ঝিনাইদহের মহেশপুর উপজেলার শ্যামপুর সীমান্তে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)-এর গুলিতে মো. রুবেল মিয়া (৩০) নামে এক বাংলাদেশি যুবক গুরুতর আহত হয়েছেন। সোমবার রাতে এ ঘটনা ঘটে। আহত রুবেলকে প্রথমে যশোর জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হলেও পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। সীমান্তে এ ধরনের গুলিবর্ষণের ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে। আহত রুবেল মিয়া মহেশপুর উপজেলার শ্যামপুর মাঠপাড়া গ্রামের মজিবুল খানের ছেলে। তিনি একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করেন বলে জানিয়েছেন পরিবারের সদস্যরা। বিজিবির মহেশপুর-৫৮ ব্যাটালিয়নের সহকারী পরিচালক মুন্সি এমদাদুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, সীমান্ত এলাকায় গুলিবিদ্ধ হওয়ার ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। বিষয়টি নিয়ে প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ এবং তদন্ত কার্যক্রম চলছে। রুবেলের স্ত্রী সানজিদা বেগম জানান, সোমবার রাতে তার স্বামী নিজ বাড়ির উঠানে দাঁড়িয়ে ছিলেন। এ সময় হঠাৎ সীমান্তের দিক থেকে ছোড়া একটি গুলি তার বুকের বাম পাশের নিচের অংশে বিদ্ধ হয়। গুলিবিদ্ধ হওয়ার পর পরিবারের সদস্যরা দ্রুত তাকে উদ্ধার করে যশোর জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পর অবস্থার অবনতি হওয়ায় মঙ্গলবার সকালে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। তিনি বলেন, “আমার স্বামী বাড়ির উঠানে দাঁড়িয়ে ছিলেন। হঠাৎ বিএসএফের ছোড়া একটি গুলি তার বুকের বাম পাশে নিচের অংশে লাগে। আমরা দ্রুত তাকে হাসপাতালে নিয়ে যাই। পরে চিকিৎসকদের পরামর্শে ঢাকা মেডিকেলে ভর্তি করা হয়েছে।” ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পুলিশ ক্যাম্পের পরিদর্শক মো. ফারুক জানান, ঝিনাইদহ থেকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় এক যুবক হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। পরিবারের সদস্যদের কাছ থেকে জানা গেছে, বিএসএফের ছোড়া গুলিতে তিনি আহত হয়েছেন। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট থানাকে জানানো হয়েছে এবং প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হচ্ছে। স্থানীয় সূত্র জানায়, মহেশপুর সীমান্ত দিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই বাংলাদেশ ও ভারতের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর কঠোর নজরদারি চলছে। তবে এর মধ্যেও মাঝেমধ্যে সীমান্ত এলাকায় গুলিবর্ষণ ও হতাহতের ঘটনা ঘটছে। এতে সীমান্তবর্তী এলাকার বাসিন্দাদের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে। সীমান্ত নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, দুই দেশের মধ্যে বিদ্যমান সীমান্ত ব্যবস্থাপনা জোরদার হলেও প্রাণঘাতী অস্ত্রের ব্যবহার কমাতে কার্যকর উদ্যোগ প্রয়োজন। মানবাধিকার সংগঠনগুলোও দীর্ঘদিন ধরে সীমান্তে প্রাণঘাতী গুলি ব্যবহার বন্ধ করে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার নীতিমালা অনুসরণের দাবি জানিয়ে আসছে। এদিকে, ঘটনার পর বিজিবি বিষয়টি নিয়ে প্রয়োজনীয় অনুসন্ধান শুরু করেছে। তবে এ বিষয়ে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয়রা আশা করছেন, ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটন এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে দুই দেশের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কার্যকর পদক্ষেপ নেবে।