ইংরেজি ও গণিতে কম পাসের কারণে সামগ্রিক ফলাফলে প্রভাব পড়েছে চলতি বছরের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় পাসের হার কমে যাওয়ার পেছনে ইংরেজি ও গণিত বিষয়ে শিক্ষার্থীদের তুলনামূলক দুর্বল ফলকে অন্যতম কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছেন মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড, ঢাকার চেয়ারম্যান প্রফেসর সৈয়দ আক্তারুজ্জামান। সোমবার (১০ আগস্ট) সকালে সচিবালয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশ উপলক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন। ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান বলেন, **“আমি সকল বোর্ডের রেজাল্ট পর্যালোচনায় দেখেছি, ইংরেজি ও গণিত—এই দুটি বিষয়ে আমরা যখন পরীক্ষা দিয়েছি, তখন থেকে এখন পর্যন্ত ফেলের হার বাড়িয়ে দেয় এবং পাসের হার কমিয়ে দেয়।”** তার বক্তব্য অনুযায়ী, দীর্ঘদিন ধরেই এসএসসি পর্যায়ে ইংরেজি ও গণিত বিষয়ে তুলনামূলক বেশি শিক্ষার্থী অকৃতকার্য হচ্ছে। ফলে এই দুই বিষয়ের ফলাফল সামগ্রিক পাসের হারে উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলে। এক বছরে পাসের হার কমেছে ৬ দশমিক ২০ শতাংশ চলতি বছরের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় সার্বিক পাসের হার দাঁড়িয়েছে ৬২ দশমিক ২৫ শতাংশ। গত বছর এই হার ছিল ৬৮ দশমিক ৪৫ শতাংশ। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে পাসের হার কমেছে ৬ দশমিক ২০ শতাংশ। এবার পরীক্ষায় মোট ১৮ লাখ ২৯ হাজার ৪৮৫ জন শিক্ষার্থী অংশ নিয়েছে। তাদের মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছে প্রায় ১১ লাখ ৪০ হাজার শিক্ষার্থী। ফলাফলে জিপিএ-৫ পাওয়ার সংখ্যাতেও এবার নিম্নমুখী প্রবণতা দেখা গেছে। মোট ১ লাখ ১৬ হাজার ৬৭৬ জন শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ পেয়েছে। কমেছে পাসের হার ও জিপিএ-৫ শিক্ষা সংশ্লিষ্টদের মতে, পরীক্ষার্থীর সংখ্যা, প্রশ্নের ধরন, বিষয়ভিত্তিক প্রস্তুতি এবং মূল্যায়ন পদ্ধতির মতো বিভিন্ন বিষয় পরীক্ষার ফলাফলে প্রভাব ফেলতে পারে। তবে ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যানের বক্তব্যে ইংরেজি ও গণিতকে বিশেষভাবে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। এবারের ফলাফল প্রকাশের পর সার্বিক পাসের হার কমে যাওয়ার পাশাপাশি কেন শিক্ষার্থীরা নির্দিষ্ট কিছু বিষয়ে বেশি অকৃতকার্য হচ্ছে, তা নিয়েও নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। শিক্ষার্থীদের ইংরেজি ও গণিতের ভিত্তি শক্তিশালী করতে বিদ্যালয় পর্যায়ে বিষয়ভিত্তিক পাঠদান, নিয়মিত অনুশীলন এবং দুর্বল শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষ সহায়তা কতটা কার্যকর করা যায়—সেটিও এখন শিক্ষাব্যবস্থার জন্য গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হয়ে উঠেছে।