জোটের ভোটে মার্কা নিজের, ভোটের বাক্সে কী হেরফের?

আজাদ প্রতিবেদক
| প্রিন্ট সংস্করণ | ফটো কার্ড
 ছবি:
ছবি:

ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে নির্বাচনি জোট গঠন ও নিজেদের মধ্যে আসন সমঝোতার কাজ প্রায় গুছিয়ে এনেছে রাজনৈতিক দলগুলো, তাতে ভোটের মাঠ থেকে সরে যেতে হবে অন্য প্রার্থীকে।

এবার বড় দলের প্রতীকে নির্বাচন করার সুযোগ না থাকায় জোট করলেও প্রার্থিতায় কী ধরনের হেরফের হল? ভোটের বাক্সে তার কী প্রভাব পড়বে? আর রাজনীতিতেই বা কী ধরনের পরিবর্তন আসবে, এসব নিয়ে জনপরিসরে আগ্রহ বাড়ছে।

অন্যদিকে প্রার্থী মনোনয়নের ক্ষেত্রে দলগুলো তৃণমূল সংগঠনের সুপারিশ না নেওয়ায় তাদের অভ্যন্তরীণ গণতন্ত্র নিয়েও প্রশ্ন ওঠেছে। এবার বড় দলের সঙ্গে জোট করে সেই দলের প্রতীকে ভোট করতে না পারার তাৎক্ষণিক ও দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব দেখছেন বিশ্লেষকদের কেউ কেউ। তারা বলছেন, ভবিষ্যৎ রাজনীতিতে ‘ভূঁইফোড় দলের উৎপাত’ কমবে।

এ বিষয়ে নির্বাচন ব্যবস্থা সংস্কার কমিশনের সদস্য আব্দুল আলীম বলেন, “এবার আমরা তাৎক্ষণিক প্রভাব দেখতে পাচ্ছি। অর্থাৎ বিধান থাকার ফলে একটা দল বিলুপ্ত হয়ে গেছে। কথায় কথায় যে বলা হয়-দেশে ভূঁইফোড় রাজনৈতিক দল রয়েছে, এর প্রমাণ হয়ে গেল। আসলে কিছু ভুঁইফোড় পার্টি আছে, তারা নিজেদের বিলুপ্ত করে বড় দলে যোগ দিয়েছে।”

২০০৮ সালের নবম সংসদ নির্বাচনে বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি-বিজেপি দুটি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে। দলীয় ‘গরুর গাড়ি’ প্রতীক বাদ দিয়ে দুই প্রার্থী বিএনপি জোট থেকে ধানের শীষ নিয়ে ভোট করেন এবং একটিতে বিজয়ী হন। সে নির্বাচনে ধানের শীষ প্রতীকে শরিক দলের সাত প্রার্থী নির্বাচন করেছিলেন। বিএনপি ৪১ আসন শরিকদের ছেড়ে দিয়েছিল।

এবার বিজেপির তিনজন প্রার্থী মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। তাদের মধ্যে দলের চেয়ারম্যান আন্দালিভ রহমান পার্থ ভোট করছেন ভোলা-১ আসনে গরুর গাড়ি প্রতীকে; আসন সমঝোতায় এখানে প্রার্থিতা প্রত্যাহার করে নিয়েছেন বিএনপির গোলাম নবী আলমগীর।

জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের সাতজন ভোট করেছিলেন নবম সংসদ নির্বাচনে; পাঁচজন দলের ‘খেঁজুর গাছ’ প্রতীক নিয়ে আর দুইজন ধানের শীষ প্রতীকে। এবার দলটির পাঁচজন প্রার্থী হয়েছেন। তাদের মধ্যে চারজন খেঁজুর গাছ প্রতীক নিয়ে আর একজন বিএনপিতে যোগ দিয়ে ধানের শীষ প্রতীকে ভোট করছেন।

রাজনৈতিক দলের নিবন্ধনপ্রথা চালুর পর জোটের প্রতীকে ভোটের বিষয়টি গত তিন নির্বাচনে বহাল থাকলেও এবার পাল্টে গেছে। জোট করলেও নিজ দলের প্রতীকে ভোট করতে হবে প্রার্থীকে।

ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে এসে বিএনপি তার শরিকদের জন্য অন্তত ১৬টি আসন ছেড়েছে। এরমধ্যে শরিকদের কেউ কেউ দল ছেড়ে বা বিলুপ্ত বিএনপিতে যোগ দিয়ে ধানের শীষে ভোট করছেন।

আর জামায়াতের সাথে জোট করেছে ১০ দল। ২৫৩ আসন শরিকদের মধ্যে ভাগাভাগি হয়েছে, বাকি আছে ৪৭ আসন। জোটে বড় দল হিসেবে জামায়াত ১৭৯ আসন পেয়েছে।

অর্থাৎ অন্য যেসব আসনে দলটি প্রার্থী দিয়েছে সেখান থেকে তাদের সরে দাঁড়াতে হবে, একইভাবে জোট শরিকরাও তাদের প্রার্থী প্রার্থী করে নেবেন। এ জোটের শরিকরা সবাই নিজ নিজ প্রতীকে ভোট করছে।

২০০৮ সালে নবম সংসদ নির্বাচনে জামায়াত ছিল বিএনপি নেতৃত্বাধীন চার দলীয় জোটের অন্যতম শরিক। তারা অন্তত ৩৪টি আসনে ছাড় পায়, যদিও ভোট করেছিল নিজেদের প্রতীকে।

ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে জোটের প্রতীক নিয়ে গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও) এ নতুন সংস্কার আনায় বিএনপি বিধানটি সংশোধনের দাবি জানিয়েছিল; জামায়াত ও এনসিপি সংশোধিত বিধানটি বহালের পক্ষে অবস্থান নেন।

বিএনপির তরফে পুরনো বিধানে ফিরে যাওয়ার জন্য নির্বাচন কমিশনে ধর্না দিয়েছিল; পরে আইন উপদেষ্টার কাছেও সুপারিশ করা হয়। শেষ পর্যন্ত তাতে সরকারও সায় দেয়নি।

নির্বাচন বিশ্লেষক আব্দুল আলীম বলেন, অনেকগুলো দলের উদ্দেশ্য হচ্ছে বড় দলের সঙ্গে মোর্চা করে সংসদ সদস্য-এমপি পদ ‘বাগিয়ে নিয়ে পাঁচ বছর সময় পার করা’। “এ প্রচেষ্টাটা এখনও বন্ধ হয়নি, এটা থাকছে।”

তবে জোটের বড় দলের প্রতীকে নির্বাচন করা বন্ধ হওয়ায় তাৎক্ষণিক প্রভাব তুলে ধরে তিনি বলেন “কয়েকটা ছোট দলের বড় নেতারা বড় দলে যোগদান করলেন। এটা একই রকম প্রভাব। তাদের মধ্যে ধারণা-ছোট দলের প্রতীক নিয়ে জিততে পারবে না, এজন্য বড় দলে যোগ দেয়। এর দীর্ঘ মেয়াদি প্রভাব হচ্ছে-ভবিষ্যতে যেটা হবে, যখন নিবন্ধন নেবে, দলের আদর্শ ও প্রতীক নিয়ে জনগণের কাছে যেতে হবে। কথা বলতে হবে, তাদের পরিচয় রয়েছে।”

বড় দলের কাছ থেকে সুবিধা নিতে আগামীতে এভাবে দল গঠনের চেষ্টা থাকবে না বলেও মনে করেন এ নির্বাচন বিশ্লেষক।

আব্দুল আলীম বলেন, “যারা অ্যালায়েন্স করে নিজের প্রতীক না নিয়ে এরকম নির্বাচন করতে চায়-তারা থাকবে না। ওই রকম পার্টি, ভূঁইফোড় রাজনৈতিক পার্টি থাকে না। ছোট হলেও যেগুলো সত্যিকারের রাজনৈতিক দল-আমার আদর্শ আছে একটা, হোক ছোট দল-এটা নিয়ে জনগণের কাছে যাবো, শুধু তারাই টিকে থাকবে, তারা দল করবে। ভূঁইফোড় সংগঠন থাকবে না।”

তবে দলের গঠনতন্ত্র মেনে নিজেদের মধ্যে গণতন্ত্র চর্চা না হওয়ার জের এখনও দলগুলোর মধ্যে রয়ে গেছে; বিশেষ করে তৃণমূলের মতামতের ভিত্তিতে দলীয় মনোনয়ন বোর্ড প্রার্থী বাছাইয়ের কাজটি করতে হবে, যা দেখা যায়নি এবারও।

