সুস্থ হয়ে দায়িত্বে ফেরার ঘোষণা অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলমের, ‘ক্যাম্পাসে আর ফিরব না—এমন শর্ত ছিল না’ পদত্যাগ করে কিংবা ভবিষ্যতে ক্যাম্পাসে আর ফিরবেন না—এমন কোনো শর্তে চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) ক্যাম্পাস ছাড়েননি বলে জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়টির উপাচার্য অধ্যাপক ড. শেখ শরীফুল আলম। অসুস্থতার কারণে তাঁকে ক্যাম্পাসের বাইরে যেতে হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেছেন, সুস্থ হয়ে আবারও বিশ্ববিদ্যালয়ের দায়িত্ব পালন করবেন। বিভিন্ন গণমাধ্যমে পাঠানো এক প্রতিবাদলিপিতে উপাচার্য এসব কথা বলেন। তাঁর বক্তব্য না নিয়ে পদত্যাগ এবং ভবিষ্যতে ক্যাম্পাসে না ফেরার শর্তে তাঁকে বের করে নেওয়া হয়েছে—এমন খবর প্রকাশের প্রতিবাদ জানিয়েছেন তিনি। প্রতিবাদলিপিতে অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলম জানান, গত মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) প্রায় ৩০ ঘণ্টা অবরুদ্ধ থাকার পর চুয়েটের প্রশাসনিক ভবনে নিজ কার্যালয় থেকে চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারের উপস্থিতিতে তাঁকে ক্যাম্পাসের বাইরে নিয়ে যাওয়া হয়। এ ঘটনার পর কয়েকটি গণমাধ্যমে তিনি আর কখনো ক্যাম্পাসে ফিরবেন না—এমন শর্তে তাঁকে বের হতে দেওয়া হয়েছে বলে খবর প্রকাশিত হয়। কোনো কোনো প্রতিবেদনে তাঁর পদত্যাগের কথাও বলা হয়েছে। উপাচার্য বলেন, এ ধরনের কোনো বক্তব্য বা বিবৃতি তিনি দেননি। তাঁর বক্তব্য না নিয়ে অসত্য ও ভিত্তিহীন তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে, যা দুঃখজনক ও অনভিপ্রেত। অবরুদ্ধ অবস্থায় অসুস্থ হয়ে পড়ার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, গত সোমবার দুপুর ১২টা থেকে বিদ্যুৎবিহীন অবস্থায় তাঁকে অবরুদ্ধ করে রাখা হয়েছিল। এতে তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতি হয়। একই সময়ে সেখানে অবস্থানরত আরও কয়েকজন অসুস্থ হয়ে পড়েন। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, প্রায় ১১ জন অসুস্থ হন। এর আগে সোমবার রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই সাবেক শিক্ষার্থীও অসুস্থ হয়ে পড়েন। তাঁদের একজনকে হাসপাতালে ভর্তি করতে হয়। পরে সরকারি চিকিৎসক ও সিভিল সার্জনের পরামর্শে তাঁকেও হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে হয় বলে প্রতিবাদলিপিতে উল্লেখ করেন উপাচার্য। ক্যাম্পাস থেকে বের করে নেওয়ার সময় তিনি কথা বলার মতো অবস্থায় ছিলেন না বলেও জানান। বর্তমানে তিনি অসুস্থ এবং চিকিৎসকদের নিবিড় পর্যবেক্ষণে রয়েছেন। অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলম বলেন, ‘সুস্থ হয়ে আমি আবারও বিশ্ববিদ্যালয়ের দায়িত্ব পালন করব, ইনশা আল্লাহ।’ রাষ্ট্রের অর্পিত দায়িত্ব পালন করতেই চট্টগ্রামে এসেছেন উল্লেখ করে তিনি বলেন, ব্যক্তিগত স্বার্থ, বিশেষ কোনো এজেন্ডা কিংবা দলীয় উদ্দেশ্য নিয়ে তিনি দায়িত্ব গ্রহণ করেননি। বিশ্ববিদ্যালয়ের দায়িত্ব পালন এবং প্রাতিষ্ঠানিক কার্যক্রম সচল রাখাই তাঁর কাছে গুরুত্বপূর্ণ। আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে উপাচার্য বলেন, কোনো স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠীর প্ররোচনায় পড়ে কিংবা কারও দ্বারা ব্যবহৃত হয়ে তাঁরা যেন নিজেদের শিক্ষাজীবন ও একাডেমিক কার্যক্রমের ক্ষতি না করেন। শিক্ষার্থীদের দ্রুত শ্রেণিকক্ষে ফিরে আসার আহ্বান জানিয়ে তিনি তাঁদের নিজের অ্যালামনাই ছোট ভাই-বোন হিসেবে উল্লেখ করেন। প্রকাশিত সংবাদে তথ্যের সত্যতা যাচাই, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বক্তব্য গ্রহণ এবং বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতার নীতি অনুসরণের জন্য গণমাধ্যমগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন উপাচার্য। কোনো প্রতিবেদনে ভুল বা বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রকাশিত হয়ে থাকলে তা সংশোধন করে প্রকৃত ঘটনা তুলে ধরার অনুরোধও জানিয়েছেন তিনি। উপাচার্যের এই বক্তব্যের মধ্য দিয়ে ক্যাম্পাস ছাড়ার ঘটনাকে ঘিরে প্রকাশিত খবরের বিষয়ে তাঁর অবস্থান স্পষ্ট হয়েছে। তবে বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান পরিস্থিতি, শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের অবস্থা এবং তাঁর দায়িত্বে ফেরার বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া গেলে বিষয়টি আরও পরিষ্কার হবে।