের বিরুদ্ধে নির্দিষ্ট হত্যাকাণ্ডে ষড়যন্ত্র, প্ররোচনা ও সহায়তার অভিযোগও রয়েছে। অভিযুক্ত সাত নেতা হলেন আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ও ১৪ দলীয় জোটের সমন্বয়ক আমির হোসেন আমু, সাংগঠনিক সম্পাদক মির্জা আজম, সাবেক নৌপরিবহনমন্ত্রী শাজাহান খান, সাবেক কৃষিমন্ত্রী আবদুর রাজ্জাক, সাবেক বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী মুহাম্মদ ফারুক খান, সাবেক বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদবিষয়ক উপদেষ্টা তৌফিক-ই-ইলাহী চৌধুরী এবং সাবেক মন্ত্রী ডা. দীপু মনি। মির্জা আজম ছাড়া বাকি ছয় আসামি কারাগারে রয়েছেন। বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২-এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল সাতজনের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আমলে নেন। কারাগারে থাকা ছয় আসামিকে আদালতে হাজির করার নির্দেশ দেওয়া হয়। মির্জা আজমের বিরুদ্ধে জারি করা হয় গ্রেপ্তারি পরোয়ানা। পরবর্তী শুনানির জন্য ২২ নভেম্বর দিন ধার্য করেছেন আদালত। প্রসিকিউশনের অভিযোগে সাত নেতার ভূমিকা তুলে ধরা হয়েছে পৃথকভাবে। আমির হোসেন আমু: কারফিউ, অর্থের জোগান ও হত্যাকাণ্ডে সহায়তার অভিযোগ ১৪ দলীয় জোটের তৎকালীন সমন্বয়ক ও মুখপাত্র আমির হোসেন আমুর বিরুদ্ধে আন্দোলন দমনে রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও তা বাস্তবায়নে ভূমিকা রাখার অভিযোগ এনেছে প্রসিকিউশন। অভিযোগ অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে ১৪ দলীয় জোটের বৈঠকে দেশব্যাপী কারফিউ জারি এবং কারফিউ চলাকালে দেখামাত্র গুলির সিদ্ধান্ত গ্রহণে ভূমিকা রাখেন তিনি। ওই সময় আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের সঙ্গে সংবাদ সম্মেলনেও উপস্থিত ছিলেন আমু। ২৯ জুলাই গণভবনে ১৪ দলীয় জোটের আরেক বৈঠকে জামায়াত-শিবির নিষিদ্ধের সিদ্ধান্ত গ্রহণেও তাঁর ভূমিকা ছিল বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। প্রসিকিউশনের দাবি, আন্দোলনকারীদের জামায়াত-শিবিরের সদস্য হিসেবে চিহ্নিত করে তাঁদের গ্রেপ্তার, মিথ্যা মামলা ও নির্যাতনের সুযোগ তৈরির উদ্দেশ্যে ওই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। কারফিউ চলাকালে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের অর্থের জোগান ও বণ্টনের দায়িত্বও আমুর ওপর ছিল বলে অভিযোগ করা হয়েছে। ৫ আগস্ট তাঁর বাড়ি থেকে বস্তাভর্তি প্রায় পাঁচ কোটি টাকা উদ্ধারের বিষয়টি অভিযোগে উল্লেখ করে প্রসিকিউশন দাবি করেছে, আন্দোলন দমনে ১৪ দলীয় জোটের কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে বিতরণের জন্য ওই অর্থ রাখা হয়েছিল। তাঁর ষড়যন্ত্র, প্ররোচনা ও সহায়তায় গাজীপুর, উত্তরা, মিরপুরসহ বিভিন্ন স্থানে আন্দোলনকারীদের হত্যার ঘটনা ঘটে বলেও অভিযোগ আনা হয়েছে। মির্জা আজম: মাঠপর্যায়ে কর্মী রাখা ও অর্থ বণ্টনের অভিযোগ আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মির্জা আজমের বিরুদ্ধে কারফিউ চলাকালে দলীয় নেতাকর্মীদের মাঠে রাখা, আন্দোলনকারীদের ওপর হামলা ও গুলির প্রস্তুতি এবং অর্থের জোগান দেওয়ার প্রক্রিয়ায় যুক্ত থাকার অভিযোগ এনেছে প্রসিকিউশন। অভিযোগে বলা হয়েছে, কারফিউ চলাকালে ওয়ার্ড পর্যায়ে দলীয় লোকজনকে সক্রিয় রাখতে অর্থের প্রয়োজনীয়তার কথা ওবায়দুল কাদেরকে জানিয়েছিলেন তিনি। সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে অর্থ সংগ্রহ করে দলের বিভিন্ন স্তরে বণ্টন করার দায়িত্বও পালন করতেন বলে উল্লেখ করা হয়েছে। ১৫ জুলাই আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতাদের সংবাদ সম্মেলনে শেখ হাসিনার বক্তব্যের সমর্থন এবং আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে ছাত্রলীগকে ব্যবহার করার প্রক্রিয়ায় মির্জা আজমের সম্পৃক্ততার অভিযোগ রয়েছে। পরদিন ১৭ জুলাই ঢাকা জেলা আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত মতবিনিময় সভায়ও তিনি উপস্থিত ছিলেন। ওই সভায় আন্দোলনকারীদের অপশক্তি আখ্যা দিয়ে তাঁদের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলার নির্দেশনা দেওয়া হয় বলে অভিযোগে বলা হয়েছে। প্রসিকিউশনের দাবি, তাঁর ষড়যন্ত্র, উসকানি ও সহায়তায় ৫ আগস্ট মিরপুরসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে আন্দোলনকারীদের হত্যা করা হয়। শাজাহান খান: আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে তালিকা ও হামলার পরিকল্পনার অভিযোগ সাবেক নৌপরিবহনমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য শাজাহান খানের বিরুদ্ধে আন্দোলন দমনে দলীয় সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও বাস্তবায়নে ভূমিকা রাখার অভিযোগ আনা হয়েছে। ১৫ জুলাই আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতাদের সংবাদ সম্মেলনে আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে ছাত্রলীগকে ব্যবহার করার বক্তব্যের সমর্থন জানান তিনি। ১৭ জুলাই ঢাকা জেলা আওয়ামী লীগ কার্যালয়ের মতবিনিময় সভায়ও উপস্থিত ছিলেন। প্রসিকিউশনের অভিযোগ, ১৮ ও ২০ জুলাই শেখ হাসিনার সঙ্গে মুঠোফোনে কথোপকথনের মাধ্যমে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের পাশাপাশি সমর্থিত শ্রমিক এবং মুক্তিযোদ্ধাদের ব্যানারে দলীয় কর্মীদের মাঠে রাখার পরিকল্পনায় যুক্ত ছিলেন শাজাহান খান। আন্দোলনকারীদের তালিকা তৈরি করে তাঁদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার সিদ্ধান্তেও তাঁর সম্পৃক্ততার অভিযোগ রয়েছে। নিজ জেলা মাদারীপুরে আন্দোলনকারীদের হত্যার ঘটনাতেও তাঁর ভূমিকার অভিযোগ এনেছে রাষ্ট্রপক্ষ। অভিযোগ অনুযায়ী, ১৮ জুলাই মাদারীপুর সার্কিট হাউসের সামনে দীপ্ত দেকে পিটিয়ে শকুনি লেকের পানিতে ফেলে হত্যা করা হয়। পরদিন ১৯ জুলাই মাদারীপুরে শ্রমিক রুমান ব্যাপারী ও তাওহীদ সন্নামতকে গুলি করে হত্যা করা হয়। এ ছাড়া ৩০ জুলাই গঠিত মুক্তিযোদ্ধার সন্তান ও প্রজন্ম সমন্বয় পরিষদের আহ্বায়ক বা অভিভাবক হিসেবে আন্দোলনকারীদের বিএনপি-জামায়াতের সদস্য আখ্যা দিয়ে আন্দোলন দমনের প্রচেষ্টায় যুক্ত থাকার অভিযোগ রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে। ৫ আগস্ট মিরপুরে গুলিবিদ্ধ মহিউদ্দিনের মৃত্যুর ঘটনাও তাঁর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের অন্তর্ভুক্ত। আবদুর রাজ্জাক: উসকানিমূলক বক্তব্য ও গুলির সিদ্ধান্তে সম্পৃক্ততার অভিযোগ সাবেক কৃষিমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য আবদুর রাজ্জাকের বিরুদ্ধে আন্দোলন দমনে রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ এবং আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে উসকানিমূলক বক্তব্য দেওয়ার অভিযোগ এনেছে প্রসিকিউশন। ১৫ জুলাই আওয়ামী লীগের দলীয় কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে ওবায়দুল কাদেরের পাশে উপস্থিত থেকে শেখ হাসিনার বক্তব্যের সমর্থন জানান তিনি। ওই সংবাদ সম্মেলনে ‘আত্মস্বীকৃত রাজাকারদের জবাব দেবে ছাত্রলীগ’—এমন