ত্রয়োদশন সংসদ নির্বাচনে বিএনপির ক্ষমতায় আসা প্রসঙ্গে বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামীর করা মন্তব্যের নিন্দা জানিয়েছেন দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তার কথায়, ‘জামায়াতে ইসলামী কখনোই সুস্থ চিন্তা করে না’। নয়া পল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে শনিরার দুপুরে যৌথ সভা শেষে এক সংবাদ সম্মলনে জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমানের বক্তব্যের নিন্দা জানিয়েছেন মির্জা ফখরুল। তিনি বলেন, “আমি আজকে এক পত্রিকায় একটি সংবাদ দেখলাম। যে সংবাদটি আমাকে অত্যন্ত আহত করেছে। যে জামায়াতে ইসলামের আমির তিনি বলছেন যে, বিএনপি ইঞ্জিনিয়ারিং করে ক্ষমতায় এসেছে। আমি এটা তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি, প্রতিবাদ জানাচ্ছি এবং তিনি বা তার দল যে কখনোই সুস্থভাবে চিন্তা করেন না তা প্রমাণিত হয়েছে।” নির্বাচন নিয়ে মির্জা ফখরুল বলেন, “সমগ্র পৃথিবীর দেশগুলো থেকে যারা অবজারভার এসেছিল, বাংলাদেশের সমস্ত প্রতিষ্ঠানগুলো, পত্রপত্রিকা মিডিয়া এক বাক্যে স্বীকার করেছে যে এই নির্বাচনটি ছিল এই কালের অর্থাৎ বাংলাদেশের জন্মের পর থেকে সবচাইতে নিরপেক্ষ, অবাধ এবং সুষ্ঠ নির্বাচন এবং সেই সুষ্ঠ বিচারের মধ্য দিয়েই বিএনপি তার জনপ্রিয়তার মধ্য দিয়ে ২১৩টি আসন লাভ করে সে সরকার গঠন করার সুযোগ পেয়েছে। সুতরাং জামায়াতে ইসলামের আমিরের এই বক্তব্য আমি আবার আমরা প্রত্যাখ্যান করছি শুধু নয় নিন্দা জানাচ্ছি এবং ক্ষোভ প্রকাশ করছি। বিএনপির বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের উপরে বিভিন্নভাবে প্রচেষ্টা চালানো হচ্ছে ওই শক্তিটির (জামায়াতে ইসলামী) পক্ষ থেকেই একটা ধুম্রজাল সৃষ্টি করা, আবার একটা বিভেদ সৃষ্টি করা। আমরা ৫ অগাস্টের পরে যে সুযোগ পেয়েছি বাংলাদেশে গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়ার, সেই প্রচেষ্টাকে নষ্ট করে দেওয়া, সুযোগকে নষ্ট করা এবং আবার একটা ফ্যাসিস্ট শাসনের পাঁয়তারা তারা (জামায়াত) করছে কি না সেটা আমাদেরকে চিন্তা করতে হবে, দেশবাসীকে চিন্তা করতে হবে। ভিন্নভাবে দেশকে আবার স্বৈরাচারের মধ্যে তারা নিতে চায় কিনা সেটাও আমাদেরকে চিন্তা করতে হবে” জামায়াতের সমালোচনা করে ফখরুল বলেন, “তাদের যে অতীত সে ইতিহাস আমরা সবাই খুব ভালো করে জানি। সেই কারণেই সমগ্র জাতি অত্যন্ত সচেতনভাবে তাদেরকে প্রত্যাখ্যান করেছে এবং আগামীতে যেন পুরোপুরি তাদেরকে নির্মূল করা যায় রাজনৈতিকভাবে সেভাবে আমাদেরকে কাজ করতে হবে। ” সেই কারণে মে দিবসে বিএনপির শ্রমিক সমাবেশের গুরুত্ব বেশি মন্তব্য করে বিএনপি মহাসচিব এই সমাবেশ সর্বাত্মকভাবে সফল করার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, “১ মে দুপুর ২টায় এই সমাবেশ হবে। এই সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন আমাদের দলের চেয়ারম্যান এবং বর্তমানে বাংলাদেশের সবচাইতে জননন্দিত প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমান। এই সভাটিকে সফল করার জন্যে আমরা দলের পক্ষ থেকে সর্বাত্মক প্রচেষ্টা গ্রহণ করেছি। বাংলাদেশের মানুষের কাছে আমাদের