প্রকাশ :: ... | ... | ...

জিয়া পরিবারের তৃতীয় সদস্য হিসেবে জাতিসংঘে বাংলায় ভাষণ দেবেন তারেক রহমান


সংযুক্ত ছবি

২৪ সেপ্টেম্বর বাংলায় ভাষণ দেওয়ার কথা; জলবায়ু, রোহিঙ্গা সংকট, গণতান্ত্রিক উত্তরণ ও বহুপক্ষীয় সহযোগিতা গুরুত্ব পেতে পারে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে যোগ দিতে আগামীকাল সোমবার নিউইয়র্কের উদ্দেশে ঢাকা ছাড়ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ২৪ সেপ্টেম্বর সাধারণ বিতর্কে তাঁর ভাষণ দেওয়ার কথা রয়েছে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, প্রধানমন্ত্রী বাংলায় ভাষণ দেবেন। জাতিসংঘের এবারের সাধারণ বিতর্ক ২২ থেকে ২৬ সেপ্টেম্বর এবং ২৮ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত হবে। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে এটি তারেক রহমানের প্রথম জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে ভাষণ। তাঁর বাবা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং মা সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া এর আগে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের বিভিন্ন অধিবেশনে বক্তব্য দিয়েছেন। ফলে তাঁর এবারের অংশগ্রহণের মধ্য দিয়ে জিয়া পরিবারের তৃতীয় সদস্য হিসেবে জাতিসংঘের এই মঞ্চে ভাষণ দেওয়ার ঘটনা ঘটতে যাচ্ছে। জাতিসংঘের নথিতে দেখা যায়, জিয়াউর রহমান ১৯৮০ সালের ২৬ আগস্ট সাধারণ পরিষদের ১১তম বিশেষ অধিবেশনে ভাষণ দেন। তাঁর বক্তব্যে ধনী ও দরিদ্র দেশের বৈষম্য, দারিদ্র্য, ক্ষুধা, অর্থনৈতিক উন্নয়ন এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতার প্রয়োজনীয়তার বিষয় গুরুত্ব পায়। খালেদা জিয়া ১৯৯৩ সালে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৪৮তম অধিবেশনে বাংলাদেশের পক্ষে বক্তব্য দেন। পরবর্তী সময়েও তিনি জাতিসংঘের বিভিন্ন সাধারণ পরিষদ ও উচ্চপর্যায়ের কার্যক্রমে অংশ নেন। জাতিসংঘের নথিতে ২০০৫ সালের ৬০তম অধিবেশনের সাধারণ বিতর্কে তাঁর বক্তব্যের রেকর্ড রয়েছে। এবার প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সফরকে ঘিরে বাংলাদেশের জন্য বাড়তি কূটনৈতিক গুরুত্বও তৈরি হয়েছে। জাতিসংঘের ৮১তম সাধারণ পরিষদের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান। তিনি জুনে ১৯৩ সদস্যের মধ্যে ৯৯ ভোট পেয়ে এ পদে নির্বাচিত হন। সফরসূচি অনুযায়ী, ২২ সেপ্টেম্বর থেকে প্রধানমন্ত্রী নিউইয়র্কে আনুষ্ঠানিক কর্মসূচিতে অংশ নেবেন। জাতিসংঘ মহাসচিবের দেওয়া বিশ্বনেতাদের স্বাগত প্রাতঃরাশ ও সাধারণ পরিষদের উদ্বোধনী আয়োজনে অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে তাঁর। একই দিনে মার্কিন প্রেসিডেন্টের দেওয়া অভ্যর্থনা অনুষ্ঠানেও যোগ দেওয়ার কথা রয়েছে। ২৩ সেপ্টেম্বর বিভিন্ন আন্তর্জাতিক দাতব্য ও মানবিক সংস্থার প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠকের পাশাপাশি বৈশ্বিক বৈষম্য মোকাবিলাবিষয়ক একটি সভায় বক্তব্য দেওয়ার কথা রয়েছে প্রধানমন্ত্রীর। একই দিনে জাতিসংঘ মহাসচিবের উদ্যোগে আয়োজিত ‘Climate Action and the Just Transition’ শীর্ষক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকেও অংশ নেবেন তিনি। জাতিসংঘের সূচিতেও ২৩ সেপ্টেম্বর জলবায়ু কার্যক্রম ও ন্যায়সংগত রূপান্তরবিষয়ক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকের কথা রয়েছে। ২৪ সেপ্টেম্বর সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধির কারণে সৃষ্ট অস্তিত্বগত হুমকি মোকাবিলাবিষয়ক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে প্রধানমন্ত্রীর। জাতিসংঘের সূচি অনুযায়ী ওই দিন এ বিষয়ে একটি উচ্চপর্যায়ের পূর্ণাঙ্গ বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। জলবায়ু অর্থায়ন, অভিযোজন, প্রযুক্তি হস্তান্তর, ‘লস