প্রকাশ :: ... | ... | ...

শূন্য পাস শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষকদের চাকরি যাবে না: শিক্ষামন্ত্রী


সংযুক্ত ছবি

শিক্ষার মান উন্নয়নে প্রয়োজনে ভালো ফল করা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে একীভূত করার চিন্তা এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় কোনো শিক্ষার্থী পাস না করা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষকদের চাকরি যাবে না বলে জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। তবে এসব প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার মান কীভাবে উন্নত করা যায়, তা নিয়ে সরকার কাজ করছে। প্রয়োজনে শূন্য পাস করা প্রতিষ্ঠানগুলোকে ভালো ফল করা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে একীভূত করার বিষয়টিও বিবেচনা করা হবে। শনিবার বেলা ১১টায় শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সভাকক্ষে এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল প্রকাশের কার্যক্রম উদ্বোধন অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন শিক্ষামন্ত্রী। এবারের ফল সন্তোষজনক হয়নি উল্লেখ করে তিনি বলেন, ফল পুনর্নিরীক্ষার ব্যবস্থা থাকবে। গত এসএসসি পরীক্ষায় পুনর্নিরীক্ষার পর নতুন করে ৩ হাজার ৭৯ জন শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ পেয়েছিলেন। এবারও কোনো পরীক্ষার্থী যেন অবমূল্যায়নের শিকার না হন, তা বিবেচনায় রেখে কাজ করা হবে। যারা অকৃতকার্য হয়েছেন, তাঁদের পুনরায় পরীক্ষা নেওয়ার বিষয়েও আলোচনা চলছে বলে জানান শিক্ষামন্ত্রী। কত দিনের মধ্যে পরীক্ষা নেওয়া সম্ভব, তা পর্যালোচনা করে সিদ্ধান্ত হবে। এ ক্ষেত্রে এক মাসের মধ্যে পুনঃপরীক্ষা আয়োজনের বিষয়টি বিবেচনায় রয়েছে। পাসের হার কমে যাওয়ার কারণ অনুসন্ধানের ওপর গুরুত্ব দিয়ে এহছানুল হক মিলন বলেন, শিক্ষাব্যবস্থার কোথায় ঘাটতি রয়েছে, তা চিহ্নিত করে সমাধানের উদ্যোগ নিতে হবে। এবার ৫ লাখ ৯৪ হাজার ১১৩ জন পরীক্ষার্থী অকৃতকার্য হয়েছেন। তাঁদের জন্য সংশ্লিষ্ট সবাইকে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে। চলতি বছরের এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষায় ২৯৩টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কোনো শিক্ষার্থী পাস করেনি। গত বছর এ সংখ্যা ছিল ২০২। অর্থাৎ এক বছরে শূন্য পাস প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা বেড়েছে ৯১টি। এবার পরীক্ষায় অংশ নেওয়া ১২ লাখ ৪০ হাজার ৭৯৮ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছে ৬ লাখ ৪৬ হাজার ৬৮৫ জন। গড় পাসের হার ৫২ দশমিক ১২ শতাংশ, যা গত ২২ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন। গত বছর পাসের হার ছিল ৫৮ দশমিক ৮৩ শতাংশ। জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যাও কমেছে। এবার ৪০ হাজার ৮৪ জন জিপিএ-৫ পেয়েছে, গত বছর পেয়েছিল ৬৯ হাজার ৯৭ জন। ফলাফলে ছাত্রীদের পাসের হার ছাত্রদের চেয়ে বেশি। এবার ৩ লাখ ৫৬ হাজার ৫২৮ ছাত্রী উত্তীর্ণ হয়েছে, তাদের পাসের হার ৫৬ দশমিক ৩১ শতাংশ। অন্যদিকে উত্তীর্ণ ছাত্রের সংখ্যা ২ লাখ ৯০ হাজার ১৫৭, পাসের হার ৪৭ দশমিক ৭৫ শতাংশ। তবে জিপিএ-৫ পাওয়ার সংখ্যায় এগিয়ে ছাত্ররা। এবার ২০ হাজার ৩৬৩ ছাত্র এবং ১৯ হাজার ৭২১ ছাত্রী জিপিএ-৫ পেয়েছে। গত ২ জুলাই এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা শুরু হয়ে ৮ আগস্ট শেষ হওয়ার কথা ছিল। ১৫ আগস্টের মধ্যে ব্যবহারিক পরীক্ষা শেষ করার পরিকল্পনা থাকলেও প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের কয়েকটি লিখিত পরীক্ষা নির্ধারিত সময়ে নেওয়া সম্ভব হয়নি। পরে স্থগিত পরীক্ষাগুলো অনুষ্ঠিত হওয়ায় ওই বোর্ডের লিখিত পরীক্ষা শেষ হয় ৯ সেপ্টেম্বর।