প্রকাশ :: ... | ... | ...

মালয়েশিয়াগামী কর্মীরা যে ৫১ মেডিকেল সেন্টারে স্বাস্থ্য পরীক্ষা করবেন


সংযুক্ত ছবি

দুই বছরের বেশি সময় বন্ধ থাকার পর বাংলাদেশ থেকে মালয়েশিয়ায় কর্মী পাঠানোর প্রক্রিয়া পুনরায় শুরুর প্রস্তুতি জোরদার হয়েছে। এর অংশ হিসেবে মালয়েশিয়াগামী কর্মীদের স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য বাংলাদেশের ৫১টি অনুমোদিত মেডিকেল সেন্টারের তালিকা প্রকাশ করেছে দেশটির ফরেন ওয়ার্কার্স সেন্ট্রালাইজড ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (এফডব্লিউসিএমএস)। একই সময়ে বিনা অভিবাসন ব্যয়ে ১১২ বাংলাদেশি কর্মী নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন বাংলাদেশ ওভারসিজ এমপ্লয়মেন্ট অ্যান্ড সার্ভিসেস লিমিটেড (বোয়েসেল)। শুক্রবার এফডব্লিউসিএমএসের ওয়েবসাইটের ‘অ্যাক্রেডিটেড মেডিকেল সেন্টার’ বিভাগে অনুমোদিত প্রতিষ্ঠানগুলোর নাম ও ঠিকানা প্রকাশ করা হয়। এসব প্রতিষ্ঠানে মালয়েশিয়াগামী কর্মীরা বাধ্যতামূলক স্বাস্থ্য পরীক্ষা করাতে পারবেন। ইলেকট্রনিক ভিসা উইথ রেফারেন্সের (ই-ভিডিআর) আবেদন প্রক্রিয়ায় এগোনোর আগে স্বাস্থ্য পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে হবে কর্মীদের। অনুমোদিত ৫১টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ঢাকার মতিঝিল, পুরানা পল্টন, নয়াপল্টন, বিজয়নগর, ফকিরাপুল, বনশ্রী, রামপুরা, বনানী, উত্তরা, ধানমন্ডি, মগবাজার, মহাখালী ও তেজগাঁওসহ বিভিন্ন এলাকার মেডিকেল সেন্টার রয়েছে। তালিকায় এশিয়া ডায়াগনস্টিক অ্যান্ড মেডিকেল সেন্টার, ওয়াদি হেলথ চেকআপ, মেডিনেট মেডিকেল সার্ভিসেস, ইবনে ওমর মেডিকেল অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টার, ইউনিটি মেডিকেল চেকআপ সেন্টার, আইডিয়াল ডায়াগনস্টিক, ফেমাস স্পেশালাইজড হাসপাতাল, লিডিং হেলথ চেকআপ, গ্লোবাল মেডিকেয়ার ডায়াগনস্টিক সেন্টার, মাইল্যাব মেডিকেল অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টার, ইউনিভার্সেল মেডিকেল কলেজ অ্যান্ড হাসপাতালসহ অন্যান্য প্রতিষ্ঠান রয়েছে। এফডব্লিউসিএমএস জানিয়েছে, তালিকাভুক্ত কেন্দ্রগুলো সংশ্লিষ্ট স্থানীয় সরকারি সংস্থার নিবন্ধনপ্রাপ্ত। পাশাপাশি মালয়েশিয়ার প্রতিষ্ঠান বেস্টিনেট এসডিএন বিএইচডির নির্ধারিত অডিট প্রক্রিয়ায় উত্তীর্ণ হওয়ার পর এগুলোকে অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। সরকার মালয়েশিয়াগামী কর্মীদের স্বাস্থ্য পরীক্ষার ফি সর্বোচ্চ ৮ হাজার টাকা নির্ধারণ করেছে। নির্ধারিত ফির বাইরে অতিরিক্ত অর্থ আদায় ও চাকরিপ্রার্থীদের হয়রানি না করার বিষয়ে মেডিকেল সেন্টারগুলোকে সতর্ক করেছে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়। অন্যদিকে মালয়েশিয়ার ডিএইচএল সাপ্লাই চেইন এসডিএন বিএইচডিতে ১১২ বাংলাদেশি কর্মী নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে বোয়েসেল। বৃহস্পতিবার প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, ‘অপারেশন অ্যাসিস্ট্যান্ট’ ও ‘টেকনিক্যাল স্কিল ওয়ার্কার’ পদে মাসিক মূল বেতন ১ হাজার ৭০০ মালয়েশীয় রিঙ্গিত। নিয়োগের যাবতীয় অভিবাসন ব্যয় বহন করবে নিয়োগকর্তা। ফলে নির্বাচিত কর্মীদের এ বাবদ কোনো অর্থ দিতে হবে না। আগ্রহীরা ৮ নভেম্বর বিকেল ৪টা পর্যন্ত বোয়েসেলের অনলাইন রেজিস্ট্রেশন পোর্টালে আবেদন করতে পারবেন। আবেদনকারীর বয়স হতে হবে ২২ থেকে ৩৫ বছরের মধ্যে। পাশাপাশি বৈধ পাসপোর্ট থাকতে হবে। প্রাথমিকভাবে তিন বছরের চুক্তিতে নিয়োগ দেওয়া হবে, যা