অ্যান্ড ড্যামেজ’ ও জলবায়ু ন্যায়বিচারের মতো বিষয় সেখানে গুরুত্ব পেতে পারে। এরপর ২৪ সেপ্টেম্বর সাধারণ পরিষদের সাধারণ বিতর্কে ভাষণ দেবেন তারেক রহমান। তাঁর বক্তব্যে বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক উত্তরণ, আইনের শাসন ও জবাবদিহিতা, বিশ্ব শান্তি ও নিরাপত্তা, জলবায়ু পরিবর্তন, টেকসই উন্নয়ন, অর্থনৈতিক সহযোগিতা, নারী ও যুব ক্ষমতায়ন, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য, রোহিঙ্গা সংকট এবং বহুপক্ষীয় ব্যবস্থার সংস্কারের মতো বিষয় গুরুত্ব পেতে পারে বলে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে। সফরে বাংলাদেশের উদ্যোগে দুটি সাইড ইভেন্টেও অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে প্রধানমন্ত্রীর। ২৩ সেপ্টেম্বর রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে আয়োজিত অনুষ্ঠানে মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের দ্রুত ও নিরাপদ প্রত্যাবাসনে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সহযোগিতা চাইবে বাংলাদেশ। ২৪ সেপ্টেম্বর মাতৃ ও নবজাতকের স্বাস্থ্য এবং মিডওয়াইফারি বিষয়ক একটি অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেওয়ার কথা রয়েছে তাঁর। জাতিসংঘ অধিবেশনের ফাঁকে বিভিন্ন দেশের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গেও বৈঠক করবেন প্রধানমন্ত্রী। এর মধ্যে কুয়েতের ক্রাউন প্রিন্স এবং ক্রোয়েশিয়া, ভুটান, থাইল্যান্ড, পাকিস্তান ও হাইতির প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকের কথা রয়েছে। এসব বৈঠকে দ্বিপক্ষীয় রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক, বাণিজ্য-বিনিয়োগ, উন্নয়ন সহযোগিতা এবং রোহিঙ্গা সংকটসহ পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয় আলোচনায় আসতে পারে। এ ছাড়া জাতিসংঘ মহাসচিব, ইউরোপীয় কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট, বিশ্বব্যাংক গ্রুপের প্রেসিডেন্ট, মিয়ানমারবিষয়ক জাতিসংঘের বিশেষ দূত এবং জাতিসংঘের শরণার্থী ও মানবাধিকারবিষয়ক শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গেও প্রধানমন্ত্রীর বৈঠকের কথা রয়েছে। অর্থনৈতিক কূটনীতির অংশ হিসেবে ওয়াল স্ট্রিট ও মেটাসহ বিভিন্ন ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের শীর্ষ প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করবেন প্রধানমন্ত্রী। এসব আলোচনায় বাংলাদেশে বিনিয়োগের সুযোগ, উৎপাদন, অবকাঠামো ও প্রযুক্তি খাত, দক্ষতা উন্নয়ন এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টির সম্ভাবনা তুলে ধরা হবে। জাতিসংঘের এবারের অধিবেশনে বাংলাদেশের আরেকটি বিশেষ গুরুত্বের জায়গা হলো সাধারণ পরিষদের সভাপতির পদ। বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন এবং ৮ সেপ্টেম্বর থেকে অধিবেশনের দায়িত্ব পালন করছেন। জাতিসংঘের সরকারি তথ্য অনুযায়ী, এবারের অধিবেশনের মূল প্রতিপাদ্য—‘Restoring trust, managing transformation: a United Nations that delivers for all’। নিউইয়র্কের কর্মসূচি শেষে ২৫ সেপ্টেম্বর রাতে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হওয়ার কথা রয়েছে প্রধানমন্ত্রীর। সফরে তাঁর সঙ্গে তুলনামূলক ছোট একটি প্রতিনিধিদল থাকার কথা রয়েছে। ১৯৮০ সালে জিয়াউর রহমানের জাতিসংঘে ভাষণের পর ১৯৯৩ সালে খালেদা জিয়ার অংশগ্রহণ এবং পরবর্তী বছরগুলোতে জাতিসংঘের বিভিন্ন কার্যক্রমে তাঁর উপস্থিতির ধারাবাহিকতায় এবার প্রথমবারের মতো প্রধানমন্ত্রী হিসেবে একই আন্তর্জাতিক মঞ্চে বক্তব্য দিতে যাচ্ছেন তারেক রহমান। তাঁর ভাষণের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের বর্তমান সরকারের পররাষ্ট্রনীতি ও আন্তর্জাতিক অগ্রাধিকারের বিষয়গুলো বিশ্বমঞ্চে তুলে ধরার সুযোগ তৈরি হচ্ছে।