প্রকাশ :: ... | ... | ...

সবার চোখ সংসদ অধিবেশনে


সংযুক্ত ছবি

সবকিছু ঠিক থাকলে আগামী ২৬ ফেব্রুয়ারি অথবা মার্চের প্রথম সপ্তাহে যাত্রা শুরু করতে যাচ্ছে বাংলাদেশের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ। পবিত্র রমজান মাসের প্রেক্ষাপটে ২৬ ফেব্রুয়ারি বৃহস্পতিবার সকালেই প্রথম অধিবেশন বসার সম্ভাবনা বেশি বলে জানিয়েছে সংসদ সচিবালয়। সংবিধানের ৭২(২) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী নির্বাচনের গেজেট প্রকাশের ৩০ দিনের মধ্যেই সংসদ অধিবেশন আহ্বানের বাধ্যবাধকতা রয়েছে। সে অনুযায়ী সব ধরনের প্রস্তুতি ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে নিরঙ্কুশ জয় পেয়েছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-এর নেতৃত্বাধীন জোট। অন্যদিকে, সংসদীয় ইতিহাসে রেকর্ডসংখ্যক আসন পেয়ে প্রধান বিরোধী দল হিসেবে জায়গা করে নিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। ফলে নতুন সংসদে প্রধানমন্ত্রী ও বিরোধীদলীয় নেতা—উভয়ই নতুন মুখ। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই পরিবর্তনই ত্রয়োদশ সংসদকে করে তুলেছে ব্যতিক্রমধর্মী। দীর্ঘ ১৮ মাস অন্তর্বর্তী সরকারের অধীনে থাকার পর সংসদীয় কার্যক্রম আবারও শুরু হতে যাচ্ছে। রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে অবস্থিত জাতীয় সংসদ ভবন—বিশ্বখ্যাত স্থপতি লুই আই কান-এর নকশায় নির্মিত এই স্থাপনাকে ঘিরেই এখন দেশের রাজনৈতিক দৃষ্টি নিবদ্ধ। ১৭ ফেব্রুয়ারি নবনির্বাচিত ২৯৬ জন সংসদ সদস্য শপথ নিয়েছেন। শপথ বাক্য পাঠ করান প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দিন। এর আগে দ্বাদশ সংসদের স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী পদত্যাগ করেন এবং ডেপুটি স্পিকার মামলায় কারাগারে থাকায় প্রথম অধিবেশন পরিচালনা নিয়ে একটি সাংবিধানিক জটিলতা তৈরি হয়। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, বিভিন্ন দেশের নজির বিশ্লেষণ করে একটি বিশেষ রুল প্রণয়ন করা হয়েছে। সে অনুযায়ী সংসদ নেতা হিসেবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দলের একজন জ্যেষ্ঠ সংসদ সদস্যের নাম প্রস্তাব করবেন, যিনি অস্থায়ীভাবে স্পিকারের আসনে বসবেন। পরে স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার নির্বাচনের প্রস্তাব আহ্বান ও কণ্ঠভোটে অনুমোদনের মাধ্যমে নতুন নেতৃত্ব নির্ধারিত হবে। এরপর রাষ্ট্রপতির কাছে শপথ গ্রহণ করে তারা সংসদ পরিচালনার দায়িত্ব নেবেন। এই অধিবেশনে সামনে আসবে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু—জুলাই জাতীয় সনদ, উচ্চকক্ষ গঠন প্রস্তাব, সংবিধান সংস্কার বিতর্কসহ নানা রাজনৈতিক প্রশ্ন। বিরোধী দল হিসেবে জামায়াতে ইসলামীর অবস্থান ও তাদের সংসদীয় কৌশল নিয়েও কৌতূহল রয়েছে। তারা ৬৮টি আসনে জয় পেয়েছে এবং ইতোমধ্যে জানিয়েছে, সংসদীয় কার্যক্রমে সক্রিয় অংশগ্রহণের পাশাপাশি সাংবিধানিক প্রশ্নগুলোকে সামনে আনবে। অন্যদিকে, নতুন রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) ছায়া মন্ত্রিসভা গঠনের প্রস্তুতির কথা জানিয়েছে। দলটির মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানান, এই ছায়া মন্ত্রিসভা সরকারের কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে কাজ করবে। সংসদীয় গণতন্ত্রে ‘ছায়া মন্ত্রিসভা’ হলো বিরোধী দলের একটি বিকল্প কাঠামো, যেখানে জ্যেষ্ঠ নেতারা বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের সমান্তরালে দায়িত্ব ভাগ করে নেন। তাদের কোনো নির্বাহী ক্ষমতা না থাকলেও সরকারের নীতি ও কর্মকাণ্ডের সমালোচনা, বিশ্লেষণ এবং বিকল্প প্রস্তাব দেওয়ার মাধ্যমে তারা গণতান্ত্রিক ভারসাম্য রক্ষা করেন। সব মিলিয়ে, রমজানের আবহে শুরু হতে যাওয়া ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনকে ঘিরে রাজনৈতিক উত্তাপ, কৌতূহল এবং প্রত্যাশা—সবই তুঙ্গে। বিশ্লেষকদের মতে, দীর্ঘ রাজনৈতিক অস্থিরতার পর এই অধিবেশন দেশের সংসদীয় ইতিহাসে একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা করতে পারে।