ছবি : সংগৃহীত
পোশাকশ্রমিকদের ন্যায্য দাবির আন্দোলনকে ব্যবহার করে তৈরি পোশাকশিল্পে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির চেষ্টা এবং এ কাজে অবৈধ অর্থের লেনদেনের অভিযোগ উঠেছে। গোয়েন্দা সূত্রের দাবি, এ-সংক্রান্ত তদন্তে ক্রিপ্টোকারেন্সি ও মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে অর্থ লেনদেনের তথ্য পাওয়া গেছে। আন্দোলনে উসকানি ও নাশকতায় জড়িত সন্দেহে ১৪৪ জনকে শনাক্ত করা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে ৩৮ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্র। শ্রমিকদের আন্দোলনের পরিপ্রেক্ষিতে সরকার আগামী ডিসেম্বর থেকে নতুন মজুরি কার্যকরের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। সুপারিশ অনুমোদিত হলে জানুয়ারি থেকে নতুন কাঠামোয় মজুরি পাবেন পোশাকশ্রমিকেরা। তবে এ সিদ্ধান্তের পরও একটি মহল আন্দোলনে ইন্ধন জোগাচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। সংশ্লিষ্ট গোয়েন্দা সূত্রের দাবি, গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদে নাশকতার নির্দেশদাতা হিসেবে সাবেক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হকসহ কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাদের নাম এসেছে। পাশাপাশি উসকানিদাতা হিসেবে দলীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে শ্রমিক নেতাদের নামও পাওয়া গেছে। তাঁদের কেউ কেউ রাজনৈতিক পরিচয় গোপন করে শিল্পাঞ্চলে অস্থিতিশীল পরিবেশ তৈরির চেষ্টা করছেন বলে অভিযোগ। সূত্র জানায়, গত ৩১ অক্টোবর শ্রমিক লীগের নেতা আজগর আলীকে গ্রেপ্তার করা হয়। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর রাজনৈতিক পরিচয় আড়াল করতে তিনি গাজীপুর জেলা গার্মেন্ট টেইলার্স ওয়ার্কার্স ফেডারেশনের সঙ্গে যুক্ত হন এবং সংগঠনটির সভাপতির দায়িত্ব পালন করছিলেন। জিজ্ঞাসাবাদে আজগর জানিয়েছেন, সাবেক মন্ত্রী মোজাম্মেল হক তাঁকে শ্রমিক আন্দোলনে উসকানি ও নেতৃত্ব দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিলেন। গ্রেপ্তারের সময় মোজাম্মেলের ফোন থেকে তাঁর মোবাইলে একাধিকবার কল এসেছিল বলেও সূত্রের দাবি। গোয়েন্দা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিভিন্ন স্থানে বিক্ষোভকারীদের মধ্যে কেউ কেউ মুখোশ বা মাস্ক পরে অংশ নিচ্ছেন। পরিচয় গোপন করে নাশকতার উদ্দেশ্যে তাঁরা আন্দোলনে যুক্ত হয়েছেন বলে সন্দেহ করছেন গোয়েন্দারা। আন্দোলনে কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যদের ব্যবহারের তথ্যও পাওয়া গেছে। তদন্তসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, শ্রমিক আন্দোলনে অনুপ্রবেশ করে লোক জড়ো করা, সহিংসতায় উসকানি দেওয়া এবং ভাঙচুর-অগ্নিসংযোগের ঘটনায় অর্থের জোগান দেওয়া হচ্ছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এ-সংক্রান্ত সন্দেহভাজন কিছু মোবাইল ব্যাংকিং নম্বর শনাক্তের দাবি করেছেন গোয়েন্দারা। অপতৎপরতা পরিচালনা ও সমন্বয়ের অভিযোগে কয়েকটি হোয়াটসঅ্যাপ ও টেলিগ্রাম গ্রুপের ওপরও নজর রাখা হচ্ছে। পুলিশের দাবি, দেশের বাইরের কিছু ব্যক্তিরও এ ঘটনায় ইন্ধন থাকতে পারে। ১০০ ব্যক্তির ব্যাংক হিসাব জব্দের উদ্যোগ তৈরি