প্রকাশ :: ... | ... | ...

সাধারণ নাগরিক কি রাষ্ট্রপতি হতে পারেন, কী বলছে সংবিধান


সংযুক্ত ছবি

দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবে জামায়াতে ইসলামী বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি জনগণের সরাসরি ভোটে নির্বাচিত হন না। জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জনগণের ভোটে নির্বাচিত সংসদ সদস্যরাই রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ভোট দেন। ফলে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনকে পরোক্ষ নির্বাচন বলা হয়। অর্থাৎ একজন সাধারণ নাগরিক সরাসরি ভোট দিয়ে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন করতে পারেন না, আবার নিজের পছন্দের প্রার্থীকে সরাসরি ভোট দেওয়ার সুযোগও নেই। তবে রাষ্ট্রপতি হওয়ার ক্ষেত্রে রাজনৈতিক দলের সদস্য হওয়া সাংবিধানিকভাবে বাধ্যতামূলক নয়। সংবিধানে নির্ধারিত যোগ্যতা পূরণ করলে একজন সাধারণ নাগরিকও রাষ্ট্রপতি পদে প্রার্থী হতে পারেন। এ ক্ষেত্রে প্রার্থীর বয়স কমপক্ষে ৩৫ বছর হতে হবে এবং সংসদ সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হওয়ার যোগ্যতা থাকতে হবে। একই সঙ্গে আগে কখনো অভিশংসনের মাধ্যমে রাষ্ট্রপতির পদ থেকে অপসারিত হয়ে থাকলে তিনি আর রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ার যোগ্য হবেন না। তবে শুধু সাংবিধানিক যোগ্যতা থাকলেই কেউ নিজের নামে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে মনোনয়নপত্র জমা দিতে পারবেন—বিষয়টি এমন নয়। রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়ায় সংসদ সদস্যদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। মনোনয়নপত্রে একজন সংসদ সদস্যকে প্রস্তাবক এবং আরেকজন সংসদ সদস্যকে সমর্থক হিসেবে স্বাক্ষর করতে হয়। অর্থাৎ একজন সাধারণ নাগরিকের রাষ্ট্রপতি হওয়ার সাংবিধানিক যোগ্যতা থাকলেও নির্বাচনের মাঠে আসতে হলে তাকে সংসদ সদস্যদের সমর্থন পেতে হবে। মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার পর তা যাচাই-বাছাই করা হবে। প্রার্থীর যোগ্যতা ও মনোনয়নপত্রের বৈধতা যাচাই শেষে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার বিষয়টি চূড়ান্ত হবে। একাধিক প্রার্থী থাকলে সংসদ সদস্যদের ভোটে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হবেন। আর শেষ পর্যন্ত যদি একজন প্রার্থীর মনোনয়ন বৈধ থাকে, তাহলে ভোট ছাড়াই তাকে নির্বাচিত ঘোষণা করা হবে। এবারের রাষ্ট্রপতি নির্বাচন ঘিরে রাজনৈতিক সমীকরণও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। সংসদে সংখ্যাগরিষ্ঠ দল বিএনপির ২৪৭ জন সংসদ সদস্য রয়েছেন। দলটি রাষ্ট্রপতি পদে যাকে মনোনয়ন দেবে, তার নির্বাচিত হওয়ার সম্ভাবনাই সবচেয়ে বেশি। কারণ সংসদে বিএনপির দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা রয়েছে। ফলে একাধিক প্রার্থী থাকলেও বিএনপির মনোনীত প্রার্থী প্রয়োজনীয় ভোট পেয়ে নির্বাচিত হতে পারেন। অন্যদিকে বিরোধী দলগুলোরও রাষ্ট্রপতি পদে প্রার্থী দেওয়ার সুযোগ রয়েছে। ১১ দলীয় ঐক্যের নেতৃবৃন্দের সঙ্গে শনিবার (৮ আগস্ট) সন্ধ্যায় রাজধানীর মগবাজারের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে জামায়াতের কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের বৈঠকের পর সিদ্ধান্ত নিয়েছে দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। বিষয়টি জামায়াতে ইসলামীর সিনিয়র প্রচার-সহকারী মুজিবুল আলমের সই করা এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়। ফলে শেষ পর্যন্ত নির্বাচনে কতজন প্রার্থী থাকছেন, তা মনোনয়নপত্র জমা ও যাচাই-বাছাইয়ের পরই স্পষ্ট হবে। রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের এই প্রক্রিয়ার মধ্যে এরই মধ্যে একটি পরিবর্তন এসেছে। গত ২৪ জুলাই মো. সাহাবুদ্দিন রাষ্ট্রপতির পদ থেকে পদত্যাগ করেন। এরপর সংবিধানের বিধান অনুযায়ী জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করছেন। নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হয়ে দায়িত্ব নেওয়া পর্যন্ত তিনি এ দায়িত্ব পালন করবেন। রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হওয়ার পর নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা রয়েছে। সংবিধানের ১২৩(২) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, মৃত্যু, পদত্যাগ বা অপসারণের কারণে রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হলে ৯০ দিনের মধ্যে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন করতে হয়। সেই ধারাবাহিকতায় নির্বাচন কমিশন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করেছে। তফসিল অনুযায়ী, ১৩ আগস্ট সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত রাষ্ট্রপতি পদে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়া যাবে। এরপর ১৬ আগস্ট সকাল ১০টা থেকে মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই শুরু হবে। যাচাই-বাছাই শেষ না হওয়া পর্যন্ত এ কার্যক্রম চলবে। প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ সময় নির্ধারণ করা হয়েছে ১৮ আগস্ট বিকেল ৫টা। সবশেষে ২০ আগস্ট অনুষ্ঠিত হবে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন। ওই দিন দুপুর ২টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত রাজধানীর মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ে জাতীয় সংসদের অধিবেশন কক্ষে ভোট গ্রহণের কথা রয়েছে। বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের পদ্ধতিতে তাই সাধারণ নাগরিকের সরাসরি ভোট দেওয়ার সুযোগ না থাকলেও রাষ্ট্রপতি হওয়ার সাংবিধানিক পথ একেবারে বন্ধ নয়। নির্ধারিত যোগ্যতা পূরণ করে সংসদ সদস্যদের প্রস্তাব ও সমর্থন নিয়ে একজন নাগরিক রাষ্ট্রপতি পদে প্রার্থী হতে পারেন। তবে শেষ পর্যন্ত রাষ্ট্রপতি কে হবেন, সেটি নির্ধারণ করবে সংসদ সদস্যদের ভোট এবং বর্তমান সংসদের সংখ্যাগরিষ্ঠতার হিসাব। এখন সবার নজর ১৩ আগস্টের দিকে। ওই দিন মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার পরই অনেকটা পরিষ্কার হয়ে যাবে রাষ্ট্রপতি পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে, নাকি একজন প্রার্থীই নির্বাচনের মাঠে থাকবেন। আর যেভাবেই নির্বাচন হোক, ২০ আগস্টই জানা যাবে কে হচ্ছেন দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি।