ফেনীর পরশুরাম সীমান্তে বিএসএফের পুশ-ইন চেষ্টা ব্যর্থ করে দেয় বিজিবি। ছবি: সংগৃহীত
ফেনী ও দিনাজপুর সীমান্ত দিয়ে ভারতীয় নাগরিকদের বাংলাদেশে পুশ-ইনের পৃথক চেষ্টা প্রতিহত করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। ফেনীর পরশুরাম সীমান্তে শিশুসহ সাতজন এবং দিনাজপুরের বিরামপুর সীমান্তে নয়জনকে বাংলাদেশে ঠেলে দেওয়ার চেষ্টা করে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)। এ ছাড়া ঝিনাইদহের মহেশপুর সীমান্ত দিয়েও ছয়জনকে বাংলাদেশে পুশ-ইনের চেষ্টা করা হয় বলে জানিয়েছে স্থানীয় সূত্র। তবে বিজিবির সতর্ক অবস্থানের কারণে এসব চেষ্টা ব্যর্থ হয়। ফেনীর পরশুরাম উপজেলার মির্জানগর ইউনিয়নের পশ্চিম সাহেবনগর-দুর্গাপুর গ্রামের সীমান্ত এলাকায় শিশুসহ সাত ভারতীয় নাগরিককে বাংলাদেশে পুশ-ইনের চেষ্টা করা হয়। বিজিবির ফেনী ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল এম এম জিল্লুর রহমান জানান, শুক্রবার দিবাগত রাত আড়াইটার দিকে ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যের রাজনগরসংলগ্ন এমএলের বাগান এলাকায় এবং বিজিবির শ্রীপুর বিওপির দায়িত্বপূর্ণ ২১৪৫ নম্বর সীমান্ত পিলারের কাছে সাতজনকে জড়ো করে বিএসএফ। বিষয়টি জানতে পেরে শ্রীপুর ক্যাম্পের বিজিবি সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে অবস্থান নেন। বিজিবির পক্ষ থেকে জানানো হয়, এ সময় রাজনগর বিএসএফ ক্যাম্পের সদস্যরা সীমান্তরেখা অতিক্রম করে ওই সাতজনকে বাংলাদেশে প্রবেশ করানোর চেষ্টা করেন। কিন্তু বিজিবির সদস্যরা বাধা দিলে বিএসএফের পুশ-ইন প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয়। পরে শনিবার সকাল ১০টার দিকে বিএসএফ ওই সাতজনকে ভারতের অভ্যন্তরে ফিরিয়ে নিয়ে যায়। বিজিবি জানিয়েছে, প্রাথমিকভাবে ওই সাতজনের পরিচয় শনাক্ত করা হয়েছে। তারা সবাই ভারতের নাগরিক। তাদের মধ্যে ছয়জন নারী ও একজন শিশু রয়েছে। ঘটনার বিষয়ে লেফটেন্যান্ট কর্নেল এম এম জিল্লুর রহমান বলেন, ‘বিজিবির পক্ষ থেকে কড়া প্রতিবাদ জানানো হয়েছে। ঘটনার পর সীমান্তে যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়াতে বিজিবি সতর্ক রয়েছে।’ দিনাজপুরের বিরামপুর সীমান্তে বিএসএফের পুশ-ইন চেষ্টা ব্যর্থ করে দেয় বিজিবি। ছবি: সংগৃহীত এদিকে দিনাজপুরের বিরামপুর সীমান্তেও নয়জনকে বাংলাদেশে পুশ-ইনের চেষ্টা করা হয়েছে। শনিবার ভোর থেকে দুই দফায় উপজেলার খিয়ার মামুদপুর সীমান্তের ২৯১/২০-এস সীমানা পিলারের কাছ দিয়ে তাদের বাংলাদেশে ঠেলে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়। স্থানীয় সূত্র ও বিজিবি সদস্যদের বরাতে জানা গেছে, ভোর সাড়ে ৪টার দিকে বিএসএফ প্রথমবার ওই নয়জনকে বাংলাদেশ সীমান্তের অভ্যন্তরে পাঠানোর চেষ্টা করে। বিজিবি সদস্যরা বিষয়টি বুঝতে পেরে তাদের প্রবেশে বাধা দেন। পরে সকাল ৭টার দিকে বিএসএফের প্রায় ৩০ সদস্য আবারও তাদের বাংলাদেশে পাঠানোর চেষ্টা করেন। এ সময় বিজিবি সদস্য ও স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে বিএসএফ সদস্যদের বাগ্বিতণ্ডা হয়। বিএসএফের পক্ষ থেকে ওই নয়জনকে বাংলাদেশি নাগরিক বলে দাবি করা হলেও, বিজিবির পক্ষ থেকে যথাযথ প্রক্রিয়া ছাড়া তাদের বাংলাদেশে প্রবেশ করতে দেওয়া হয়নি। বিরামপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, ‘শনিবার ভোরে ওই নয়জনকে ভারত থেকে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে ঠেলে পাঠানোর চেষ্টা করে বিএসএফ। বিষয়টি বুঝতে পেরে টহলরত বিজিবি সদস্যরা তাদের প্রবেশে বাধা দেন।’ নাম প্রকাশ না করার শর্তে জয়পুরহাট ২০ বিজিবি ব্যাটালিয়নের এক সদস্য জানান, শনিবার বিকেল পর্যন্ত ২৯১/২০-এস সীমানা পিলারের কাছে ভারতের অভ্যন্তরে একটি বাঁশঝাড়ের নিচে ওই নয়জনকে বিএসএফ সদস্যদের সঙ্গে অবস্থান করতে দেখা গেছে। এ বিষয়ে বিএসএফের ভিমপুর ক্যাম্পের কমান্ডারকে জানানো হয়েছে। যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ না করে কাউকে ভারত থেকে বাংলাদেশে প্রবেশ করতে দেওয়া হবে না বলেও বিজিবির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। অন্যদিকে ঝিনাইদহের মহেশপুর সীমান্ত দিয়েও ছয়জনকে বাংলাদেশে পুশ-ইনের চেষ্টা করা হয়েছে বলে জানা গেছে। শনিবার ভোরে চার পুরুষ ও দুই নারীকে জোর করে বাংলাদেশে ঠেলে দেওয়ার চেষ্টা করে বিএসএফ। তবে বিজিবি সতর্ক অবস্থানে থাকায় ওই প্রচেষ্টাও ব্যর্থ হয়। সীমান্তে একসঙ্গে একাধিক পুশ-ইনের চেষ্টার ঘটনায় নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বিজিবির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, সীমান্তে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে এবং যেকোনো ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি মোকাবিলায় সদস্যরা সতর্ক অবস্থানে রয়েছেন। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, কোনো ব্যক্তিকে সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করানোর ক্ষেত্রে দুই দেশের প্রচলিত আইন ও যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ করা জরুরি।