পোশাকশিল্পে অস্থিরতা সৃষ্টির সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে সন্দেহভাজন প্রায় ১০০ ব্যক্তির ব্যাংক হিসাব জব্দ করতে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে চিঠি দিয়েছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। একই সঙ্গে আরও ১২৫টি প্রতিষ্ঠানের ব্যাংক লেনদেনের বিস্তারিত তথ্য চাওয়া হয়েছে। এনবিআরের দুটি গোয়েন্দা ইউনিট এসব ব্যক্তির ব্যাংক হিসাব শনাক্ত ও জব্দের অনুরোধ জানিয়ে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে চিঠি দিয়েছে বলে সূত্র জানিয়েছে। তালিকায় থাকা ব্যক্তিদের বেশির ভাগই ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট। তাঁদের মধ্যে সাবেক মন্ত্রী, সংসদ সদস্য ও ব্যবসায়ী রয়েছেন। উল্লেখযোগ্য ব্যক্তিদের মধ্যে আছেন সালমান এফ রহমান, আবদুস সালাম মুর্শেদী, টিপু মুনশি, শাহরিয়ার আলম, নসরুল হামিদ ও তাজুল ইসলাম। ব্যবসায়ীদের মধ্যে তালিকায় রয়েছে টুসুকা গ্রুপের ফয়জুর রহমান, ওয়েল গ্রুপের আবদুস সালাম, নিপা গ্রুপের খসরু চৌধুরী, স্ট্যান্ডার্ড গ্রুপের মোশাররফ হোসেন এবং বিজিএমইএর সাবেক সভাপতি এস এম মান্নান কচির নাম। তাঁদের পরিবারের সদস্যদের নামও রয়েছে বলে সূত্রের দাবি। এনবিআর সূত্রে আরও জানা গেছে, ব্যাংক হিসাব জব্দের তালিকায় ক্রিকেটার সাকিব আল হাসানের বোনের জামাই আলিফ মোল্লার নাম রয়েছে। মোবাইল ব্যাংকিংয়ের পাশাপাশি ক্রিপ্টোকারেন্সির মাধ্যমেও লেনদেনের তথ্য পাওয়া গেছে বলে দাবি করেছে সূত্রটি। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এনবিআরের এক কর্মকর্তা জানান, কয়েকটি সরকারি সংস্থার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ব্যাংক হিসাব শনাক্ত ও জব্দের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি বিপুলসংখ্যক প্রতিষ্ঠানের লেনদেনের বিবরণ চাওয়া হয়েছে। এসব ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে পোশাক খাতে অস্থিরতা সৃষ্টিতে অর্থায়নের অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগের সত্যতা যাচাই করতেই আর্থিক লেনদেন খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ওই কর্মকর্তা জানান, তালিকাভুক্ত ব্যক্তিদের কেউ কারাগারে, কেউ পলাতক। তবে তাঁদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত এখনো শেষ হয়নি। তালিকা আরও বড় হতে পারে। কবে নাগাদ তদন্ত শেষ হবে, তা নির্দিষ্ট করে বলা যাচ্ছে না। গ্রেপ্তার হয়েছেন যাঁরা গোয়েন্দা সূত্র জানায়, পোশাকশিল্পে সাম্প্রতিক সহিংসতার ঘটনায় গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের মধ্যে রয়েছেন সাবেক সংসদ সদস্য নজরুল ইসলাম বাবুর এপিএস মোহাম্মদ ওয়ালী উল্লাহ, শ্রমিক লীগ ফতুল্লা আঞ্চলিক শাখার সভাপতি হাবিবুল কবির, একই শাখার সিনিয়র সহসভাপতি আলমগীর হোসেন, শ্রমিক লীগ নেতা কাউসার আহমেদ পলাশের সহযোগী পারভেজ, যুবলীগ নেতা ইসমাইল হোসেন এবং সোনারগাঁ ও আড়াইহাজারের আওয়ামী লীগ ও যুবলীগের কয়েকজন নেতা। তালিকায় আরও রয়েছেন সোনারগাঁ ৮ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি আবুল কাশেম মোল্লা, জামপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাবেক সহসভাপতি