প্রকাশ :: ... | ... | ...

দাম বাড়ানোর পরও প্রতি লিটার ডিজেলে লোকসান দিতে হবে ৭০ টাকা : রিজভী


সংযুক্ত ছবি

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবীর রিজভী বলেছেন, আমাদের এক লিটার ডিজেল কিনতে হয় ২০৫ টাকা দিয়ে। জনগণের কাছে আগে সেটা বিক্রি করতে হতো ১১৫ টাকা লিটার। এতে ৯০ টাকা লোকসান দিতে হতো। মূল্য সমন্বয়ের (লিটারে ২০ টাকা বাড়ানোর পর) পর এখনো ৭০ টাকা লোকসান দিতে হবে। কই এই কথাগুলো তো আপনারা (জামায়াত) বলেননি। এটা তো সরকারের পক্ষ থেকে সুস্পষ্টভাবে বলা হয়েছে। মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) জাতীয় প্রেস ক্লাবে ‘গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠায় সরকার ও বিরোধী দলের ভূমিকা’ শীর্ষক আলোচনাসভায় তিনি এসব কথা বলেন। সভার আয়োজন করে জাতীয়তাবাদী সমমনা জোট। রিজভী বলেন, গণতান্ত্রিক আন্দোলনে অংশগ্রহণ করা কিছু রাজনৈতিক দলের সুর কিছুটা ভিন্নতর দেখছি। তারা কখনো লং মার্চে চট্টগ্রাম যাচ্ছেন, কখনো রংপুর যাচ্ছেন। কিন্তু আমার একটি প্রশ্ন, জনগণের প্রতি যদি আপনাদের দায়বদ্ধতা থাকে, তাহলে রংপুরে আপনারা গেলেন, সেখানে আপনাদের সংগঠন আছে, আপনাদের এমনি গিয়েও বক্তৃতা করতে পারতেন। ৪৫০টি গাড়ি নিয়ে আপনারা সেখানে গেলেন। জ্বালানিসংকটের সময় এত গাড়ি নিয়ে ঢাকা থেকে একেবারে উত্তরাঞ্চলে গেলেন। এত গাড়ির যে জ্বালানি পুড়ল, তো সেটা হতে দিলেন কেন? বরং ওটা যদি না পুড়ত, তাহলে অনেক সাশ্রয় হতো। যমুনা ব্রিজের টোলের হিসাবে গেছে ৪৫০ গাড়ি। এই হচ্ছে আপনাদের কাজ, যেটা আপনারা করছেন। জনমনে একটা ধোঁয়াশা তৈরি করার জন্য আপনারা এই কর্মসূচি করছেন। তিনি বলেন, জামায়াত দাবি করেছে, ওরা এক হাজার গাড়ি নিয়ে গেছে। আমি একটা অফিশিয়াল তথ্য দিলাম। তার মানে কিছু গাড়ির তারা টোল দেননি, ওটা ওই হিসাবে আসে। টোল যারা আদায় করে তারা ভয় পায়, বাবা! এত বড়, এত লোক! হয়তো নেয়নি। তো এই যদি পরিস্থিতি হয়, তাহলে আমরা এবং দেশের মানুষ কী করবে? জামায়াতের সমালোচনা করে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব বলেন, জ্বালানির সংকট আপনারা উপলব্ধি করার পরেও জনগণকে নানা ধরনের বিভ্রান্তিমূলক বক্তব্য-তথ্য দিচ্ছেন। ব্যক্তিগতভাবে আক্রমণ করছেন। তারপর এখন দেখছি মধ্যবাড্ডা, উত্তরা, মিরপুর, কাফরুলে বাসে আগুন দিতে। ট্রেনেও আগুন দিতে দেখছি। হাইকোর্টের সামনে ককটেল বিস্ফোরণ করা হচ্ছে। ইউনিভার্সিটির মেইন গেটের সামনে ককটেল বিস্ফোরণ করা হচ্ছে। এরা কারা? সব কি পতিত স্বৈরাচার? এখন আত্মস্বীকৃত সন্ত্রাসের বক্তব্য আসছে। সেই রাজনৈতিক দল, যারা এখন বিরোধী দলের ভূমিকা অবলম্বন করছে। আত্মস্বীকৃত সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে তারা যুক্ত এবং হুমকি তাদের মধ্য থেকে আসছে। তার নমুনা আপনারা দেখেছেন পরশুদিন মধ্যরাতে। এই সংগঠন, যারা ‘গুপ্ত’ বলে পরিচিত, তাদের ছাত্রসংগঠন রাজশাহী রেলওয়ে স্টেশনে তাণ্ডব চালিয়েছে। নজিরবিহীন ভাঙচুর করে ধ্বংসাত্মক কাজ করেছে। তো এটার দায় কে নেবে? আপনারা দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি, চাঁদাবাজি, দুর্নীতির বিরুদ্ধে লং মার্চ করছেন। তো এই যে পরিকল্পিত সন্ত্রাস যে ছেলেগুলো করছে, ধ্বংসযজ্ঞ চালাচ্ছে, এর বিরুদ্ধে একটা লং মার্চ করুন। এর বিরুদ্ধে একটা প্রতিবাদ সভা বা বিক্ষোভ মিছিল করুন দেখি।