প্রকাশ :: ... | ... | ...

নারায়ণগঞ্জে ঘাটের দরপত্র: জামায়াত-বিএনপি-এনসিপির সংঘর্ষে দিনভর উত্তেজনা


সংযুক্ত ছবি

বক্তাবলী ঘাটের ইজারার দরপত্র জমাকে কেন্দ্র করে সদর উপজেলা পরিষদ চত্বরে এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।

নারায়ণগঞ্জে একটি খেয়াঘাটের ইজারার জন্য দরপত্র জমা দিতে এসে সংঘর্ষে জড়িয়েছেন বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী ও এনসিপির নেতাকর্মীরা। এতে উভয় পক্ষের কয়েকজন আহত হয়েছেন। সোমবার দুপুরে বক্তাবলী ঘাটের ইজারার দরপত্র জমাকে কেন্দ্র করে সদর উপজেলা পরিষদ চত্বরে এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। যদিও পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নিলেও উপজেলা পরিষদে দিনভর উত্তেজনা চলতে থাকে। প্রত্যক্ষদর্শীরা বলেন, বক্তাবলী খেয়াঘাটের ইজারার দরপত্র জমা দেওয়ার নির্ধারিত তারিখ ছিল সোমবার। এই ঘাটের ইজারা পেতে ক্ষমতাসীন দল বিএনপি নেতাদের পাশপাশি জামায়াতে ইসলামী ও এনসিপির অনুসারীরাও আগ্রহী। ফলে তারা সকাল থেকেই উপজেলা পরিষদ চত্বরে জড়ো হতে থাকেন। ফতুল্লা থানা বিএনপির সভাপতি শহীদুল ইসলাম টিটুর বেশ কিছু অনুসারী ছাড়াও বক্তাবলী ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি নজরুল প্রধান, সাংগঠনিক সম্পাদক হালিম আজাদ, সাবেক চেয়ারম্যান রশিদ মেম্বার উপজেলা পরিষদ চত্বরে ছিলেন। অন্যদিকে জেলা এনসিপি আহ্বায়ক জুবাইর আহমেদ সরদার, সহসাংগঠনিক সম্পাদক তৌহিদুল ইসলামও তাদের অনুসারীদের নিয়ে যান পরিষদে। এ সময় ইউনিয়ন জামায়াতের আমির আবু বক্কর ছিদ্দিককেও দেখা যায়। দুপুর ১টার দিকে জামায়াতে ইসলামী এবং এনসিপি কর্মীরা দরপত্র জমা দিতে গেলে বাধা দেয় বিএনপি কর্মীরা। এ সময় বক্তাবলী ইউনিয়ন এনসিপির নেতা তাওহিদ প্রতিবাদ করলে তাকে এবং বক্তাবলী ইউনিয়ন জামায়াতের আমির আবু বকরকে মারধর করা হয় বলেও অভিযোগ ওঠে বিএনপি কর্মীদের বিরুদ্ধে। এরপর উপজেলা পরিষদের সামনে জড়ো হতে থাকে এনসিপির কর্মীরাও। দুপুর আড়াইটায় ফের হাতাহাতিতে জড়ালে পরিস্থিতি তিন দলের সংঘর্ষে রূপ নেয়। পরে পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। হামলার শিকার এনসিপি নেতা তাওহীদ বলেন, “সকাল থেকে ফতুল্লা থানা বিএনপির সভাপতি টিটুর অনুসারীরা আমাদের ভেতরে ঢুকতে দিচ্ছিল না। আমরা এর প্রতিবাদ করলে তারা আমাদের মারধর করে। আমি এবং জামায়াতের আমির আবু বকর আহত হই তাদের মারধরে। আমাকে মারধর করার খবর পেলে আমাদের কর্মীরা উপজেলায় জড়ো হয়। তখন বিএনপির নেতাকর্মীরা ফের উসকানি দিয়ে মারামারিতে জড়ায়।” বক্তাবলী ইউনিয়ন জামায়াতে ইসলামীর আমির আবু বকর বলেন, “এনসিপি নেতা তাওহীদকে বাঁচাতে গিয়ে আমি মারধরের শিকার হই। আমার পরিচিত দুই ছোট ভাই মোকলেসিন ও শাহীন দরপত্র জমা দিতে আসে। মারামারি ও বিএনপির বাধার কারণে তারা দরপত্র জমা দিতে পারেনি।” তিনি অভিযোগ করে বলেন, “বক্তাবলী ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি নজরুল ইসলাম প্রধানের নেতৃত্বে ইউনিয়নের সাংগঠনিক সম্পাদক হালিম, ইউনিয়ন যুবদলের সেক্রেটারি আবুল খায়ের, ৩ নম্বর ওয়ার্ড যুবদলের সভাপতি মোজাম্মেল প্রধান আমাদের মারধর করেছে।” এ বিষয়ে ফতুল্লা থানা বিএনপির সভাপতি শহিদুল ইসলাম টিটু বলেন, “আমরা সমঝোতার মাধ্যমে সবকিছু করার চেষ্টা করি যেন ঝুট-ঝামেলা না হয়। গতরাত থেকেই আমি জামায়াত, এনসিপির নেতাকর্মীদের সঙ্গে আলোচনা করে বলেছি যে, সম্মিলিতভাবে ব্যবসা করার জন্য। কিন্তু সেটা সম্ভব হয়নি। আমি ইউএনও ও ওসির সঙ্গে কথা বলেছি। এটা একটা অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা। মিলেমিশেই কাজটি করা যেত।” এ বিষয়ে সদর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এস এম ফয়েজ উদ্দিন বলেন, “দুপুরে দরপত্র জমা দেওয়াকে কেন্দ্র করে দুপক্ষ বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা করে। পুলিশ দ্রুত তাদের ছত্রভঙ্গ করে দিয়েছে। এখানে মারামারি বা সংঘর্ষের মত ঘটনা ঘটেনি। সুষ্ঠুভাবেই দরপত্র গ্রহণ করা হয়েছে।” সূত্র : বিডিনিউজ