হযরত আলী, কাঁচপুর ইউনিয়ন যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক শাহ আলম, সোনারগাঁ সরকারি কলেজের ছাত্রলীগ নেতা ফাহিম প্রধান, ফতুল্লা থানা আওয়ামী লীগ নেতা মো. হৃদয়, মোহাম্মদ পারভেজ, নারায়ণগঞ্জ জেলা ছাত্রলীগ নেতা আল ইমরান, জেলা আওয়ামী লীগ নেতা হাজি আক্তার নূর এবং আড়াইহাজারের বিশনন্দী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ নেতা আল মামুন পারভেজ। সূত্রের দাবি, মিরপুর থেকে সম্প্রতি গ্রেপ্তার হওয়া ১১ জনের সবাই আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের নেতাকর্মী। তাঁদের মধ্যে কামাল গাজী শ্রমিক লীগের সহসাধারণ সম্পাদক। গাজীপুর থেকে গ্রেপ্তার ১০ জনের মধ্যে রয়েছেন বাংলাদেশ গার্মেন্ট শ্রমিক ফেডারেশনের গাজীপুর জেলার সভাপতি মোরশেদ আলম কাউছার, গ্রিন বাংলা গার্মেন্ট ওয়ার্কার্স ফেডারেশনের গাজীপুর জেলার সাধারণ সম্পাদক রোজিনা আক্তার সুমি, বাংলাদেশ গার্মেন্ট ট্রেড ইউনিয়ন ফেডারেশনের তথ্য সম্পাদক মোস্তফা কামাল, গাজীপুর গার্মেন্ট শ্রমিক নামের ফেসবুক পেজের অ্যাডমিন ফুয়াদুর রহমান নির্জন এবং শ্রীপুর থানা শ্রমিক ফেডারেশনের সভাপতি আলতাফ হোসেন। গোয়েন্দা প্রতিবেদনে স্থানীয় কয়েকটি পোশাক কারখানার শ্রমিকের নামও আন্দোলনে উসকানিদাতা হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে কালিয়াকৈর ও আশপাশের কারখানার সিনিয়র অপারেটর, কোয়ালিটি ইন্সপেক্টর, অপারেটর, সুইং ও ফিনিশিং সেকশনের কর্মী এবং হেলপার রয়েছেন বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের পলাতক নেতাকর্মী এবং সাবেক প্রভাবশালী ব্যক্তিরা পরিচয় গোপন করে শিল্পাঞ্চলে অস্থিতিশীলতা তৈরির চেষ্টা করছেন। গাজীপুর অঞ্চলে প্রায় ২ হাজার ৭০০ পোশাক কারখানা রয়েছে। এর মধ্যে ভোগড়া রোডেই রয়েছে প্রায় ৩০০টি। ৫০টির বেশি বড় কারখানায় প্রতিটিতে পাঁচ হাজারের বেশি শ্রমিক কাজ করেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নজরদারি শ্রমিকদের উসকানিমূলক বার্তা ছড়িয়ে আন্দোলন তীব্র করার অভিযোগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নজরদারি করছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সাইবার ক্রাইম ইউনিট, বিটিআরসি ও গোয়েন্দা সংস্থাগুলো। এরই মধ্যে অন্তত ২০০টি ফেসবুক পেজ ও ভুয়া আইডি শনাক্ত করা হয়েছে বলে সূত্র জানিয়েছে। নাশকতার প্রস্তুতি নিয়ে আলোচনা হয়েছে—এমন ২৫টি হোয়াটসঅ্যাপ ও টেলিগ্রাম গ্রুপও শনাক্তের দাবি করা হয়েছে। গোয়েন্দা সূত্রের দাবি, এসব গ্রুপে নাশকতায় অংশ নেওয়া আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের দিকনির্দেশনা দেওয়া হতো। দুই শতাধিক কর্মীর সমন্বয়ের দায়িত্বে ছিলেন সাবেক সংসদ সদস্য ইলিয়াস মোল্লার ভাগনে আলিফ মোল্লা, মহানগর উত্তর যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক ইসমাইল হোসেন, যুবলীগ নেতা তাজুল ইসলাম বাপ্পি, মহানগর উত্তর আওয়ামী লীগের মামুন এবং পানি জাহাঙ্গীরের সহযোগী মাহবুবুল রহমান জুয়েল। শিল্প পুলিশ-১-এর পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মোমিনুল ইসলাম ভূঁইয়া জাগো নিউজকে বলেন, শ্রমিকেরা কাজ করতে চান। কিন্তু বাইরে থেকে কিছু দুষ্কৃতকারী ও বহিরাগত ব্যক্তি তাঁদের উসকানি দিচ্ছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা ধরনের প্রচার চালিয়ে শ্রমিকদের কাজে বাধা দেওয়ার চেষ্টা হচ্ছে। উসকানিদাতাদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে জানিয়ে তিনি বলেন, ইতোমধ্যে কয়েকজনকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। তাঁদের কাছ থেকে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে। তবে তদন্তের স্বার্থে পরিচয় প্রকাশ করা যাচ্ছে না। শ্রমিকদের সামনে রেখে পেছন থেকে কিছু বহিরাগত ব্যক্তি অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরির চেষ্টা করছেন। গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ তাহেরুল হক চৌহান জাগো নিউজকে বলেন, চলমান ঘটনাকে সাধারণ শ্রমিক আন্দোলন বলা যায় না। তাঁর অভিযোগ, একটি গোষ্ঠী শ্রমিকদের সঙ্গে মিশে পুলিশের ওপর হামলা, গাড়ি ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের মতো ঘটনা ঘটাচ্ছে। এসব কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টির চেষ্টা করা হচ্ছে। ঢাকা রেঞ্জের ডিআইজি মো. মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, শ্রমিক আন্দোলনের নামে একটি গোষ্ঠী শ্রমিকদের আবেগকে কাজে লাগিয়ে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরির চেষ্টা করছে। গত তিন-চার দিন ধরে এ বিষয়ে সতর্ক করা হচ্ছে। আশুলিয়া ও সাভার থানায় ২৫ থেকে ৩০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাঁদের কেউই শ্রমিক নন বলে দাবি করেন তিনি। এ ঘটনায় আটটি মামলা হয়েছে, আরও কয়েকটি মামলা প্রক্রিয়াধীন। তিনি আরও বলেন, শ্রমিকেরা কারখানা, সড়ক ও নিজেদের আবাসস্থলে নিরাপত্তা পাবেন। শ্রমিকদের আবাসস্থলে পুলিশের মোবাইল ও টহল দল দায়িত্ব পালন করছে। কারা শ্রমিকদের ভয় দেখাচ্ছে এবং তাঁদের নিরাপত্তা বিঘ্নিত করছে, সে বিষয়ে গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। শিল্প পুলিশের প্রধান অতিরিক্ত আইজিপি গাজী জসীম উদ্দিন বলেন, কারখানায় নিয়োগের সময় শ্রমিকদের রাজনৈতিক পরিচয় নেওয়া হয় না। ফলে লাখ লাখ শ্রমিকের মধ্যে কার্যক্রম নিষিদ্ধ রাজনৈতিক সংগঠনের কর্মীও থাকতে পারেন। তাঁদের একটি অংশ ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনায় জড়িত বলে তাঁর দাবি। এ ছাড়া বহিরাগতদেরও সম্পৃক্ততা রয়েছে। কারখানা থেকে বের হওয়ার পর শ্রমিকদের প্রায় ৮০ শতাংশ বাসায় ফিরে যান এবং বাকি ২০ শতাংশ রাস্তায় অবস্থান করেন বলে জানান তিনি। তাঁর ভাষ্য, বৃহস্পতিবার পরিস্থিতি তুলনামূলক ভালো ছিল এবং পরবর্তী কয়েক দিনও পরিস্থিতি শান্ত থাকবে বলে আশা করা হচ্ছে। এর আগে গত ১০ অক্টোবর পোশাক খাতে নাশকতার আশঙ্কা নিয়ে একটি গোয়েন্দা প্রতিবেদন জমা দেওয়া হয় বলে পুলিশের একটি সূত্র জানিয়েছে। পরে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে উচ্চপর্যায়ের বৈঠকের পর সংশ্লিষ্ট দপ্তর ও পুলিশ সুপারদের সতর্ক করে চিঠি দেওয়া হয়। ওই চিঠিতে শ্রমিকদের বেতন ও জীবনযাত্রার মান উন্নয়নে সরকারের আন্তরিকতার কথা উল্লেখ করে ২০ ডিসেম্বরের মধ্যে নতুন নিম্নতম মজুরি বোর্ড ঘোষণার কথা জানানো হয়েছিল। এরপরও ১ নভেম্বর থেকে শ্রমিক অসন্তোষ তীব্র আকার ধারণ করে।