৫১তম বিসিএস (বিশেষ) পরীক্ষা-২০২৬-এর অনলাইন আবেদনপত্র পূরণ, টেলিটকের মাধ্যমে আবেদন ফি জমা এবং প্রবেশপত্র সংগ্রহের বিস্তারিত নির্দেশনা প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশন (বিপিএসসি)। ১ অক্টোবর প্রকাশিত নির্দেশনায় আবেদন ফরম পূরণ থেকে শুরু করে ছবি-স্বাক্ষর আপলোড, ফি জমা ও প্রবেশপত্র সংগ্রহের পদ্ধতি তুলে ধরা হয়েছে। এবারের ৫১তম বিশেষ বিসিএস পরীক্ষা নেওয়া হবে **স্বাস্থ্য ক্যাডারের পদে নিয়োগের জন্য**। বিপিএসসির ২৪ সেপ্টেম্বরের বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, আবেদনকারীদের অনলাইনে নির্ধারিত পদ্ধতিতে আবেদন করতে হবে। আবেদন করতে প্রথমে বিপিএসসির নির্ধারিত ওয়েবসাইট অথবা টেলিটকের ওয়েবসাইটে গিয়ে অনলাইন আবেদন ফরম খুলতে হবে। প্রার্থীর পরিচয় ও শিক্ষাগত তথ্য যাচাইয়ের জন্য এসএসসি বা সমমান পরীক্ষার রোল নম্বর, রেজিস্ট্রেশন নম্বর, শিক্ষা বোর্ড এবং পাসের বছর দিতে হবে। শিক্ষা বোর্ডের তথ্যভান্ডারের সঙ্গে এসব তথ্য যাচাইয়ের পর প্রার্থীর নাম, বাবা ও মায়ের নামসহ সংশ্লিষ্ট তথ্য স্বয়ংক্রিয়ভাবে আবেদন ফরমে যুক্ত হবে। এসব তথ্য পরে পরিবর্তনের সুযোগ থাকবে না। আবেদন ফরমটি মূলত তিন অংশে ভাগ করা হয়েছে—ব্যক্তিগত তথ্য, শিক্ষাগত যোগ্যতা এবং ক্যাডার পছন্দ। ব্যক্তিগত তথ্যের অংশে জন্মতারিখ, লিঙ্গ, চাকরির বর্তমান অবস্থা, কোটা, বৈবাহিক অবস্থা, জাতীয়তা, জাতীয় পরিচয়পত্র, জন্মনিবন্ধন বা পাসপোর্ট নম্বর দিতে হবে। পাশাপাশি উচ্চতা, ওজন ও বুকের মাপের তথ্যও দিতে হবে। প্রার্থীর জাতীয়তা অবশ্যই বাংলাদেশি হতে হবে। শারীরিক যোগ্যতার ক্ষেত্রেও নির্ধারিত মাপ অনুসরণ করতে হবে। পুরুষ প্রার্থীর ন্যূনতম উচ্চতা ১৫২ দশমিক ৪০ সেন্টিমিটার এবং ওজন ৪৮ দশমিক ৯৯ কেজি হতে হবে। নারী প্রার্থীর ন্যূনতম উচ্চতা ১৪৭ দশমিক ৩২ সেন্টিমিটার এবং ওজন ৪০ দশমিক ৮২ কেজি নির্ধারণ করা হয়েছে। শিক্ষাগত যোগ্যতার অংশে এইচএসসি ও স্নাতক পর্যায়ের প্রয়োজনীয় তথ্য দিতে হবে। স্বাস্থ্য ক্যাডারের এই বিশেষ বিসিএসে দুটি পদ রয়েছে। এগুলো হলো—**বিসিএস (স্বাস্থ্য) ক্যাডারের সহকারী সার্জন (ক্যাডার কোড ৪১০)** এবং **সহকারী ডেন্টাল সার্জন (ক্যাডার কোড ৪৫০)**। সংশ্লিষ্ট প্রার্থীদের এমবিবিএস বা বিডিএস ডিগ্রির বিষয় ও কোড অনুযায়ী তথ্য দিতে হবে। ফরমের সব তথ্য পূরণ করার পর প্রার্থী ‘অ্যাপ্লিকেশন প্রিভিউ’ দেখে নিতে পারবেন। এ পর্যায়ে কোনো ভুল ধরা পড়লে তা সংশোধনের সুযোগ থাকবে। তবে আবেদন চূড়ান্ত করার পর এবং বিশেষ করে আবেদন ফি জমা দেওয়ার পর কোনো তথ্য পরিবর্তন বা সংশোধন করা যাবে না। তাই ফি দেওয়ার আগে পুরো আবেদনপত্র ভালোভাবে যাচাই করে নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছে কমিশন। আবেদন চূড়ান্ত করার পর নির্ধারিত যাচাই কোড ব্যবহার করে ছবি ও স্বাক্ষর আপলোড করতে হবে। ছবির মাপ হতে হবে **৩০০×৩০০ পিক্সেল** এবং ফাইলের আকার সর্বোচ্চ **১০০ কিলোবাইট**। ছবিটি রঙিন হতে হবে এবং তিন মাসের বেশি পুরোনো হওয়া যাবে না। স্বাক্ষরের মাপ হতে হবে **৩০০×৮০ পিক্সেল**, যার ফাইলের আকার সর্বোচ্চ **৬০ কিলোবাইট**। আবেদন সফলভাবে জমা দেওয়ার পর ছবি ও স্বাক্ষরযুক্ত একটি আবেদনকারীর কপি পাওয়া যাবে। এতে প্রার্থীর ইউজার আইডি থাকবে। পরবর্তী প্রয়োজনের জন্য এই কপিটি প্রিন্ট করে অথবা নিরাপদ স্থানে সংরক্ষণ করতে হবে। আবেদন ফি জমা দিতে হবে টেলিটকের প্রিপেইড মোবাইল নম্বর থেকে নির্ধারিত পদ্ধতিতে দুটি এসএমএস পাঠিয়ে। সাধারণ প্রার্থীর মূল আবেদন ফি **২০০ টাকা**। এর সঙ্গে শিক্ষা বোর্ডের তথ্য যাচাইয়ের চার্জ ও মূল্য সংযোজন কর যুক্ত হয়ে মোট **২০৫ টাকা** দিতে হবে। তবে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী, প্রতিবন্ধী ও তৃতীয় লিঙ্গের প্রার্থীদের জন্য আবেদন ফি কম। তাঁদের মূল আবেদন ফি **৫০ টাকা** এবং যাচাই-সংক্রান্ত চার্জসহ মোট **৫৫ টাকা** জমা দিতে হবে। ফি জমা দেওয়ার প্রক্রিয়া সফল হলে প্রার্থী একটি পাসওয়ার্ড পাবেন। পরবর্তী সময়ে এই পাসওয়ার্ড ব্যবহার করেই প্রবেশপত্র ডাউনলোড করতে হবে। পাসওয়ার্ড হারিয়ে গেলে নির্ধারিত এসএমএস পদ্ধতিতে তা পুনরুদ্ধারের সুযোগও রাখা হয়েছে। বিপিএসসির নির্দেশনায় আবেদন প্রক্রিয়ায় কোনো ধরনের তদবির না করার বিষয়েও সতর্ক করা হয়েছে। কোনো প্রার্থী তদবির করলে সেটিকে তাঁর অযোগ্যতা হিসেবে গণ্য করা হবে। আবেদন করতে গিয়ে কারিগরি বা অন্য কোনো সমস্যায় পড়লে টেলিটক নম্বর থেকে **১২১**-এ কল করে সহায়তা নেওয়া যাবে। হেল্পলাইনে সংযোগ পেতে প্রথমে ৮ এবং পরে ১ চাপতে হবে বলে নির্দেশনায় জানানো হয়েছে। বিপিএসসি ৫১তম বিশেষ বিসিএসের আবেদন, ফি জমা ও প্রবেশপত্র-সংক্রান্ত নির্দেশনা ১ অক্টোবর প্রকাশ করেছে। এর আগে ২৪ সেপ্টেম্বর পরীক্ষার বিজ্ঞপ্তি এবং ৩০ সেপ্টেম্বর লিখিত পরীক্ষার সিলেবাস প্রকাশ করা হয়।