বক্তব্যের মাধ্যমে আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে ছাত্রলীগকে লেলিয়ে দেওয়ার প্রক্রিয়ায় তাঁর সম্পৃক্ততার অভিযোগ করা হয়েছে। পরদিন ১৬ জুলাই চট্টগ্রামের মুরাদপুরে মোহাম্মদ ওয়াসিম, ফয়সাল আহমেদ শান্ত, ফারুকসহ এবং রংপুরে আবু সাঈদসহ ছয় আন্দোলনকারী নিহত হওয়ার ঘটনা অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। ১৭ জুলাই ঢাকা জেলা আওয়ামী লীগ কার্যালয়ের মতবিনিময় সভায়ও উপস্থিত ছিলেন রাজ্জাক। ১৯ জুলাই ১৪ দলীয় জোটের বৈঠকে দেশব্যাপী কারফিউ জারি এবং কারফিউ চলাকালে দেখামাত্র গুলি করার সিদ্ধান্ত গ্রহণে তাঁর সম্পৃক্ততার অভিযোগ রয়েছে। এ ছাড়া ৪ আগস্ট বাংলাদেশ কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশনের এক অনুষ্ঠানে আন্দোলনকারীদের সন্ত্রাসী, জঙ্গি, রাজাকার ও আলবদর আখ্যা দিয়ে বাংলাদেশ থেকে নির্মূল এবং তাঁদের শিকড় তুলে নেওয়ার বক্তব্য দেওয়ার অভিযোগ আনা হয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে। প্রসিকিউশনের দাবি, তাঁর ষড়যন্ত্র, উসকানি ও সহায়তার পরিপ্রেক্ষিতে গাজীপুর, উত্তরা, মিরপুরসহ বিভিন্ন স্থানে আন্দোলনকারীদের হত্যা করা হয়। দীপু মনি: ১৪ দলের বৈঠকে কারফিউ ও গুলির সিদ্ধান্তে ভূমিকার অভিযোগ আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক মন্ত্রী ডা. দীপু মনির বিরুদ্ধে আন্দোলন দমনের রাজনৈতিক প্রক্রিয়ায় সম্পৃক্ত থাকার অভিযোগ আনা হয়েছে। ১৯ জুলাই শেখ হাসিনার নেতৃত্বে গণভবনে অনুষ্ঠিত ১৪ দলীয় জোটের বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন তিনি। ওই বৈঠকে দেশব্যাপী কারফিউ জারি এবং কারফিউ চলাকালে দেখামাত্র গুলি করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও বাস্তবায়নের বিষয়ে আলোচনা হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। এ ছাড়া ১৫ জুলাই আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের দেওয়া আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে উসকানিমূলক বক্তব্যের প্রেক্ষাপট এবং পরবর্তী সময়ে দলীয়ভাবে আন্দোলন দমনের সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়ায় দীপু মনির সম্পৃক্ততার বিষয়টিও আনুষ্ঠানিক অভিযোগে তুলে ধরেছে প্রসিকিউশন। ফারুক খান: ‘মার্চ টু ঢাকা’ ঠেকাতে বিশেষ পরিকল্পনার অভিযোগ সাবেক বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এবং আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য মুহাম্মদ ফারুক খানের বিরুদ্ধে আন্দোলন দমনে সরকারের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের সিদ্ধান্ত গ্রহণে যুক্ত থাকার অভিযোগ আনা হয়েছে। প্রসিকিউশনের অভিযোগ অনুযায়ী, ৪ আগস্ট সকালে গণভবনে শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত নিরাপত্তাসংক্রান্ত জাতীয় কমিটির সভায় উপস্থিত ছিলেন ফারুক খান। ২৭ সদস্যের ওই কমিটির চতুর্থ সদস্য ছিলেন তিনি। সভায় যেকোনো উপায়ে আন্দোলন দমন এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করে আন্দোলন চালানোর সুযোগ বন্ধ করার বিষয়ে আলোচনা ও সিদ্ধান্ত হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। একই দিন রাতে গণভবনে অনুষ্ঠিত আরেকটি বৈঠকে ৫ আগস্টের ‘মার্চ টু ঢাকা’ কর্মসূচি ঠেকানোর পরিকল্পনা করা হয়। ঢাকার প্রবেশপথগুলোতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী মোতায়েন এবং পুলিশ ও সেনাবাহিনীর সমন্বয়ে কঠোর অবস্থান নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছিল বলে অভিযোগ করেছে প্রসিকিউশন। এসব সিদ্ধান্তের পরিপ্রেক্ষিতে ৫ আগস্ট ঢাকায় আন্দোলনকারীদের নির্বিচারে হত্যার ঘটনা ঘটে বলে রাষ্ট্রপক্ষের দাবি। এ ছাড়া ১৯ জুলাই ১৪ দলীয় জোটের বৈঠকে কারফিউ জারি ও কারফিউ চলাকালে দেখামাত্র গুলির সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়ায় তাঁর সম্পৃক্ততার অভিযোগ রয়েছে। ৪ ও ৫ আগস্ট মিরপুরে আন্দোলনকারীদের হত্যার ঘটনায়ও ষড়যন্ত্র, প্ররোচনা ও সহায়তার অভিযোগ আনা হয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে। তৌফিক-ই-ইলাহী: কারফিউ ও হত্যাদমনে রাষ্ট্রীয় সিদ্ধান্তে সম্পৃক্ততার অভিযোগ সাবেক বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদবিষয়ক উপদেষ্টা তৌফিক-ই-ইলাহী চৌধুরীর বিরুদ্ধে সরকারের আস্থাভাজন উপদেষ্টা ও নীতিনির্ধারক হিসেবে আন্দোলন দমনের সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও বাস্তবায়নে যুক্ত থাকার অভিযোগ করেছে প্রসিকিউশন। ১৪ জুলাই শেখ হাসিনার দেওয়া আন্দোলনকারীদের ‘রাজাকারের বাচ্চা ও রাজাকারের নাতি-পুতি’ সম্বোধন করে বক্তব্যের পর তা সমর্থন এবং আন্দোলন দমনে রাষ্ট্রীয় সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়ায় তাঁর সম্পৃক্ততার কথা অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। ১৯ জুলাই ১৪ দলীয় জোটের বৈঠকে দেশব্যাপী কারফিউ জারি ও কারফিউ চলাকালে দেখামাত্র গুলি করার সিদ্ধান্ত এবং ৪ আগস্ট গণভবনে নিরাপত্তাসংক্রান্ত জাতীয় কমিটির সভায় আন্দোলন দমনের পরিকল্পনায় তাঁর ভূমিকার অভিযোগ রয়েছে। একই দিন রাতে অনুষ্ঠিত বৈঠকে ৫ আগস্টের ‘মার্চ টু ঢাকা’ কর্মসূচি ঠেকানোর পরিকল্পনাতেও তিনি যুক্ত ছিলেন বলে দাবি করেছে রাষ্ট্রপক্ষ। প্রসিকিউশনের অভিযোগ, উপদেষ্টা হিসেবে শেখ হাসিনাকে আন্দোলন দমনে পরামর্শ দেওয়ার পাশাপাশি ষড়যন্ত্র, উসকানি ও সহায়তা করেছেন তৌফিক-ই-ইলাহী। এ ছাড়া সংঘটিত অপরাধ বন্ধে কার্যকর ভূমিকা না রাখা এবং অপরাধীদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ না করার অভিযোগও আনা হয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে। সাত নেতার বিরুদ্ধে সুপিরিয়র কমান্ড রেসপনসিবিলিটির অভিযোগ সাত নেতার বিরুদ্ধে শুধু পৃথক বক্তব্য, বৈঠকে অংশগ্রহণ বা নির্দিষ্ট সিদ্ধান্তে সম্পৃক্ততার অভিযোগই আনা হয়নি; তাঁদের বিরুদ্ধে সুপিরিয়র কমান্ড রেসপনসিবিলিটির অভিযোগও এনেছে প্রসিকিউশন। রাষ্ট্রপক্ষের বক্তব্য, আওয়ামী লীগ সরকারের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের এসব নেতা আন্দোলন দমনের সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও বাস্তবায়নের প্রক্রিয়ায় প্রভাবশালী ভূমিকা পালন করেছেন। তাঁদের অবস্থান ও কর্তৃত্বের কারণে সংঘটিত অপরাধ প্রতিরোধ বা অপরাধীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ থাকলেও তাঁরা তা করেননি বলে অভিযোগ করা হয়েছে। সাত নেতার বিরুদ্ধে দীর্ঘ তদন্ত শেষে তদন্ত কর্মকর্তা চিফ প্রসিকিউটরের কার্যালয়ে প্রতিবেদন জমা দেন। যাচাই-বাছাই শেষে গত ২ নভেম্বর আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আকারে তা আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে দাখিল করে প্রসিকিউশন। বৃহস্পতিবার আদালত অভিযোগ আমলে নিয়ে পরবর্তী শুনানির তারিখ নির্ধারণ করেন। তবে এসব অভিযোগ এখনো বিচারাধীন। আদালতে সাক্ষ্য-প্রমাণ উপস্থাপন ও বিচারিক প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়েই অভিযুক্তদের দায় নির্ধারিত হবে।