ভোটের আগে খুন, বিস্ফোরণ ও সহিংসতা, ‘উদ্বেগ’ কাটবে কবে?

আজাদ প্রতিবেদক
| প্রিন্ট সংস্করণ | ফটো কার্ড
লক্ষ্মীপুরে স্থানীয় বিএনপির বসতঘরে তালা দিয়েছে চারপাশে পেট্রোল ঢেলে আগুন দেওয়া হয়। ফাইল ছবি ছবি:
লক্ষ্মীপুরে স্থানীয় বিএনপির বসতঘরে তালা দিয়েছে চারপাশে পেট্রোল ঢেলে আগুন দেওয়া হয়। ফাইল ছবি ছবি:

নির্বাচন কমিশনের তরফে বলা হয়েছে, রাজনৈতিক দলগুলোর নির্বাচনি আচরণবিধি মানা নিয়ে তারা ‘সন্তুষ্ট’। কিন্তু ভোটের আগে খুন, সহিংসতাসহ নানা ঘটনায় তাদের ‘উদ্বেগ’ রয়েছে।

রাজনৈতিক দলের নেতাদের জন্য অস্ত্রের লাইসেন্স ও সশস্ত্র দেহরক্ষী দেওয়ার ব্যবস্থা করেছে সরকার। তবে চোরাগোপ্তা হামলা, খুন, ‘মব’ সন্ত্রাস রুখতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কী ব্যবস্থা নিচ্ছে, সেই প্রশ্ন এসেছে। জানতে চাইলে আইজিপি বাহারুল আলম বলেন, “কোনো উদ্বেগ নেই। সবকিছু স্বাভাবিক আছে।”

১২ ফেব্রুয়ারির ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের আর চার সপ্তাহ বাকি। মনোনয়নপত্র জমার পর বাছাই শেষে এখন আপিল নিষ্পতির ধাপে রয়েছে নির্বাচন কমিশন; অনেকটাই মাঝপথে রয়েছে ভোটের আয়োজন। ২০ জানুয়ারি প্রার্থিতা প্রত্যাহারের পরদিন ভোটের লড়াইয়ে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী চূড়ান্ত হবে।

এক মাস আগে তফসিল ঘোষণার পরদিন ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরীফ ওসমান বিন হাদি হত্যাকাণ্ডে ভোটের পরিবেশে শঙ্কা জাগে।

এরপর থেকে অভ্যন্তরীণ কোন্দল, ব্যক্তিকেন্দ্রিক নানা গোলযোগ, সহিংসতা ঘটলেও ‘উদ্বেগ’ কাটিয়ে শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোটের আশায় রয়েছে এএমএম নাসির উদ্দিন কমিশন।

এমন পরিস্থিতিতে নির্বাচনি পরিবেশ কেমন, নির্বিঘ্ন পরিবেশ কী তৈরি হচ্ছে?

মঙ্গলবার জানতে চাইলে নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, একদিকে দলগুলোর সহায়তায় স্বস্তি রয়েছে ইসির, ‘সামান্য উদ্বেগ’ আইনশৃঙ্খলায়।

তিনি বলেন, “প্রচার এখনও শুরু না হলেও আচরণবিধি প্রতিপালন, আলহামদুল্লিাহ। সব দলই আচরণবিধি মেনে কাজ করছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি আরও উন্নত হওয়া উচিত ভালো নির্বাচনের জন্য।

“আমরা কিছুটা হলেও এ ব্যাপারে উদ্বিগ্ন; খুন-খারাবি হচ্ছেও; তারপরেও আমরা বলবো নিরুৎসাহিত নই, ইনশাহআল্লাহ (পরিবেশ) ভালো হয়ে যাবে। আশাবাদী, আরও ভালো হবে।”

আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতিতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, বাহিনী প্রধানসহ সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে, সমন্বয় করা হচ্ছে, বলেন তিনি।

রহমানেল মাছউদ বলেন, “নানা ধরনের কোন্দল, ব্যক্তিগত দ্বন্দ্বে হোক অহরহ খুন, অপরাধ হলে আমাদের জন্য ভালো লক্ষণ নয়। এতটুকুও যাতে না হয়, পরিস্থিতি আরও যাতে উন্নত হয়, এ বার্তা পৌঁছে দিয়েছি এবং উদ্যোগী হয়েছে। সরকারও অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে পুরষ্কার ঘোষণা করেছে।”

