নারায়ণগঞ্জের চাষাঢ়ায় ছাত্রদল ও শিবিরের নেতাকর্মীদের সংঘর্ষ। ছবি: সংগৃহীত
নারায়ণগঞ্জ শহরের চাষাঢ়ায় সরকারি তোলারাম কলেজে জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বক্তব্যকে কেন্দ্র করে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল ও বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীদের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। বুধবার দুপুরে শুরু হওয়া এ সংঘর্ষে উভয় পক্ষের অন্তত পাঁচজন আহত হয়েছেন। সংঘর্ষের পর কলেজ ক্যাম্পাস, কলেজ রোড ও চাষাঢ়া এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ মোতায়েন করা হলে কয়েক ঘণ্টা পর পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়। নারায়ণগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিবি) মো. হাসিনুজ্জামান জানান, দুপুর ১২টার দিকে দুই ছাত্রসংগঠনের নেতাকর্মীদের মধ্যে প্রথমে বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। পরে তা ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া এবং সংঘর্ষে রূপ নেয়। এতে চার থেকে পাঁচজন আহত হয়েছেন। আহতদের নারায়ণগঞ্জ ৩০০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। তবে তাদের কারও আঘাত আশঙ্কাজনক নয়। পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শী শিক্ষার্থীরা জানান, জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষে কলেজের অডিটোরিয়ামে আলোচনা সভা চলছিল। অনুষ্ঠানে বিভিন্ন ছাত্রসংগঠনের নেতারা বক্তব্য দেন। এ সময় ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের নেতাদের মধ্যে পাল্টাপাল্টি বক্তব্য এবং উসকানিমূলক মন্তব্যকে কেন্দ্র করে উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। অনুষ্ঠান শেষ হওয়ার পর সেই উত্তেজনা কলেজের বাইরে ছড়িয়ে পড়ে এবং দুই পক্ষ সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, সংঘর্ষের সময় উভয় পক্ষের নেতাকর্মীদের হাতে লাঠিসোঁটা, বাঁশ, লোহার পাইপসহ বিভিন্ন দেশীয় অস্ত্র দেখা যায়। কলেজ রোড, চাষাঢ়া ও আশপাশের এলাকায় ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া চলতে থাকে। এতে সাধারণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং আশপাশের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের অনেকেই নিরাপত্তার কারণে দোকানের শাটার নামিয়ে দেন। খবর পেয়ে ফতুল্লা থানা পুলিশ ও জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। পরে দুই পক্ষের নেতাকর্মীদের ঘটনাস্থল থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়। ছাত্রদল তোলারাম কলেজ শাখার সভাপতি মনির হোসেন জিয়া অভিযোগ করেন, কলেজে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ নষ্ট করার জন্য ছাত্রশিবিরের নেতারা উসকানিমূলক বক্তব্য দেন। এর প্রতিবাদ করায় ছাত্রদলের কর্মীদের ওপর হামলা চালানো হয়। তিনি জানান, ছাত্রদলের কর্মী তুহিন আহমেদ ও রবিন আহত হয়ে নারায়ণগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন। অন্যদিকে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের নারায়ণগঞ্জ মহানগর শাখার সভাপতি অমিত হাসান দাবি করেন, কলেজের ভেতরেই ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা তাদের ওপর অতর্কিত হামলা চালান। তিনি বলেন, সাম্প্রতিক রাজনৈতিক উত্তেজনার ধারাবাহিকতায় পরিকল্পিতভাবে এ হামলা করা হয়েছে। এতে তিনি নিজেও মাথায় আঘাত পেয়েছেন। এছাড়া তোলারাম কলেজ শাখা ছাত্রশিবিরের সভাপতি এমদাদুল হক শুভ, সাধারণ সম্পাদক তামিম ইকবাল ও অর্থ সম্পাদক জুহাজ আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন বলে তিনি জানান। ঘটনার পর বেলা দেড়টার দিকে পুলিশ ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীদের এলাকা থেকে সরিয়ে দেয়। তবে এরপরও ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা কলেজ রোড, জামতলা, চাষাঢ়া ও কালিরবাজার এলাকায় লাঠিসোঁটা হাতে মিছিল করেন। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ওই মিছিলে যুবদলের কিছু নেতাকর্মীকেও অংশ নিতে দেখা গেছে। বেলা আড়াইটার পর পর্যন্ত বিভিন্ন সড়কে তাদের অবস্থান লক্ষ্য করা যায়। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কাউকে আটক বা গ্রেপ্তার করা হয়নি। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিবি) মো. হাসিনুজ্জামান বলেন, ঘটনাস্থলের সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করা হচ্ছে। ভিডিওচিত্র ও অন্যান্য তথ্য-প্রমাণ বিশ্লেষণ করে যারা সংঘর্ষে অংশ নিয়েছে এবং আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটিয়েছে, তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দেশের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সাম্প্রতিক সময়ে ছাত্রসংগঠনগুলোর মধ্যে উত্তেজনা ও সংঘর্ষের ঘটনা উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে। শিক্ষাঙ্গনের স্বাভাবিক পরিবেশ বজায় রাখতে প্রশাসনের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট ছাত্রসংগঠনগুলোকেও দায়িত্বশীল আচরণ করতে হবে। একই সঙ্গে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা।