জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় বলছে, কোনো অনার্স কোর্স বন্ধের কোনো সিদ্ধান্ত তাদের নেই। উচ্চশিক্ষায় বাংলা, ইতিহাস, দর্শনসহ ছয় বিষয় বাদ পড়ছে বলে যে খবর প্রকাশিত হয়েছে তা ‘ভিত্তিহীন’ বলে উড়িয়ে দিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন। তিনি বলেছেন, “আমার জানামতে, এরকম কোনো আলোচনা হয়নি। আর বাংলা মাতৃভাষা, এটা কি বাদ দেওয়া যেতে পারে? এমন কোনো আলোচনা হয়নি। আমার জ্ঞাতসারে নেই। আমি জানি না এই নিউজ কোথা থেকে আসল- মঙ্গলবার দুপুরে সচিবালয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন। এদিন ইত্তেফাকের একটি প্রতিবেদনে বলা হয়, “দেশের উচ্চশিক্ষাকে কর্মমুখী করতে শিক্ষা কাঠামোতে সংস্কারের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নতুন খসড়া মডেল অনুযায়ী বাংলা, ইতিহাস, দর্শনসহ প্রায় ৬ বিষয়ের অনার্স কোর্স বাতিল করা হচ্ছে।” একই ধরনের খবর আরো কয়েকটি সংবাদমাধ্যমে প্রকাশ করা হয়েছে। এ বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, অনার্স কোর্স কমিয়ে আনা বা কোনো বিষয়ে অনার্স কোর্স বন্ধ করার কোনো সিদ্ধান্ত সরকারের নেই। এহছানুল হক মিলন বলেন, “আমরা কারিগরিকে ইম্পোর্টেন্স দিচ্ছি। আমরা আধুনিক করছি। আমরা মোর সাবজেক্ট যেগুলি মার্কেট ডিমান্ড রয়েছে, সেগুলিকে আমরা দেখছি; সেতো প্রতিনিয়ত আলোচনা হচ্ছে। কিন্তু বাংলা, দর্শন, ইতিহাস বাদ পড়বে—এই আলোচনা আমরা কোথাও শুনিনি এবং আমরাও কোথাও করিনি। মার্কেট ডিমান্ড অনুযায়ীতো কোর্স আমরা রেগুলারলি ইন্ট্রোডিউস করছি, প্রত্যেকটি বিশ্ববিদ্যালয় আমরা ইন্ট্রোডিউস করছি এবং প্রত্যেকটি লেভেলেই আমরা ইন্ট্রোডিউস করছি। বাট বাংলাকে বাদ দিয়ে, ইতিহাসকে বাদ দিয়ে; এমন কথা কোথাও হয়নি।” এদিন দুপুরে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলেছে, “জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের কোন অনার্স কোর্স বন্ধের ব্যাপারে সরকার কিংবা জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের কোন সিদ্ধান্ত নেই।” নতুন শিক্ষাক্রমে যুক্ত হচ্ছে ৪ বিষয় এদিকে সরকার ২০২৮ সাল থেকে যে নতুন শিক্ষাক্রম চালুর পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে, তাতে নতুন চারটি বিষয় যুক্ত করার কথা বলেছেন শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন। এরমধ্যে ক্রীড়া ও সংস্কৃতি নিয়ে দুটি বিষয় পড়তে হবে চতুর্থ শ্রেণি থেকে। আর ষষ্ঠ শ্রেণি থেকে যুক্ত হবে ‘কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষা’ এবং ‘লার্নিং উইথ হ্যাপিনেস’। এছাড়া নতুন শিক্ষাক্রমে বাংলা ও ইংরেজি ছাড়াও তৃতীয় ভাষা শিক্ষায় গুরুত্ব দেওয়া হবে। সেক্ষেত্রে কোনো একটি বিষয়ের সঙ্গে ‘বড় অধ্যায়’ যুক্ত হতে পারে। সোমবার বিকালে সচিবালয়ে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সম্মেলন কক্ষে সংবাদ সম্মেলনে এসে নতুন শিক্ষাক্রম নিয়ে বিভিন্ন পরিকল্পনা তুলে ধরে এহছানুল হক মিলন বলেন, "আমরা প্রথমত বিদ্যমান শিক্ষাক্রমকে সঠিকভাবে পরিমার্জন করে, বাস্তব সম্মতভাবে এটাকে আমরা রিভাইজ করে এই ২০২৭ সালে দিচ্ছি। আর টোটাল চেইঞ্জ যেটা আশা করছেন, সেটা আমরা কাজ শুরু করেছি। ২০২৮ সালে গিয়ে আপনারা সেটা দেখতে পারবেন, এখন নয়। কারিকুলাম খুব সুন্দর হচ্ছে এবং চারটি নতুন বিষয় যুক্ত হচ্ছে।" এরআগে প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা বিষয়ক উপদেষ্টা মাহদী আমিন নতুন শিক্ষাক্রমে চারটি নতুন বিষয় অন্তর্ভুক্ত হওয়ার কথা জানিয়ে বলেন, "১৬ বছরের সব সমস্যা হয়ত এক দিনে এক বছরে সমাধান করা যাবে না। আমরা বিশ্বাস করি, আমাদের সর্বোচ্চ আন্তরিকতা রয়েছে। যতটা দ্রুত সম্ভব আমরা প্রয়োজনীয় পরিবর্তন আনব। এখানে কারিকুলামের ভেতরে একটি অংশ রয়েছে, যেখানে প্রয়োজনীয় সংযোজন, বিয়োজন, পরিমার্জন করতে হবে। পাশাপাশি নতুন কিছু বিষয় আমরা যুক্ত করছি।” নতুন শিক্ষাক্রমে বাংলা ও ইংরেজি ছাড়াও তৃতীয় ভাষা শিক্ষাকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে মন্তব্য করে তিনি বলেন, "তৃতীয় ভাষার ওপর একটা বেশ বড় ধরনের চ্যাপ্টার আমাদের এক্সিস্টিং যে ফ্রেমওয়ার্ক আছে, তার ভেতরে আসবে। সুতরাং নতুন সাবজেক্ট অ্যাড হচ্ছে চারটা। নতুন একটা এক্সপ্যান্ডেড চাপ্টার অ্যাড হবে। সেগুলো কোনোটা ক্লাস ফোর থেকে, কোনোটা ক্লাস সিক্স থেকে। ” সংবাদ সম্মেলনে অন্যদের মধ্যে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ, মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সচিব আবদুল খালেক, কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের সচিব দাউদ মিয়া, মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক খান মইনুদ্দিন আল মাহমুদ সোহেল ও প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক শাহীনা ফেরদৌসী উপস্থিত ছিলেন। সূত্র : বিডিনিউজ