‘মব’ তৈরি করে হামলা চালানো হয় ডেইলি স্টার ভবনে, হামলাকারীরা ভবনের নিচতলায় আগুন ধরিয়ে দেয়। ফাইল ছবি 
‘মব’ তৈরি করে হামলা চালানো হয় ডেইলি স্টার ভবনে, হামলাকারীরা ভবনের নিচতলায় আগুন ধরিয়ে দেয়। ফাইল ছবি 

তফসিল ঘোষণার পরদিন ঢাকার বিজয়নগরে ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরীফ ওসমান হাদিকে গুলি করা হয়। এর পরের আরও কিছু ঘটনা ভোটের পরিবেশে প্রভাব ফেলে।

সিঙ্গাপুরে হাদির মৃত্যুর পর ১৮ ও ১৯ ডিসেম্বর প্রথম আলো ও ডেইলি স্টার, ছায়ানট ও উদীচীর কার্যালয়ে ‘মব’ তৈরি করে হামলা ও আগুন দেওয়ার ঘটনা ঘটে।

হাদি হত্যার পর রাজনৈতিক নেতাদের নিরাপত্তায় অস্ত্রের লাইসেন্স ও সশস্ত্র দেহরক্ষীর দেওয়ার ব্যবস্থা নেয় সরকার।

কিন্তু প্রার্থীরা কতটা নিরাপদ বোধ করছেন? গেল ৮ জানুয়ারি গোপালগঞ্জ-৩ (কোটালীপাড়া-টুঙ্গিপাড়া) আসনে বিএনপির প্রার্থী এস এম জিলানী তার জীবনের নিরাপত্তার আশঙ্কার কথা বলেছেন।

এজন্য তিনি নির্বাচনি প্রচারের সময় বুলেট প্রুফ ভেস্ট ব্যবহার করার কথা বলেছেন। সেদিন দিন কোটালীপাড়া উপজেলার সাদুল্লাপুর ইউনিয়নে এলাকাবাসীর সঙ্গে মতবিনিময়ের সময় তিনি গায়ের চাদর ও পাঞ্জাবি খুলে বুলেট প্রুফ ভেস্ট মানুষকে দেখান।

তার আগের দিন ৭ জানুয়ারি ঢাকায় মহানগর উত্তর স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক সদস্য সচিব আজিজুর রহমান মুছাব্বিরকে গুলি করে হত্যা করা হয়।

চট্টগ্রামের ফটিকছড়িতে গুলিতে জামায়াতে ইসলামীর এক কর্মী নিহত হন ১০ জানুয়ারি।

৮ জানুয়ারি গাজীপুরে এনসিপি নেতাকে গুলি করে তার মোটরসাইকেল ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটে।

সেদিন ভোরে শরীয়তপুরের জাজিরার বিলাসপুর ইউনিয়নের মুলাই বেপারীকান্দি গ্রামের একটি বাড়িতে হাতবোমার বিস্ফোরণে প্রথমে দুই যুবক এবং পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরেক যুবকের মৃত্যু হয়। পুলিশ বলছে, ‘বোমা বানানোর’ সময় বিস্ফোরণ ঘটে।

এ ঘটনার পর ওই গ্রামে অভিযান চালিয়ে যৌথবাহিনী ৪৫টি হাতবোমা উদ্ধার করে।

ঢাকার কেরানীগঞ্জে একটি বাসায় বিস্ফোরণ ঘটে। ফাইল ছবি
ঢাকার কেরানীগঞ্জে একটি বাসায় বিস্ফোরণ ঘটে। ফাইল ছবি

২৬ ডিসেম্বর ঢাকার দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের হাসনাবাদ এলাকায় একটি বাড়িতে বিস্ফোরণের ঘটনায় নারী ও শিশুসহ চারজন আহত হয়েছেন।

বিস্ফোরণে বিধ্বস্ত হওয়া ভবনটিতে একটি মাদ্রাসা পরিচালিত হয়ে আসছিল। সেখান থেকে বিস্ফোরকসহ বোমা তৈরির সরঞ্জাম উদ্ধারের খবর দিয়েছে পুলিশ।

‘মব’ সন্ত্রাসের ঘটনাও মানুষের মধ্যে নিরাপত্তাবোধের অভাব তৈরি করেছে।

ঢাকার বসুন্ধরা এলাকায় ৩১ ডিসেম্বর রাতে মোটরসাইকেরেল সঙ্গে গাড়ির ধাক্কা লাগাকে কেন্দ্র করে ‘মব’ তৈরি করে একজন আইনজীবীকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়।

একইদিন শরীয়তপুরের ডামুড্যায় ব্যবসায়ী খোকন চন্দ্র দাসকে কুপিয়ে ও পুড়িয়ে হত্যা করা হয়।

তার আগে ১৮ ডিসেম্বর ময়মনসিংহের ভালুকায় ধর্ম অবমাননার অভিযোগ তুলে দীপু চন্দ্র দাসকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়। তার লাশ গাছের সঙ্গে বেঁধে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়।

পরদিন গভীর রাতে লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার ভবানীগঞ্জ ইউনিয়নের চরমনসা গ্রামের সুতারগোপ্তা এলাকায় বিএনপি নেতার বসতঘরের দরজায় তালা লাগিয়ে চারপাশে পেট্টোল ঢেলে আগুন দেওয়া হয়। তাতে পুড়ে মারা যায় ওই নেতার এক শিশু সন্তান।

৫ জানুয়ারি রাতে চট্টগ্রামের রাউজান উপজেলার পূর্ব গুজরা ইউনিয়নের অলিমিয়ার হাট এলাকার শিকদার পাড়ায় যুবদলের স্থানীয় এক নেতাকে তার বাড়ির কাছেই গুলি করে হত্যা করা হয়।

মানবাধিকার সংগঠন আইন ও সালিশ কেন্দ্র-আসকের প্রতিবেদন অনুযায়ী, গেল বছর রাজনৈতিক সহিংসতার ৪০১টি ঘটনা ঘটেছে, তাতে ১০২ জন মারা গেছেন, আহত হয়েছে ৪৭৪৪ জন। আর ‘মব’ হামলা ও গণপিটুনিতে মারা গেছেন ১৯৮ জন। এর মধ্যে ঢাকা বিভাগে সবচেয়ে বেশি ৮১ জন মারা গেছেন।

শঙ্কার কারণ ২০২৪ সালে গণঅভ্যুত্থানের সময় থানাগুলো থেকে লুট হওয়া সব অস্ত্র উদ্ধার না হওয়া।

হাদিকে গুলি করার পরদিন ১৩ ডিসেম্বর থেকে অপরারেশন ডেভিল হান্ট ফেইজ-২ শুরু হওয়ার পর ৭ জানুয়ারি পর্যন্ত ২৩৬টি অস্ত্র উদ্ধার হয়েছে। সেদিন পর্যন্ত ১৩৩৩টি অস্ত্র উদ্ধার না হওয়ার তথ্য সংবাদমাধ্যমে এসেছে। এছাড়া রয়েছে অবৈধ অস্ত্র।

এসব অস্ত্র উদ্ধার না হওয়া পর্যন্ত আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন স্থগিত চেয়ে বুধবার রিট আবেদন করেছেন সুপ্রিম কোর্টের এক আইনজীবী।

দেশের বর্তমান আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

বিভিন্ন জায়গায় সহিংসতা, খুন এবং জুলাই অভ্যুত্থানে লুট হওয়া অস্ত্র উদ্ধারের প্রশ্নে সোমবার ঠাকুরগাঁওয়ে নিজ বাসভবনে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, “আমরা খুব উদ্বিগ্ন, এটা সম্পর্কে আমরা অবগত। আমরা মনে করি, এটা সরকারের ব্যর্থতাই যে, তারা এখন পর্যন্ত অস্ত্র উদ্ধার করতে পারেনি।”

আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির বিষয়ে সাবেক আইজিপি মোহাম্মদ নুরুল হুদা বলেন, “যতখানি স্থিতিশীল হওয়ার কথা ছিল, ততখানি নয়। এগুলো মোকাবেলা করতে হবে এবং নির্বাচনের পরিবেশ ঠিক রাখতে হবে।”

নিয়মিত কাজের পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে নজর বাড়ানোর তাগিদ দেন তিনি, “স্বাভাবিক কাজও করতে হবে, তদন্ত করতে হবে; যদি বিশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সৃষ্টি হয় নির্বাচনের কাজে অগ্রাধিকার থাকবে।”

চার সপ্তাহে কতটা উন্নতি হবে?

ভোটের বাকি আর চার সপ্তাহ, এ সময়ে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি কতটা হবে, তা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন সাবেক আইজিপি নুরুল হুদা।

সোমবার এ বিষয়ে তিনি বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “আর এক মাস সময়ে কত (উন্নতি) হবে। কিছু হতে পারে যদি জনবল বাড়ে।…অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার কার্যক্রম থেকে অপরাধীদের আইনের আওতায় নিয়ে আসার বিষয়ে গুরুত্ব দিতে হবে। একটা আশঙ্কা থেকে যাবে-যেহেতু অনেক অস্ত্র উদ্ধার হয়নি, যেগুলো লুট হয়েছিল তাও হয়নি। জোর দিয়ে কাজ করতে হবে।”

নির্বাচনকে ঘিরে ৮ ফেব্রুয়ারি থেকে সেনাবাহিনীসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা এক সপ্তাহের জন্য নির্বাচনি এলাকায় থাকবেন। ভ্রাম্যমাণ ও ‘স্ট্রাইকিং ফোর্স’ হিসেবে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটও থাকবেন তাদের সাথে।

ইতোমধ্যে অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার থেকে শুরু করে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ নিশ্চিতে একগুচ্ছ কাজের নির্দেশনা দিয়ে পরিপত্র জারি করেছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।


চট্টগ্রামের সাতকানিয়ায় বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ-বিজিবির ট্রেনিং সেন্টার অ্যান্ড কলেজে বুধবার এক অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকরা স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরীর কাছে জানতে চান, নির্বাচনে নিরাপত্তার জন্য সরকার কী ব্যবস্থা নিয়েছে? জবাবে তিনি বলেন, “নির্বাচনে যারা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করবে, তাদের জন্যই তো ফোর্সের সংখ্যা বাড়ানো হচ্ছে এবং কেউ বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে পারবে না। আপনারা যদি সবাই সহযোগিতা করেন নির্বাচন খুব শান্তিপূর্ণভাবে হয়ে যাবে।”

তবে সাবেক আইজিপি নুরুল হুদা বলেন, “পরিস্থিতির দৃশ্যমান অগ্রগতির জন্য এখন থেকেই কাজ করতে হবে। ৮ ফেব্রুয়ারি থেকে জোরেশোরে করতে হবে; বেশকিছু বিধিনিষেধ রাখতে হবে। মোটরসাইকেল, যানবাহন চলাচলের ওপর কিছু শর্তারোপ করতে হবে। চ্যালেঞ্জ হচ্ছে-যাতে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে না পারে, অস্ত্রের ব্যবহার না হয়-এগুলো দেখতে হবে।”

সহকারী রিটার্নিং অফিসার ও রিটার্নিং অফিসার হিসেবে দায়িত্ব পালনের অভিজ্ঞতা থেকে সাবেক সচিব এ কে এম আব্দুল আউয়াল বলেন, “ভোটের মাঠের পরিস্থিতি ২২ জানুয়ারির পরই বোঝা যাবে। এখনও অবস্থা খারাপ নয়, প্রার্থীরা প্রচারে নামলে স্পষ্ট বোঝা যাবে। আইনশৃঙ্খলাটা তো কিছুটা দুর্বল রয়েছে, প্রতিদিনই কোথাও না কোথাও খুন-খারাবি হচ্ছে। তো আইনশৃঙ্খলা একটু ভালো করতে হবে।”  তার মতে, ভোট নিয়ে নানা ধরনের শঙ্কার কথা বিভিন্ন মহল থেকে এলেও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি হলে জনগণের আস্থা ফিরবে।

আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধ থাকায় ভোটে নেই-এমন পরিস্থিতিতে নানা ধরনের শঙ্কা কথা এলেও তা মাথায় রাখতে চান না এ সাবেক আমলা, “যেহেতু বড় একটা দল নির্বাচনে আসেনি, এটা অন্য বছরের মতো নয়। একটু তফাৎ আছে। ঝুঁকি তো কিছুটা আছেই; তারপরেও সরকার যদি দৃঢ়প্রতিজ্ঞ হয়, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী যার যার মতো দায়িত্ব পালন করে, তাহলে অসুবিধা হবে না।”

আচরণবিধি নিয়ে স্বস্তি-অস্বস্তি

নির্বাচনের প্রচার শুরুর আগে মিছিলসহ অনেক ধরনের প্রচার কাজে ব্যস্ত রয়েছেন সম্ভাব্য প্রার্থীরা। তফসিল ঘোষণার পর থেকেও আচরণবিধি লঙ্ঘনের বিষয়ে তেমন কার্যকর ব্যবস্থা চোখে পড়ছে না।

তবে নির্বাচন কমিশন-ইসি সচিব আখতার আহমেদ বিদ্যমান আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেন এবং সামনে পরিস্থিতি আরও উন্নতির আশা রাখেন। তিনি বলেন, “তুলনামুলকভাবে এখন পরিস্থিতি ভালো; আশা করি আরও উন্নতি হবে। সবশেষ রোববারও বাহিনীর ফোকাল পয়েন্ট ও প্রতিনিধিদের এ কাজের সমন্বয় বাড়াতে আমরা বৈঠক করেছি। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় পরিপত্রও জারি করেছে। নিয়মিত ‘মনিটরিং’ প্রতিবেদন পেয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার বিষয়ে নির্দেশনা রয়েছে ইসির।”

নির্বাচন কমিশনার মো. আনোয়ারুল ইসলাম সরকার বলেন, “আচরণবিধি প্রতিপালনে আমরা কঠোর থাকবো, কোনো ধরনের বিধি লঙ্ঘনে ছাড় দেওয়া হবে না। ইতোমধ্যে ভিজিল্যান্স টিম, মনিটরিং টিম, ইলেকটোরাল ইনকোয়ারি কমিটি, নির্বাহী হাকিম, আইনশৃঙ্খলা সমন্বয় সেলের মাধ্যমে তা পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।”

তবে তফসিল ঘোষণার পর থেকে আচরণবিধি প্রতিপালনে নির্বাচন কমিশনকে আরও কঠোর থাকা প্রয়োজন ছিল বলে মনে করেন নির্বাচন ব্যবস্থা সংস্কার কমিশনের সদস্য জেসমিন টুলী। ইসির এই সাবেক অতিরিক্ত সচিব বলেন, “যেটুকু রাজনৈতিক দলগুলো মানছে আচরণবিধি, তারা সংযত হয়ে কাজ করছে। ইসির পক্ষ থেকে যেরকম একটা ‘ভয়েস’ থাকা উচিত ছিল, ‘ম্যাসেজ’ থাকা উচিত ছিল সেভাবে দৃশ্যমান হয়নি।”

চট্টগ্রাম, ঢাকাসহ বিভিন্ন জায়গায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, সামনে প্রচারে নামছেন প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীরা, জনগণের সম্পৃক্ততা বাড়বে; যে কোনো অঘটনের শঙ্কা তো অস্বাভাবিক নয়। নির্বাচন কমিশনকে আরও শক্ত অবস্থান নিতে হবে, “প্রতিদিনের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নজরদারি করা উচিত এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সাথেও বসা উচিত।…সংসদ নির্বাচনে যে কোনো প্রার্থীরই জেতার মনোভাব থাকে, জেতার জন্য মরিয়া থাকে।”

জেসমিন টুলি দলগুলোকে সমান সুযোগ দেওয়ার বিষয়ে কমিশনের নজর রাখার কথাও বলেন। ‘লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড’ বা সমান সুযোগ তৈরি করতে হবে, প্রার্থীকে সমানভাবে দেখতে হবে, বলছেন তিনি। বিডিনিউজ।
 

বিষয়:

এলাকার খবর

সম্পর্কিত