নির্বাচন ব্যবস্থা সংস্কার কমিশনের এই সদস্য বলেন, “নিবন্ধিত হলে দলগুলোকে কিছু নিয়ম-কানুন মানতে হবে। নিবন্ধনের অন্যতম উদ্দেশ্য হচ্ছে-অভ্যন্তরীণ গণতন্ত্র চর্চা করা। এবার দলগুলো যে নমিনেশন দিয়েছে, বেশিরভাগ পার্টির কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্ত। তৃণমূল থেকে কোনো প্যানেল বা সুপারিশ আসেনি, বা উদ্যাগ নেওয়া হয়নি। “শুধু জয়ের বিষয়টাকে প্রাধান্য দিয়েছে, গণতন্ত্রের দিকে তাকায়নি। এটা দুর্ভাগ্যজনক; এতে পার্টির অভ্যন্তরীণ গণতন্ত্র ক্ষতিগ্রস্ত হবে।”

যেভাবে প্রার্থিতা প্রত্যাহার
আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ভোটগ্রহণের দিন রেখে জাতীয় নির্বাচনের প্রার্থী চূড়ান্ত করার কাজ এগিয়ে নিচ্ছে নির্বাচন কমিশন, এখন মনোনয়নপত্র বাতিলের বিরুদ্ধে প্রার্থিতা ফেরতের আপিল নিষ্পত্তির কাজ চলছে। রোববার পর্যন্ত চলবে শুনানি।

২০ জানুয়ারি প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ দিন। পরের দিন প্রতীক বরাদ্দ হবে। তার পরের দিন থেকে শুরু হবে প্রার্থীদের আনুষ্ঠানিক প্রচার।

আপিল শুনানির অষ্টম দিনে শনিবার আরও ৪৪ জন প্রার্থিতা ফিরে পেয়েছেন। এ নিয়ে আট দিনের শুনানিতে নির্বাচন কমিশন (ইসি) থেকে প্রায় ৪০০ জন প্রার্থিতা ফিরে পেয়েছেন। এ নিয়ে মোট বৈধ প্রার্থীর সংখ্যা দাঁড়াল ২ হাজার ২৩৭।

চট্টগ্রামের একজন প্রার্থী শুক্রবার বলেন, “আমাদের ১০ দলের জোট হয়েছে। আমার আসনে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত কেন্দ্র থেকে এলে আমাকে প্রত্যাহার করতে হবে, ২০ জানুয়ারি পর্যন্ত সময় রয়েছে।” তিনি বলেন, “মনোনয়নপত্র জমার আগে দলীয় প্রত্যয়ন নেওয়ার সময় দল আমাদের কাছ থেকে প্রত্যাহারপত্রেও স্বাক্ষর নিয়ে রেখেছে। এখন দলীয় সিদ্ধান্ত যেভাবে হয়, সেভাবে করতে হবে, দলের কাছে আমাদের কপিও রয়েছে।”

নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ বলেন, “১৮ জানুয়ারি পযন্ত আপিল শুনানি হবে। অনেকে প্রার্থিতা ফিরে পাচ্ছেন, তারা বৈধ প্রার্থী হিসেবে যোগ হবে। ২০ জানুয়ারির মধ্যে আইন-বিধি মেনেই যারা প্রত্যাহার করতে চান তাদের সময় রয়েছে; এরপরই প্রতিদ্বন্দ্বি প্রার্থী চূড়ান্ত হবে, যারা প্রতীক পাবেন।”

ভোটে অংশ নেওয়া দলের প্রার্থী ও স্বতন্ত্র প্রার্থীদের জন্য ‘লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড’ তৈরির পাশাপাশি নির্বিঘ্ন পরিবেশ নিশ্চিত করা হবে, বলেন তিনি।

ঢাকা ১৩ ও ১৫ আসনের রিটার্নিং অফিসার ইউনুচ আলী বলেন, প্রার্থিতা প্রত্যাহারের ক্ষেত্রে প্রার্থীকে স্বয়ং আসতে হবে বা তার মনোনীত ব্যক্তি নির্ধারিত পদ্ধতিতে প্রত্যয়ন নিয়ে আবেদন করতে পারবেন। স্বতন্ত্র প্রার্থীদের পাশাপাশি দলীয় প্রার্থীদেরও বিধি মেনে তা করতে হবে। একই আসনে এক দলের একাধিক প্রার্থী থাকলে কে চূড়ান্ত মনোনয়ন পাবেন, তা দল ঠিক করে জানাবে।

