স্ক্যানার বসানোর জায়গা নেই, জব্দ পণ্যের নিরাপদ গুদাম অনুপস্থিত, সন্দেহজনক লাগেজ সরানোর আলাদা পথও নেই—চালুর আগেই অবকাঠামোগত অপ্রস্তুতির চিত্র বাইরে থেকে দেখলে আধুনিক স্থাপত্য, ঝকঝকে অবকাঠামো আর অত্যাধুনিক যন্ত্রপাতির সমাহার। প্রায় ২১ হাজার ৩০০ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল দেশের বিমান চলাচল খাতে নতুন সক্ষমতার প্রতীক হওয়ার কথা। কিন্তু এই বিশাল আয়োজনের আড়ালে কাস্টমস কার্যক্রমের প্রস্তুতি নিয়ে দেখা দিয়েছে গুরুতর প্রশ্ন। যাত্রীদের লাগেজ পরীক্ষা, চোরাচালান প্রতিরোধ, জব্দ পণ্য সংরক্ষণ, আমদানি-রপ্তানি কার্গো তদারকি এবং রাজস্ব সুরক্ষার মতো গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালনে প্রয়োজনীয় অবকাঠামোর অন্তত ১৫টি ঘাটতি চিহ্নিত করেছে ঢাকা কাস্টমস হাউস। ঘাটতির তালিকায় রয়েছে স্ক্যানার স্থাপনের পর্যাপ্ত জায়গা না থাকা, সন্দেহজনক লাগেজ আলাদা করে পরীক্ষার জন্য নেওয়ার পথ ও ডাইভারশন বেল্টের অভাব, জব্দ করা মূল্যবান পণ্য রাখার নিরাপদ গুদাম না থাকা, আমদানি পণ্যের শারীরিক পরীক্ষার ইয়ার্ডের সংকট এবং বড় আকারের কার্গো সংরক্ষণ ও পরীক্ষার অপর্যাপ্ত ব্যবস্থা। রপ্তানি কার্গোর ওজন যাচাইয়ের স্কেল, স্ক্যানার ও পণ্য পরীক্ষার উপযোগী জায়গাও নিশ্চিত হয়নি। কাস্টমসের আশঙ্কা, এসব ঘাটতি দূর না করে টার্মিনাল চালু করা হলে শুধু সেবা কার্যক্রমেই বিঘ্ন ঘটবে না; চোরাচালান, রাজস্ব ফাঁকি, জব্দ পণ্যের নিরাপত্তা এবং পণ্য নিয়ন্ত্রণেও ঝুঁকি তৈরি হবে। আধুনিক টার্মিনাল নির্মাণের পরও কাস্টমসের মৌলিক সক্ষমতা নিশ্চিত না হলে এর পূর্ণ সুফল পাওয়া কঠিন হয়ে পড়বে। ঢাকা কাস্টমস হাউসের মূল্যায়নে উঠে আসা এসব সমস্যা সমাধানের জন্য গত ১৬ মার্চ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষকে (বেবিচক) চিঠি দেওয়া হয়েছিল। পাঁচ মাসের বেশি সময়েও দৃশ্যমান অগ্রগতি না হওয়ায় পরে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যানের দৃষ্টি আকর্ষণ করে আবারও চিঠি দিয়েছে কাস্টমস কর্তৃপক্ষ। সম্প্রতি বেবিচক ও এনবিআর চেয়ারম্যানের কাছে পাঠানো প্রতিবেদন এবং ঢাকা কাস্টমস হাউসের কমিশনারের চিঠির সূত্রে বিষয়টি সামনে এসেছে। এনবিআরের ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। যাত্রী সামলানোর জায়গাতেই ঘাটতি তৃতীয় টার্মিনালের কাস্টমস হলের আয়তন ও পরিবেশ নিয়ে আপত্তি রয়েছে কাস্টমসের। তাদের মূল্যায়নে বলা হয়েছে, হলটি তুলনামূলক সংকীর্ণ; ছাদও নিচু এবং পর্যাপ্ত বায়ু চলাচলের ব্যবস্থা নেই। অথচ নতুন টার্মিনালে ঘণ্টায় প্রায় সাত থেকে আট হাজার যাত্রী চলাচলের সক্ষমতা