শিক্ষার্থীদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশ এবং একাডেমিক শিক্ষার পাশাপাশি সৃজনশীলতা, নেতৃত্ব ও সামাজিক দক্ষতা বাড়াতে সারা বছর খেলাধুলা, সহ-পাঠ্যক্রমিক ও সাংস্কৃতিক কার্যক্রম পরিচালনার নির্দেশ দিয়েছে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি)। সম্প্রতি মাউশির উপপরিচালক (শারীরিক শিক্ষা) অধ্যাপক মো. শহিদুল ইসলাম স্বাক্ষরিত এক পরিপত্রে এ নির্দেশনা দেওয়া হয়। পরিপত্রটি দেশের সব আঞ্চলিক পরিচালক, উপপরিচালক (মাধ্যমিক) এবং জেলা শিক্ষা কর্মকর্তার কাছে পাঠানো হয়েছে। মাউশির নির্দেশনায় বলা হয়েছে, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে একাডেমিক কার্যক্রমের পাশাপাশি খেলাধুলা, সহ-পাঠ্যক্রমিক ও সাংস্কৃতিক কার্যক্রমকে গুরুত্ব দিতে হবে। এসব কার্যক্রমকে নিয়মিত শিক্ষাকার্যক্রমের সঙ্গে সমন্বয় করে সুবিধাজনক সময়ে সারা বছর পরিচালনা করতে হবে। পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের নিয়মিত অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার জন্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোকে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নিতে বলা হয়েছে। পরিপত্রে মোট ৩৫টি কার্যক্রমের তালিকা দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ১৫টি ক্রীড়া কার্যক্রম, ১৩টি সহ-পাঠ্যক্রমিক এবং ৮টি সাংস্কৃতিক কার্যক্রম রয়েছে। ক্রীড়া কার্যক্রমের তালিকায় রয়েছে ফুটবল, ভলিবল, দাবা, ক্রিকেট, টেবিল টেনিস, কাবাডি, ব্যাডমিন্টন, হ্যান্ডবল, বাস্কেটবল, হকি, গ্রামীণ ও ঐতিহ্যবাহী খেলা, সাঁতার, অ্যাথলেটিকস, তায়কোয়ান্দো ও মার্শাল আর্ট। সহ-পাঠ্যক্রমিক কার্যক্রমের মধ্যে রয়েছে হামদ ও নাত, বাংলা ও ইংরেজি বক্তৃতা ও বিতর্ক, উপস্থিত বক্তৃতা, দেয়ালিকা তৈরি, বই পড়া, দৈনিক পত্রিকা পাঠ, সৃজনশীল লেখা, পরিবেশ সুরক্ষা, ডিজিটাল কনটেন্ট তৈরি, মানসিক স্বাস্থ্য সচেতনতা, গণিত অলিম্পিয়াড এবং ‘ওয়ান চাইল্ড ওয়ান ট্রি’ কর্মসূচি। সাংস্কৃতিক কার্যক্রমের আওতায় রাখা হয়েছে সংগীত, আবৃত্তি, একক অভিনয়, কুইজ, নৃত্য, গ্রাফিতি অঙ্কন, উৎসব ও ঐতিহ্যবিষয়ক অনুষ্ঠান এবং চিত্রাঙ্কন। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এসব কার্যক্রম পরিচালনার ক্ষেত্রে একাডেমিক কার্যক্রম যাতে ব্যাহত না হয়, সেদিকেও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। পরিপত্রে বলা হয়েছে, নিয়মিত পাঠদান ও অন্যান্য একাডেমিক কার্যক্রমের সঙ্গে সমন্বয় করে প্রতিষ্ঠানের জন্য সুবিধাজনক সময়ে খেলাধুলা ও অন্যান্য কার্যক্রম পরিচালনা করতে হবে। এ ছাড়া প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বিভিন্ন সংগঠন ও ক্লাব পরিচালনার ওপরও গুরুত্ব দিয়েছে মাউশি। এর মধ্যে বয়েজ স্কাউট, রোভার স্কাউট, গার্ল গাইডস, বিজ্ঞান ক্লাব, বিতর্ক ক্লাব এবং স্বাস্থ্য ও শারীরিক শিক্ষা ক্লাবসহ বিভিন্ন সংগঠন ও ক্লাব রয়েছে। মাউশির নির্দেশনায় এসব সংগঠন ও ক্লাবের কার্যক্রমকে শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণমূলক শিক্ষা ও দক্ষতা বিকাশের একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম হিসেবে দেখানো হয়েছে। শিক্ষার্থীদের শুধু শ্রেণিকক্ষের পাঠের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে বিভিন্ন সৃজনশীল ও ব্যবহারিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। শিক্ষা সংশ্লিষ্টরা মনে করেন, নিয়মিত খেলাধুলা শিক্ষার্থীদের শারীরিক সক্ষমতা ও শৃঙ্খলাবোধ বাড়ানোর পাশাপাশি দলগতভাবে কাজ করার অভ্যাস তৈরি করে। একইভাবে বিতর্ক, বক্তৃতা, বই পড়া, সৃজনশীল লেখা ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড শিক্ষার্থীদের চিন্তাশক্তি, প্রকাশক্ষমতা ও আত্মবিশ্বাস বাড়াতে সহায়তা করে। মাউশি বলছে, একাডেমিক শিক্ষার পাশাপাশি খেলাধুলা, সহ-পাঠ্যক্রমিক ও সাংস্কৃতিক কার্যক্রমে শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণ তাদের সার্বিক বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এসব কার্যক্রমের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের সৃজনশীলতা, নেতৃত্বের গুণাবলি, সামাজিক দক্ষতা ও আত্মবিশ্বাস বৃদ্ধির সুযোগ তৈরি হয়। এ কারণে শুধু নির্দিষ্ট বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতা বা সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মধ্যে কার্যক্রম সীমাবদ্ধ না রেখে সারা বছর ধারাবাহিকভাবে এগুলো পরিচালনার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোকে স্থানীয় সুযোগ-সুবিধা ও শিক্ষার্থীদের আগ্রহ বিবেচনায় নিয়ে কার্যক্রমের সময়সূচি নির্ধারণ করতে বলা হয়েছে। মাউশির এ উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে শিক্ষার্থীদের শিক্ষা কার্যক্রমের পাশাপাশি নিয়মিত খেলাধুলা, সাংস্কৃতিক চর্চা ও বিভিন্ন সহ-পাঠ্যক্রমিক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণের সুযোগ বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।