জোটে করলেও প্রতীক নিজ দলের, সেক্ষেত্রে এবার প্রতীক বরাদ্দ দলীয় প্রার্থীর জন্য নির্ধারিত রয়েছে। স্বতন্ত্র প্রার্থীদের পছন্দকে অগ্রাধিকার দিয়ে তাদের প্রতীকও বরাদ্দ দেওয়া হবে।

শরিকদের জন্য বিএনপির ছাড়
বিএনপি সবশেষ জাতীয় নির্বাচনে অংশ নিয়েছিল, তাও প্রায় আট বছর হল, ২০১৮ সালে একাদশ সংসদ নির্বাচনে বিএনপি তার ২০ দলীয় জোটের বাইরে গণফোরামসহ কয়েকটি দলের সঙ্গে জাতীয় ঐক্য ফ্রন্ট গঠন করে।

জাতীয় ঐক্য ফ্রন্টের শরিকদের ১৯টি এবং জামায়াত বাদে ২০ দলীয় জোটের অন্য শরিকদের ১৭ আসন ছেড়েছিল বিএনপি।

জামায়াতকে ছাড় দেওয়া হয় ২২ আসনে, নিবন্ধন না বাতিল থাকায় দলের একজন বাদে সবাই ধানের শীষ প্রতীকে ভোট করেন। সে নির্বাচন জামায়াত কোনো আসনে জয় পায়নি। বিএনপি ও গণফোরাম পেয়েছিল যথাক্রমে ছয় ও দুই আসন।

এবার একই আসনে একাধিক প্রার্থীসহ বিএনপির ৩৩১ জন মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছে। একাদশ সংসদ নির্বাচনে ২৪২ আসনে এবং তার আগে নবম সংসদ নির্বাচনে ২৬০ জন প্রার্থী দিয়েছিল দলটি।

গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও) সংশোধনের ফলে এবার শরিকদের জন্য আসন কম ছাড় দিতে হয়েছে বিএনপিকে।

এবার জোটের সমঝোতায় নাগরিক ঐক্য, জাতীয় পার্টি (কাজী জাফর), জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশ, গণসংহতি আন্দোলন, বাংলাদেশের বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টি, এনপিপি ও গণঅধিকার পরিষদকে আসন ছেড়ে দেয় বিএনপি।

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ইতোমধ্যে বলেছেন, “আমাদের সঙ্গে যারা যুগপৎ আন্দোলন করেছিলেন তাদের সঙ্গে দীর্ঘ আলোচনা করে, আমরা যে সিদ্ধান্তগুলোতে একমত হতে পেরেছি, সেই আসনগুলোতে আমরা সমঝোতা করেছি,…যাদের সাথে নির্বাচনি সমঝোতা হয়েছে, নতুন নিয়ম অনুযায়ী তারা নিজ নিজ প্রতীকে অংশ নেবেন।”

বিএনপি দলীয়ভাবে দুই ধাপে ২৭২টি আসনে প্রার্থী ঘোষণা করেছিল। এ পর্যন্ত অন্য শরিকদের দিয়েছে ১৭টি আসন। সেই হিসেবে আরো ১১টি আসনের ফয়সালা বাকি থাকল।

বিএনপির শরিকদের সঙ্গে এ পর্যন্ত সমঝোতা হওয়া আসনগুলো হল-
>> বগুড়া-২ আসনে নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না।
>> পিরোজপুর-১ আসনে জাতীয় পার্টির (কাজী জাফর) মোস্তফা জামাল হায়দার। তিনি বিএনপিতে যোগ দিয়েছেন।
>> নড়াইল-২ আসনে ন্যাশনাল পিপলস পার্টি-এনপিপির একাংশের চেয়ারম্যান এ জে এম ফরিদুজ্জামান ফরহাদ। বিএনপি যোগ দিয়েছেন তিনি।
>> পটুয়াখালীর-৩ আসনে গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুর।
>> ঝিনাইদহ ৪ আসনে ধানের শীষে প্রার্থী গণঅধিকার পরিষদের সাধারণ সম্পাদক রাশেদ খাঁন দলে ছেড়ে বিএনপিতে যোগ দিয়েছেন।
>> ঢাকা-১২ আসনে বাংলাদেশের বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক।
>> ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৬ আসনে গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী জোনায়েদ সাকি।
>> কুমিল্লা-৭ আসনে ধানের শীষের প্রার্থী রেদোয়ান আহমেদ। লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি-এলডিপির মহাসচিব রেদোয়ান বিএনপিতে যোগ দিয়েছেন।
>> ঢাকা-১৩ আসনে ধানের শীর্ষের প্রার্থী জাতীয়তাবদাী গণতান্ত্রিক আন্দোলন-এনডিএমের চেয়ারম্যান ববি হাজ্জাজ। তিনি বিএনপিতে যোগ দিয়েছেন।
>> লক্ষ্মীপুর-১ আসনে ধানের শীষের প্রার্থী বিএলডিপির প্রেসিডেন্ট শাহাদাত হোসেন সেলিম দল বিলুপ্ত করে বিএনপিতে এসেছেন।
>> কিশোরগঞ্জ-৫ আসনে ধানের শীষের প্রার্থী সৈয়দ এহসানুল হুদা। বাংলাদেশ জাতীয় দল বিলুপ্ত করে তিনি বিএনপিতে এসেছেন।

জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের সঙ্গে নির্বাচনি সমঝোতায় চার আসন ছেড়ে দেওয়ার ঘোষণা দেয় বিএনপি। পরে আরও একটি যোগ হয়, যিনি বিএনপিতে যোগ দিয়ে ধানের শীষে ভোট করছেন।
>> সিলেট-৫ আসনে জমিয়তের সভাপতি মোহাম্মদ উবায়দুল্লাহ ফারুক।
>> ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনে দলের সহ-সভাপতি জুনায়েদ আল হাবিব।
>> নীলফামারী-১ আসনে জমিয়তের মহাসচিব মঞ্জুরুল ইসলাম আফেন্দী।
>> নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনে দলের কেন্দ্রীয় নেতা মনির হোসেন কাসেমী।
>> যশোর-৫ আসনে জমিয়তের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রশীদ আহমাদ বিএনপি প্রত্যয়ন নিয়ে ধানের শীষের প্রার্থী হয়েছে। তিনি সাবেক ধর্ম প্রতিমন্ত্রীর মুফতি মুহাম্মদ ওয়াক্কাসের ছেলে।

এছাড়া ভোলা-১ আসনে বিজেপি প্রার্থী আন্দালিব রহমান পার্থকে সমর্থন দিতে বিএনপি প্রার্থী ইতোমধ্যে সরে দাঁড়িয়েছেন।

জামায়াত জোটের সমঝোতা
এবার বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর ২৭৬ জন মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছে। এরমধ্যে একক প্রার্থী থাকবে দলটির ১৭৯ জন। নবম সংসদ নির্বাচনে দলটির ৩৯ জন প্রতিদ্বন্দ্বিতায় ছিল।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সমঝোতার ভিত্তিতে ২৫৩ আসনে প্রার্থী ঘোষণা করেছে জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন জোট ‘১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক‍্য’।

ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশকে ছাড়াই আসন সমঝোতা হল জোটের বাকি ১০ দলের। এ সমঝোতার ২৫৩ আসনের মধ্যে জামায়াত ১৭৯, জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) ৩০, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস ২০, খেলাফত মজলিস ১০, লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি (এলডিপি) ৭, আমার বাংলাদেশ (এবি) পার্টি ৩, বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টি ২ ও বাংলাদেশ ডেভলপমেন্ট পার্টি ২।

শরিক অন্য দুটি দল জামায়াতের নির্বাচনি ঐক্যে থাকলেও প্রার্থী দেবেন, এমন খবর এসেছে সংবাদমাধ্যমে।

জামায়াতের জোটে না গিয়ে শেষ পর্যন্ত ২৬৮ আসনে এককভাবে নির্বাচন করার ঘোষণা দিয়েছে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ। বাকি ৩২ আসনে অন্যদের সমর্থন দেবে দলটি।

- মঈনুল হক চৌধুরী, বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর

বিষয়:

এলাকার খবর

সম্পর্কিত