ডোমিনিকার নাগরিকত্ব গ্রহণের অভিযোগ তুলে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও ঢাকা-১১ আসনের সংসদ সদস্য প্রার্থী নাহিদ ইসলামের প্রার্থিতা স্থগিত চেয়ে হাইকোর্টে রিট আবেদন করা হয়েছে। সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) ঢাকা-১১ আসনের জাতীয় পার্টির (জাপা) প্রার্থী শামীম আহমেদ এ রিট দায়ের করেন। রিটে নির্বাচন কমিশনের সচিব, সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং কর্মকর্তা ও নাহিদ ইসলামকে বিবাদী করা হয়েছে। নাহিদের পক্ষে আইনজীবী মোহাম্মদ মজনু মোল্যা দৈনিক আজাদকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। রিটে কী বলা হয়েছে রিট আবেদনে উল্লেখ করা হয়, নাহিদ ইসলাম গত বছরের ২০ এপ্রিল ডোমিনিকার নাগরিকত্ব গ্রহণ করেন। সংবিধান ও বিদ্যমান নির্বাচন আইন অনুযায়ী দ্বৈত নাগরিকত্ব থাকা অবস্থায় কেউ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রার্থী হতে পারেন না। সে কারণে নাহিদের মনোনয়ন অবৈধ ঘোষণা করে তার প্রার্থিতা স্থগিতের আবেদন জানানো হয়েছে। রিটে আরও বলা হয়, নির্বাচন কমিশন নাহিদের নাগরিকত্ব সংক্রান্ত বিষয়টি যথাযথভাবে যাচাই না করেই তার মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করেছে, যা আইনের পরিপন্থী। হাইকোর্টে শুনানি বিচারপতি ফাতেমা নজিবুর রহমানের নেতৃত্বাধীন হাইকোর্ট বেঞ্চে এ রিটের শুনানি হতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট আইনজীবীরা জানিয়েছেন। শুনানি শেষে আদালত নোটিস জারি, রুল বা আদেশ দিতে পারেন। ঢাকা-১১ আসনের ভোটার চিত্র ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের ২১, ২২, ৩৭, ৩৮, ৩৯, ৪০, ৪১ ও ৪২ নম্বর ওয়ার্ড এবং সবুজবাগ এলাকার ২৩ নম্বর ওয়ার্ড নিয়ে গঠিত ঢাকা-১১ সংসদীয় আসন। এ আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ৪ লাখ ৩৯ হাজার ৭৮ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ২ লাখ ২২ হাজার ৮৭৭ জন, নারী ভোটার ২ লাখ ১৬ হাজার ১৯৮ জন এবং তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার রয়েছেন ৩ জন। পাল্টাপাল্টি আইনি লড়াই উল্লেখ্য, একই আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী এম এ কাইয়ুমের প্রার্থিতা বাতিল চেয়ে আগে হাইকোর্টে আবেদন করেছিলেন নাহিদ ইসলাম। সেই আবেদন খারিজ হলে তিনি আপিল বিভাগের চেম্বার জজ আদালতে আবেদন করেন। চলমান নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় পাল্টাপাল্টি এই আইনি লড়াই ঢাকা-১১ আসনের রাজনীতিকে আরও আলোচনায় নিয়ে এসেছে। রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, দ্বৈত নাগরিকত্ব সংক্রান্ত অভিযোগ যদি আদালতে প্রাথমিকভাবে গ্রহণযোগ্য হয়, তাহলে এটি শুধু নাহিদ ইসলামের প্রার্থিতাই নয়, বরং পুরো নির্বাচনী সমীকরণে প্রভাব ফেলতে পারে। একই সঙ্গে নির্বাচন কমিশনের যাচাই প্রক্রিয়া নিয়েও নতুন করে প্রশ্ন উঠতে পারে।