প্রকাশ :: ... | ... | ...

বগুড়ায় জাপা কার্যালয় ঘিরে উত্তেজনা, ‘জুলাই যোদ্ধা’ পরিচয়ে গণভোট প্রচার


সংযুক্ত ছবি

বগুড়া জেলা জাতীয় পার্টির (জাপা) কার্যালয়কে কেন্দ্র করে উদ্ভূত উত্তেজনা এখন কেবল একটি দখল বা ব্যানার টাঙানোর ঘটনায় সীমাবদ্ধ নেই; বরং এটি স্থানীয় রাজনীতি, গণভোটের ভবিষ্যৎ এবং প্রশাসনিক অবস্থান নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে। শনিবার শহরের কবি নজরুল ইসলাম সড়কে জাপা কার্যালয়ে নিজেদের ‘জুলাই যোদ্ধা’ পরিচয় দেওয়া তরুণদের অবস্থান এবং গণভোট প্রচার ঘিরে এলাকায় রাজনৈতিক অস্বস্তি তৈরি হয়েছে। শনিবার বেলা ১১টার দিকে একদল তরুণ জাপা কার্যালয়ের সামনে বিক্ষোভ শুরু করে। এ সময় তারা বিএনপির প্রয়াত চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে শোক জানিয়ে টাঙানো ব্যানার খুলে ফেলে এবং ভেতরে ও বাইরে গণভোটের পক্ষে ব্যানার টাঙায়। ব্যানারগুলোতে ‘সংস্কার ও পরিবর্তন চাইলে হ্যাঁ এবং না চাইলে না-তে ভোট দিন’ এবং ‘সংস্কারের চাবি আমাদের হাতে’—এমন স্লোগান লেখা ছিল। বিক্ষোভকারীদের একজন নুর মোহাম্মদ জুবায়ের দাবি করেন, জাতীয় পার্টি আওয়ামী লীগের দোসর এবং এই দলকে নিষিদ্ধ করা উচিত। অন্যদিকে ২৪-এর শহীদ ও আহত যোদ্ধা সেলের রাজশাহী বিভাগীয় সংগঠক নাহিদুজ্জামান নাহিদ বলেন, কার্যালয়টি জাতীয় পার্টির নিজস্ব সম্পত্তি নয় এবং তারা সেখানে গণভোটের পক্ষে ক্যাম্পেইন করছেন, দখল করছেন না। তিনি আরও অভিযোগ করেন, জাতীয় পার্টির লোকজন তাদের ওপর হামলা চালিয়েছে, এ বিষয়ে থানায় সাধারণ ডায়েরি করা হয়েছে। তবে জেলা জাতীয় পার্টির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক লুৎফর রহমান স্বপন এসব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, জুলাই যোদ্ধা ও বৈষম্যবিরোধী সংগঠনের নামে কিছু যুবক জোরপূর্বক কার্যালয় দখল করে সাইনবোর্ড খুলে দিয়েছে এবং ব্যানার ঝুলিয়েছে। তিনি দাবি করেন, সরকার থেকে বৈধভাবে লিজ নেওয়া জমিতেই দলটির কার্যালয় পরিচালিত হচ্ছে। বগুড়া সদর থানার ওসি (তদন্ত) মাহফুজ আলম জানান, জাতীয় পার্টির কার্যালয়ে ব্যানার টাঙানোর বিষয়টি এবং হামলার অভিযোগ—উভয় বিষয়ই তদন্তাধীন রয়েছে। বিশ্লেষণ: আন্দোলন, নাকি ক্ষমতার শূন্যতা? রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বগুড়ার এই ঘটনা একটি বৃহত্তর রাজনৈতিক বাস্তবতার প্রতিফলন। জুলাই আন্দোলনের উত্তরাধিকার দাবি করা বিভিন্ন গ্রুপ এখন সাংগঠনিক কাঠামোর বাইরে থেকেও রাজনৈতিক জায়গা দখলের চেষ্টা করছে। বিশেষ করে গণভোটকে সামনে রেখে দলীয় কার্যালয়, প্রতীকী স্থাপনা বা পরিত্যক্ত ভবনকে কেন্দ্র করে অবস্থান নেওয়া নতুন এক ধরনের রাজনৈতিক কৌশল হিসেবে দেখা যাচ্ছে। একই সঙ্গে প্রশ্ন উঠছে প্রশাসনের ভূমিকা নিয়েও। প্রকাশ্য ব্যানার অপসারণ, দলীয় কার্যালয়ে প্রবেশ এবং পাল্টাপাল্টি অভিযোগের পরও তাৎক্ষণিক কোনো দৃশ্যমান প্রশাসনিক হস্তক্ষেপ না থাকায় স্থানীয় পর্যায়ে ‘ক্ষমতার শূন্যতা’ তৈরি হচ্ছে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা। এই শূন্যতা থেকেই ভবিষ্যতে আরও সংঘাত বা অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির জন্ম হতে পারে। বিশ্লেষকদের মতে, গণভোট বা সংস্কার প্রশ্নে রাজনৈতিক মতভেদ স্বাভাবিক হলেও দলীয় কার্যালয় দখল কিংবা প্রতীকী দখলদারিত্ব দীর্ঘমেয়াদে গণতান্ত্রিক পরিবেশকে দুর্বল করে। ফলে দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত মালিকানা, আইনগত অবস্থান এবং ঘটনার দায় নির্ধারণ না হলে বগুড়ার এই উত্তেজনা দেশের অন্যান্য জেলাতেও ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।