জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে বিএনপির আয়োজিত সার্বভৌমত্ব র্যালিতে নেতাকর্মীদের সঙ্গে হেঁটে অংশ নিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। শনিবার বিকেলে রাজধানীর নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে সংক্ষিপ্ত সমাবেশে বক্তব্য দেওয়ার পর তাঁর নেতৃত্বে র্যালিটি শুরু হয়। এ কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে সকাল থেকেই রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে আসা নেতাকর্মীদের উপস্থিতিতে সরগরম হয়ে ওঠে নয়াপল্টন ও আশপাশের এলাকা। শনিবার (৭ নভেম্বর) বিকেল পৌনে ৩টার দিকে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে আসেন তারেক রহমান। বিকেল ৩টা ১৫ মিনিটে নাইটিঙ্গেল মোড় থেকে বিজয় সরণির বিমান মোড়ের অভিমুখে র্যালি যাত্রা শুরু করে। এর আগে বিকেল পৌনে ৩টা থেকে ৩টা ১০ মিনিট পর্যন্ত সংক্ষিপ্ত সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। সমাবেশে তারেক রহমান বলেন, গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়াই ছিল মুক্তিযুদ্ধের মূল লক্ষ্য। বাংলাদেশের মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার কেড়ে নিয়ে বাকশাল চাপিয়ে দেওয়া হয়েছিল। ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতা আবারও গণতান্ত্রিক অধিকার ফিরিয়ে এনেছে এবং স্বৈরাচারকে দেশ থেকে বিতাড়িত করেছে। তিনি বলেন, পরাজিত শক্তি এখন আবার ষড়যন্ত্র শুরু করেছে। যারা বাংলাদেশের মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার ও দেশের সার্বভৌমত্ব মেনে নিতে পারেনি, তাদের ষড়যন্ত্র থেমে থাকেনি। এ দেশের মানুষকে দাবিয়ে রাখা যাবে না। সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে আবারও ষড়যন্ত্র মোকাবিলা করতে হবে। দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে সবাইকে এক হওয়ার আহ্বান জানিয়ে বিএনপি চেয়ারম্যান বলেন, ‘আজকের র্যালি হোক দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষার র্যালি।’ কর্মসূচিকে ঘিরে দুপুর থেকেই নয়াপল্টনে নেতাকর্মীদের উপস্থিতি বাড়তে থাকে। রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা ছাড়াও দেশের বিভিন্ন জেলা ও মহানগর থেকে খণ্ড খণ্ড মিছিল নিয়ে তাঁরা সমাবেশস্থলে আসেন। বিএনপি এবং এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠন শ্রমিক দল, কৃষক দল, স্বেচ্ছাসেবক দলসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীদের উপস্থিতিতে পুরো পল্টন এলাকায় উৎসবমুখর পরিবেশ তৈরি হয়। কারও হাতে ছিল দলীয় পতাকা, কারও হাতে ব্যানার ও ফেস্টুন। দলীয় স্লোগানে মুখর হয়ে ওঠে আশপাশের সড়ক। র্যালিতে ব্যতিক্রমী আয়োজনও ছিল। ঢাকা মহানগর উত্তর জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি শেখ ফরিদ হোসেন পাঁচটি ঘোড়ার গাড়ি ও একটি হাতি নিয়ে বিশাল মিছিলসহ কর্মসূচিতে যোগ দেন। নয়াপল্টনে ঘোড়ার গাড়ি ও হাতির উপস্থিতি উৎসুক মানুষের দৃষ্টি আকর্ষণ করে। তারেক রহমানের সঙ্গে র্যালিতে অংশ নেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী আহমেদ, জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য ও প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মির্জা আব্বাস, জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য এবং অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, সমাজকল্যাণ ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রী এজেডএম জাহিদ হোসেন, আমানউল্লাহ আমান ও ফরহাদ হালিম ডোনার। এ ছাড়া উপস্থিত ছিলেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ও মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আহমেদ আযম খান, ভাইস চেয়ারম্যান ও জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি, বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা ও ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আব্দুস সালাম, যুগ্ম মহাসচিব ও সংসদ সদস্য খায়রুল কবির খোকন, যুগ্ম মহাসচিব হাবিব উন-নবী-খান সোহেল, কোষাধ্যক্ষ ও বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী রশিদুজ্জামান মিল্লাত এবং প্রচার সম্পাদক ও মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু। দলীয় সূত্রে জানা গেছে, নয়াপল্টন থেকে শুরু হওয়া র্যালিটি কাকরাইল, প্রধান বিচারপতির বাসভবনের সামনের সড়ক, হেয়ার রোড, মিন্টো রোড, হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টাল মোড়, বাংলামোটর ও ফার্মগেট হয়ে জাতীয় সংসদ ভবনের সামনের মানিক মিয়া অ্যাভিনিউতে গিয়ে শেষ হওয়ার কথা রয়েছে।