পরবর্তী সময়ে নবায়নের সুযোগ রয়েছে। নির্বাচিত কর্মীদের সপ্তাহে ছয় দিন দৈনিক আট ঘণ্টা কাজ করতে হবে। মালয়েশিয়ার শ্রম আইন ও প্রতিষ্ঠানের প্রয়োজন অনুযায়ী ওভারটাইমের সুযোগ থাকবে। নিয়োগকর্তা কর্মীদের আবাসন, প্রাথমিক চিকিৎসা এবং কর্মস্থলে যাতায়াতের পরিবহণ সুবিধা দেবেন। অপারেশন অ্যাসিস্ট্যান্ট পদে আবেদনের জন্য এসএসসি বা সমমানের শিক্ষাগত যোগ্যতা প্রয়োজন। কম্পিউটার ব্যবহারের প্রাথমিক জ্ঞান, ইংরেজিতে যোগাযোগের দক্ষতা এবং ওয়্যারহাউসে কাজের শারীরিক সক্ষমতা থাকতে হবে। সংশ্লিষ্ট কাজে অভিজ্ঞ এবং ফর্কলিফট, পাওয়ার প্যালেট ট্রাক ও রিচ ট্রাক পরিচালনায় দক্ষ প্রার্থীরা অগ্রাধিকার পাবেন। টেকনিক্যাল স্কিল ওয়ার্কার পদে এইচএসসি বা সমমানের যোগ্যতা চাওয়া হয়েছে। ইলেকট্রিক্যাল, ভোকেশনাল, পলিটেকনিক বা স্নাতক পর্যায়ের শিক্ষাগত যোগ্যতাসম্পন্ন প্রার্থীরা অগ্রাধিকার পাবেন। এ পদেও ওয়্যারহাউস পরিচালনা, আইটি সরঞ্জাম, মাইক্রোসফট এক্সেল ও ইংরেজি যোগাযোগে দক্ষতা প্রয়োজন। বোয়েসেল জানিয়েছে, সফটওয়্যারভিত্তিক লটারির মাধ্যমে প্রাথমিকভাবে ৩০০ আবেদনকারীকে বাছাই করা হবে। পরে মালয়েশীয় প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা কারিগরি ও মৌখিক পরীক্ষা নিয়ে চূড়ান্ত ১১২ জনকে নির্বাচন করবেন। একজন আবেদনকারী কেবল একটি পদেই আবেদন করতে পারবেন। নিয়োগের কোনো পর্যায়ে অর্থ লেনদেন না করার জন্যও সতর্ক করা হয়েছে। প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী জানিয়েছেন, বিনা খরচে কর্মী পাঠানোর উদ্যোগের আওতায় ডিসেম্বরের মধ্যে প্রথম দুই থেকে তিনটি ফ্লাইট চালুর লক্ষ্য রয়েছে সরকারের। এ উদ্যোগের অধীনে বোয়েসেলের মাধ্যমে পর্যায়ক্রমে ১০ হাজার কর্মী মালয়েশিয়ায় পাঠানোর পরিকল্পনা রয়েছে। বৃহস্পতিবার প্রবাসী কল্যাণ ভবনে রিক্রুটিং এজেন্সিগুলোর প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠকে মন্ত্রী বলেন, সরকারি উদ্যোগে নিয়োগ পাওয়া কর্মীদের কোনো অভিবাসন ব্যয় বহন করতে হবে না। বেসরকারি রিক্রুটিং এজেন্সির মাধ্যমে কর্মী পাঠানোর ক্ষেত্রে সম্ভাব্য সর্বোচ্চ খরচ আড়াই থেকে তিন লাখ টাকা নির্ধারণের বিষয়ে আলোচনা চলছে। তবে এ বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। বৈঠকে ৬২টি রিক্রুটিং এজেন্সির পক্ষে মোহাম্মদ ফজলুল ইসলাম ইয়াসিন মেডিকেল অনুমোদন প্রক্রিয়া দ্রুত করার পাশাপাশি বোয়েসেলের যৌক্তিক প্রসেসিং ফি নির্ধারণের দাবি জানান। মন্ত্রী বলেন, মালয়েশিয়ার শ্রমবাজারে সব লাইসেন্সধারী রিক্রুটিং এজেন্সির অংশগ্রহণের সুযোগ নিশ্চিত করতে চায় সরকার। প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী মো. নুরুল হক জানান, বেসরকারি এজেন্সিগুলোর নিয়োগ ব্যয় এখনো চূড়ান্ত হয়নি। বিদ্যমান দ্বিপক্ষীয় চুক্তি অনুযায়ী রিক্রুটিং এজেন্সি নির্বাচনের চূড়ান্ত ক্ষমতা মালয়েশিয়ার হাতে রয়েছে। এ ক্ষেত্রে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে আরও বেশি লাইসেন্সধারী এজেন্সির অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে আলোচনা চলছে। বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার মধ্যে বিদ্যমান সমঝোতা স্মারকের মেয়াদ চলতি বছরের ৩১ ডিসেম্বর শেষ হওয়ার কথা। ফলে নতুন করে কর্মী নিয়োগের প্রক্রিয়া, অভিবাসন ব্যয় নির্ধারণ এবং রিক্রুটিং এজেন্সির অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার বিষয়গুলো দুই দেশের আলোচনায় গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।