বিবেচনায় রাখা হয়েছে। এত বিপুলসংখ্যক যাত্রী ও তাঁদের লাগেজের কাস্টমস কার্যক্রম পরিচালনার জন্য বিদ্যমান জায়গা যথেষ্ট নয় বলে মনে করছে সংস্থাটি। একসঙ্গে বেশি যাত্রী এলে কাস্টমস হলে ভিড় ও দীর্ঘ অপেক্ষার পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে। এতে যাত্রীসেবার গতি কমার পাশাপাশি নিরাপত্তা ও নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রমও চাপে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। শুধু যাত্রীসেবার জায়গা নয়, কাস্টমস কর্মকর্তাদের কাজের জন্যও পর্যাপ্ত অফিস কক্ষ বরাদ্দ হয়নি। প্রয়োজনীয় কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পাশাপাশি সহকারী কমিশনার ও যুগ্ম কমিশনার পর্যায়ের কর্মকর্তাদের জন্যও উপযুক্ত অফিস স্পেসের ঘাটতি রয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্ল্যান্ট কোয়ারেন্টাইনকে অতিরিক্ত জায়গা দেওয়া হলেও কাস্টমসের প্রয়োজনীয় দাপ্তরিক পরিসর নিশ্চিত করা হয়নি। স্ক্যানার আছে, বসানোর জায়গা ও পূর্ণাঙ্গ ব্যবস্থা নেই আধুনিক বিমানবন্দরে চোরাচালান ও অবৈধ পণ্য শনাক্তের অন্যতম প্রধান মাধ্যম স্ক্যানার। কিন্তু তৃতীয় টার্মিনালে প্রয়োজনীয় স্ক্যানার স্থাপনের জায়গা নিয়েই সংকটের কথা জানিয়েছে কাস্টমস। শুধু যন্ত্র বসানোর স্থান থাকলেই হবে না; স্ক্যানার পরিচালনার জন্য উপযুক্ত কক্ষ, অপারেটরদের বসার ব্যবস্থা, শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করাও জরুরি। এসব সহায়ক ব্যবস্থার ঘাটতিও মূল্যায়নে উঠে এসেছে। স্ক্যানিংয়ের পর কোনো ব্যাগেজ সন্দেহজনক বা ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে শনাক্ত হলে সেটিকে মূল লাগেজপ্রবাহ থেকে সরিয়ে আলাদা করে পরীক্ষা করতে হয়। কিন্তু তৃতীয় টার্মিনালে এ কাজের জন্য প্রয়োজনীয় স্বয়ংক্রিয় ডাইভারশন বেল্ট নেই। ফলে সন্দেহজনক ব্যাগেজ দ্রুত ও নিরাপদে আলাদা করার প্রক্রিয়ায় জটিলতা দেখা দিতে পারে। এ ধরনের লাগেজ সাধারণ যাত্রীদের চলাচলের পথ দিয়ে সরাতে হলে নিরাপত্তা ও গোপনীয়তা—দুই ক্ষেত্রেই সমস্যা তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। পাশাপাশি কোন লাগেজ কোথা থেকে এসেছে, কখন পরীক্ষা করা হয়েছে এবং কোথায় রাখা হয়েছে, তার ধারাবাহিক হিসাব সংরক্ষণও কঠিন হতে পারে। এ কারণে সন্দেহজনক লাগেজ পরীক্ষার জন্য পৃথক এলাকা, সাময়িক সংরক্ষণব্যবস্থা এবং শনাক্তকরণ ও নজরদারিতে রেডিও ফ্রিকোয়েন্সি আইডেন্টিফিকেশন (আরএফআইডি) প্রযুক্তি ব্যবহারের সুপারিশ করেছে কাস্টমস। জব্দ পণ্য রাখার নিরাপদ গুদাম নেই বিমানবন্দরে স্বর্ণ, বৈদেশিক মুদ্রা, মূল্যবান ইলেকট্রনিকসসহ বিভিন্ন উচ্চমূল্যের পণ্য জব্দ হওয়ার ঘটনা ঘটে। এসব পণ্য সংরক্ষণে নিরাপদ ও নিয়ন্ত্রিত গুদাম থাকা জরুরি। কিন্তু তৃতীয় টার্মিনালের ল্যান্ডসাইডে মূল্যবান জব্দ পণ্য রাখার জন্য পৃথক গুদামের ব্যবস্থা নেই বলে কাস্টমসের মূল্যায়নে উল্লেখ করা হয়েছে। বিশেষ নজরদারি প্রয়োজন এমন মূল্যবান পণ্য (ভ্যালুয়েবল গুডস রিকোয়ারিং অ্যাটেনশন—ভিজিআর) এবং ট্রানজিট পণ্য (ট্রানজিট গুডস রিকোয়ারিং অ্যাটেনশন—টিজিআর) সংরক্ষণের জন্যও নির্দিষ্ট ও নিরাপদ জায়গার ঘাটতি রয়েছে। জব্দ পণ্যের নিরাপদ সংরক্ষণ নিশ্চিত না হলে সেগুলোর হিসাব, হেফাজত ও পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়ায় জটিলতা তৈরি হতে পারে। কাস্টমসের প্রতিবেদনে জব্দ পণ্য রাখার জন্য প্রায় এক হাজার বর্গফুটের একটি গুদামের প্রয়োজনীয়তার কথাও বলা হয়েছে। এ ছাড়া বড় আকারের আমদানি পণ্য, অঘোষিত পণ্য কিংবা পরীক্ষার অপেক্ষায় থাকা চালান রাখার জন্য পর্যাপ্ত নিরাপদ গুদাম নেই। বিশেষ করে ওভারসাইজড কার্গো সংরক্ষণের পৃথক ব্যবস্থা না থাকায় পণ্য খালাস ও কাস্টমস নিয়ন্ত্রণে সমস্যা হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। আমদানি কার্গো পরীক্ষায়ও প্রস্তুতির ঘাটতি আমদানি করা পণ্যের শারীরিক পরীক্ষা বা ফিজিক্যাল এক্সামিনেশনের জন্য প্রয়োজনীয় নির্দিষ্ট ইয়ার্ড নেই। বড় আকারের পণ্য, প্যালেট ও ক্রেটজাত চালান স্ক্যান করার ক্ষেত্রেও জায়গার সংকট রয়েছে। বিদ্যমান স্ক্যানিং কক্ষের দরজা ও অবকাঠামো বড় চালানের সঙ্গে পুরোপুরি সামঞ্জস্যপূর্ণ নয় বলে কাস্টমসের মূল্যায়নে বলা হয়েছে। এ ছাড়া স্বয়ংক্রিয় কার্গো ব্যবস্থাপনা ও স্টোরেজ সুবিধার সঙ্গে কাস্টমসের পরীক্ষণ এবং জব্দ করার প্রক্রিয়ার পূর্ণাঙ্গ সমন্বয় নেই। কোনো চালানে অঘোষিত বা চোরাচালানের পণ্য পাওয়া গেলে সেটি দ্রুত জব্দ করে কাস্টমসের নিয়ন্ত্রণে নেওয়া এবং নিরাপদে সংরক্ষণের ক্ষেত্রে জটিলতা তৈরি হতে পারে। বড় আকারের আমদানি পণ্য নির্ধারিত সময়ের মধ্যে পরীক্ষা ও খালাস করা না গেলে কার্গো ব্যবস্থাপনায় চাপ বাড়বে। ফলে টার্মিনালের স্বয়ংক্রিয় পণ্য পরিবহন ও সংরক্ষণব্যবস্থা থাকলেও কাস্টমসের প্রয়োজনীয় অবকাঠামোর অভাবে তার কার্যকারিতা ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। রপ্তানি কার্গোতেও স্ক্যানার, স্কেল ও গুদামের সংকট রপ্তানি কার্গো টার্মিনালে কাস্টমসের জন্য অন্তত দুটি ব্যাগেজ স্ক্যানার ও একটি যানবাহন স্ক্যানার স্থাপনের পর্যাপ্ত জায়গা নেই। অস্থায়ী আমদানি-রপ্তানি, পুনঃরপ্তানি কিংবা পুনঃআমদানির পণ্য শারীরিকভাবে পরীক্ষা করার জন্যও পর্যাপ্ত শেড বা নির্দিষ্ট স্থান নিশ্চিত করা হয়নি। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ঘাটতিগুলোর একটি হলো রপ্তানি পণ্যের ওজন মাপার স্কেল না থাকা। রপ্তানিকারকের ঘোষিত ওজনের সঙ্গে প্রকৃত ওজন মিলিয়ে দেখা বাণিজ্য নিয়ন্ত্রণ ও রাজস্ব সুরক্ষার গুরুত্বপূর্ণ অংশ। ওজনের অসংগতি থাকলে পণ্যের পরিমাণ বা প্রকৃতি সম্পর্কে ভুল ঘোষণা এবং অন্যান্য অনিয়ম শনাক্তে এ ব্যবস্থা কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বড় বা ওভারসাইজ রপ্তানি পণ্য সাময়িকভাবে সংরক্ষণের জন্যও পৃথক গুদাম নেই। পর্যাপ্ত জায়গা না থাকায় এসব পণ্যের শারীরিক পরীক্ষা ও কাস্টমস নিয়ন্ত্রণে সমস্যা তৈরি হতে পারে বলে মনে করছে সংস্থাটি। ১৫ ঘাটতি শুধু অবকাঠামোর নয়, রাজস্ব সুরক্ষারও কাস্টমস কর্তৃপক্ষের ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা (সদস্য) নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, তৃতীয় টার্মিনাল চালু হলে যাত্রী ও পণ্য চলাচল বাড়বে। একই সঙ্গে কাস্টমসের ওপর রাজস্ব আদায়, চোরাচালান প্রতিরোধ, পণ্য পরীক্ষা এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দায়িত্বও বাড়বে। কিন্তু স্ক্যানার স্থাপনের জায়গা, সন্দেহজনক লাগেজ সরানোর পথ, জব্দ পণ্যের নিরাপদ গুদাম, আমদানি পণ্যের পরীক্ষার ইয়ার্ড, বড় পণ্য সংরক্ষণ এবং রপ্তানি পণ্যের ওজন যাচাইয়ের মতো মৌলিক সুবিধা না থাকলে সেই দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করা কঠিন হবে। তিনি বলেন, কাস্টমসের চিহ্নিত ১৫টি সমস্যাকে শুধু অবকাঠামোগত ঘাটতি হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। এর সঙ্গে সরাসরি জড়িয়ে আছে রাষ্ট্রের রাজস্ব সুরক্ষা, চোরাচালান প্রতিরোধ, পণ্য নিয়ন্ত্রণ ও যাত্রীসেবার বিষয়। আন্তর্জাতিক মানের টার্মিনাল ভবন প্রস্তুত হলেও কাস্টমস কার্যক্রম পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় অবকাঠামো কতটা প্রস্তুত, তা পুনরায় যাচাই করা জরুরি। টার্মিনাল পূর্ণাঙ্গভাবে চালুর আগেই এসব সমস্যা সমাধানের দাবি জানান তিনি। এ বিষয়ে ঢাকা কাস্টমস হাউসের কমিশনার মুহাম্মদ রইচ উদ্দিনের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। বেবিচকের একাধিক কর্মকর্তার সঙ্গে যোগাযোগ করেও এ বিষয়ে বক্তব্য সংগ্রহ করা সম্ভব হয়নি। ব্যয় বেড়ে ২১ হাজার ৩০০ কোটি টাকা হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল দেশের বিমানবন্দর অবকাঠামো খাতের অন্যতম বড় প্রকল্প। ২০১৭ সালের ২৪ অক্টোবর জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) অনুমোদন পাওয়া প্রকল্পটির প্রাথমিক ব্যয় ধরা হয়েছিল প্রায় ১৩ হাজার ৬১০ কোটি টাকা। পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন সংশোধনের মাধ্যমে ব্যয় বেড়ে দাঁড়িয়েছে আনুমানিক ২১ হাজার ৩০০ কোটি টাকায়। বেবিচকের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৯ সালের ২৮ ডিসেম্বর টার্মিনালটির নির্মাণকাজ শুরু হয়। জাপানের মিতসুবিশি ও ফুজিতা এবং দক্ষিণ কোরিয়ার স্যামসাংয়ের সমন্বয়ে গঠিত এভিয়েশন ঢাকা কনসোর্টিয়াম প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে। এর নকশা করেছেন সিঙ্গাপুরের স্থপতি রোহানি বাহারিন। তিনতলা টার্মিনাল ভবনের মেঝের আয়তন প্রায় দুই লাখ ৩০ হাজার বর্গমিটার। প্রকল্প এলাকায় রয়েছে কার্গো ভবন, ভিভিআইপি কমপ্লেক্স, বহুতল গাড়ি পার্কিং, আধুনিক যাত্রী ও লাগেজ ব্যবস্থাপনা এবং অন্যান্য অবকাঠামো। টার্মিনালে ১১৫টি চেক-ইন কাউন্টার, ৬৬টি প্রস্থান ও ৫৯টি আগমন ইমিগ্রেশন ডেস্কসহ বিভিন্ন আধুনিক সুবিধা রাখা হয়েছে। প্রকল্প বাস্তবায়নের মাধ্যমে বিমানবন্দরের যাত্রী ও কার্গো ব্যবস্থাপনার সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানোর লক্ষ্য রয়েছে। বছরে কার্গো হ্যান্ডলিং সক্ষমতা পাঁচ লাখ টনে উন্নীত করার পরিকল্পনাও রয়েছে। উদ্বোধনের তিন বছর পরও পূর্ণাঙ্গ কার্যক্রম শুরু হয়নি ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর তৃতীয় টার্মিনালের উদ্বোধন করা হয়। তবে উদ্বোধনের পরও এটি পূর্ণাঙ্গভাবে যাত্রীসেবায় যুক্ত হয়নি। প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি সমন্বয়, পরিচালনাগত প্রস্তুতি ও ব্যবস্থাপনা-সংক্রান্ত কাজের কারণে এর কার্যক্রম পিছিয়েছে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ২০২৬ সালের ১৬ ডিসেম্বর সীমিত পরিসরে টার্মিনাল চালুর লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এরপর ধাপে ধাপে কার্যক্রম বাড়িয়ে ২০২৭ সালের মার্চ-এপ্রিলের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ কার্যক্রম শুরু করার প্রত্যাশা রয়েছে। প্রকল্পের বিপুল ব্যয়, আধুনিক স্থাপনা ও যাত্রীসেবার সক্ষমতা বাড়ানোর প্রতিশ্রুতির বিপরীতে কাস্টমসের ১৫টি ঘাটতি এখন বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে। কারণ, বিমানবন্দরের নিরাপত্তা ও রাজস্ব সুরক্ষার দায়িত্ব পালনকারী সংস্থার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিশ্চিত না হলে আধুনিক টার্মিনালের প্রযুক্তিগত সক্ষমতাও পুরোপুরি কাজে লাগানো যাবে না। তাই টার্মিনাল চালুর সময়সীমা সামনে রেখে নির্মাণ অবকাঠামোর পাশাপাশি কাস্টমসের কার্যক্রম পরিচালনার প্রস্তুতি কতটা সম্পন্ন হয়েছে, তার জবাবদিহি নিশ্চিত করা জরুরি।