আবেদন থাকবে যে তারা এই দিবসটি যথাযথ মর্যাদার সঙ্গে পালন করবেন, প্রত্যেকটি ইউনিটের আমাদের জেলা এবং উপজেলা ইউনিটগুলোতে একইভাবে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে তারাও সেইভাবে তারা এই দিবসটি পালন করবেন। আমরা ঢাকাতে এই দিবসটিকে একটা উৎসবের দিন এবং একই সঙ্গে রাজনৈতিক শপথ গ্রহণ করবার দিন হিসেবে আমরা এটাকে নিতে চাই। যাতে করে আমরা ভবিষ্যতে আমাদের রাজনীতিকে আরো বেগমান করতে পারি। ” এক প্রশ্নের জবাবে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘‘আপনারা সবসময় লক্ষ্য করেছেন আমরা এর আগেও বলেছি যে বাংলাদেশের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতাকে বিনষ্ট করবার জন্য একটি পক্ষ প্রথম থেকেই প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে…সে নির্বাচনের আগে থেকেই, তখনও আপনার অফুরন্ত মিথ্যাচার, ফেইক ইনফরমেশন, সোশাল মিডিয়াকে অন্যায়ভাবে ব্যবহার করে, অনৈতিকভাবে ব্যবহার করে বিএনপিকে জনগণের কাছ থেকে সরিয়ে দেওয়ার একটা প্রচেষ্টা চলেছে। কিন্তু সেটা সক্ষম হয়নি, সফল হয়নি। এখনো আবার দেখেন যে সমস্ত কার্টুনগুলো করে তারা দিচ্ছে এবং সেগুলোকে নিয়ে গিয়ে যে প্রচেষ্টা তৈরি করছে খুব স্পষ্টভাবে বোঝা যায় যে, ওই শক্তি যারা বাংলাদেশকে অস্থিতিশীল করতে চায়…একটা একটা স্টেবল অবস্থায় নিয়ে যেতে চায় না, অনিশ্চিত অবস্থায় নিয়ে যেতে চায় তারা এই কাজগুলো করছে। আমরা তীব্র নিন্দা জানিয়েছি নিন্দা জানাচ্ছি এবং ছাত্র রাজনীতিতে এ ধরনের যে একটা অবস্থা তৈরি করার যে প্রচেষ্টা করা হচ্ছে আমরা তারও নিন্দা জানাচ্ছি। আমি আশা করব যে যে সমস্ত পক্ষগুলো এই ধরনের অপকর্মে লিপ্ত হচ্ছেন তার বিরুদ্ধে তারা থাকবেন কারণ বাংলাদেশের স্বাধীন সচেতন ছাত্র সমাজ বরাবরই অপরাজনীতিকে পরিহার করেছে এবং জনগণও অপরাজনীতি পরিহার করেছে এবং আমরা এবারও দেখব যে জনগণ এগুলোকে প্রতিরোধ করবে এবং তাদেরকে পরিহার করবে।” সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা রুহুল কবির রিজভী, শ্রমিক দলের প্রধান সমন্বয়কারী সংসদ সদস্য শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাস, ঢাকা মহানগর উত্তরের আহ্বায়ক ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক, দক্ষিনের সদস্য সচিব তানভীর আহমেদ রবিন, বিএনপির স্বেচ্ছাসেবক বিষয়ক সম্পাদক মীর সরাফত আলী সপু, সহ দপ্তর সম্পাদক মনির হোসেন, তারিকুল ইসলাম তেনজিং, মহিলা দলের সাধারণ সম্পাদক সুলতানা আহমেদ, মুক্তিযোদ্ধা দলের সভাপতি ইশতিয়াক আজিজ উলফাত, স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি সংসদ সদস্য এসএম জিলানি, যুব দলের সাধারণ সম্পাদক সংসদ সদস্য নুরুল ইসলাম নয়ন, কৃষক দলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল রহমান টিপু, জাসাসের সভাপতি হেলাল খান, সাধারণ সম্পাদক জাকির হোসেন রোকন, তাঁতী দলের সভাপতি আবুল কালাম আজাদ,সদস্য সচিব মজিবুর রহমান, উলামা দলের সভাপতি কাজী সেলিম রেজা, সদস্য সদস্য আবুল হোসেন, শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মোস্তাফিজুল করীম মজুমদার, প্রচার সম্পাদক মনজুরুল ইসলাম মনজুসহ আরও অনেকে উপস্থিত ছিলেন।