প্রকাশ :: ... | ... | ...

আমার পোশাক দর্শক ঠিক করে দেবেন না, ট্রল নিয়ে ক্ষুব্ধ ঐশ্বরিয়া


সংযুক্ত ছবি

কোন পোশাক পরবেন, কোথায় যাবেন, কী খাবেন কিংবা কার সঙ্গে মিশবেন—এসব কি ঠিক করে দেবেন দর্শক? এমন প্রশ্ন তুলেই সামাজিক মাধ্যমে তারকাদের ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে অযাচিত মন্তব্য ও ট্রলিংয়ের বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন দক্ষিণ ভারতীয় অভিনেত্রী ঐশ্বরিয়া লক্ষ্মী। তাঁর অভিযোগ, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহার করে ছবি তৈরি ও অশালীনভাবে সম্পাদনার প্রবণতা যেমন বাড়ছে, তেমনি তারকাদের ব্যক্তিগত পছন্দ নিয়েও রুচিহীন মন্তব্য করা হচ্ছে। মালয়ালাম সিনেমার পরিচিত এই অভিনেত্রীর মতে, প্রযুক্তির উন্নতির সঙ্গে মানুষের বিবেচনাবোধ ও রুচিরও উন্নতি হওয়ার কথা। কিন্তু সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া কিছু কনটেন্ট দেখে তাঁর উল্টো অভিজ্ঞতা হয়েছে। এআই দিয়ে তৈরি ছবি এবং নিজের ছবি বিকৃত করে উপস্থাপনের ঘটনায় বিরক্ত হয়ে ইনস্টাগ্রাম থেকে দূরে থাকার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি। ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, তারকারা যখন সামাজিক মাধ্যমে নিজেদের উপস্থিতি বাড়ানো, অনুসারীর সংখ্যা বৃদ্ধি এবং নতুন কাজের প্রচারে ব্যস্ত, তখন ঐশ্বরিয়া লক্ষ্মী বেছে নিয়েছেন ভিন্ন পথ। তাঁর কাছে সামাজিক মাধ্যম থেকে দূরে থাকা এখন শুধু সাময়িক বিরতি নয়; বরং নিজের মতো করে জীবনযাপনের একটি সিদ্ধান্ত। অভিনেত্রীর এই সিদ্ধান্তের পেছনে রয়েছে এআই-নির্ভর কনটেন্ট, ছবি সম্পাদনা এবং সামাজিক মাধ্যমে নিজেকে নির্দিষ্টভাবে উপস্থাপনের চাপ নিয়ে অসন্তোষ। কাজের প্রয়োজনে সামাজিক মাধ্যমে সক্রিয় থাকার গুরুত্ব তিনি অস্বীকার করেননি। শুরুতে কিছুদিনের জন্য ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট নিষ্ক্রিয় রাখার কথা ভেবেছিলেন। কিন্তু পরে উপলব্ধি করেন, সেখানে সক্রিয় থাকতে গিয়ে তাঁকে এমন একটি ব্যক্তিত্ব তুলে ধরতে হচ্ছে, যা সব সময় তাঁর প্রকৃত সত্তার সঙ্গে মেলে না। সামাজিক মাধ্যমে একজন মানুষ কী পোস্ট করছেন, তার ওপর ভিত্তি করে অন্যরা তাঁর সম্পর্কে ধারণা তৈরি করেন। পরে সেই ধারণার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে চলার চাপও তৈরি হয়। ঐশ্বরিয়া লক্ষ্মীর মনে হয়েছে, এই চাপের কারণে তাঁকে যেন নিজের স্বাভাবিক পরিচয়ের বাইরে গিয়ে আরেকটি চরিত্রে অভিনয় করতে হচ্ছে। সেই পরিস্থিতি থেকে বেরিয়ে আসতেই সামাজিক মাধ্যম থেকে দূরে থাকার সিদ্ধান্ত নেন তিনি। **পোশাক নিয়ে মন্তব্যে ক্ষোভ** সামাজিক মাধ্যমে তারকাদের পোশাক নিয়ে আলোচনা ও সমালোচনা নতুন নয়। তবে সমালোচনার নামে ব্যক্তিগত পছন্দকে আক্রমণ করা কিংবা কাউকে অপমান করার প্রবণতা নিয়ে আপত্তি রয়েছে ঐশ্বরিয়া লক্ষ্মীর। কিছুদিন আগে একটি জুয়েলারি প্রদর্শনীতে অংশ নেওয়ার পর তাঁর পোশাক নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে ট্রল শুরু হয়। এ ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি ভারতীয় সমাজের মানসিকতা ও সংস্কৃতিবোধ নিয়েও প্রশ্ন তোলেন। অভিনেত্রীর বক্তব্যের মূল কথা, একজন তারকা অভিনয়ের মাধ্যমে দর্শকের সামনে আসেন। কিন্তু তার অর্থ এই নয় যে, অভিনয়ের বাইরেও তাঁর জীবনের প্রতিটি সিদ্ধান্তের ওপর দর্শকের নিয়ন্ত্রণ থাকবে। তিনি কী পোশাক পরবেন, কোথায় যাবেন, কী খাবেন কিংবা কার সঙ্গে মিশবেন—এসব ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত অন্য কেউ নির্ধারণ করে দিতে পারেন না। ঐশ্বরিয়া লক্ষ্মীর মতে, একজন অভিনেতার কাজ নিয়ে দর্শকের সমালোচনা করার অধিকার রয়েছে। কিন্তু সেই সমালোচনার সঙ্গে ব্যক্তিগত জীবন, পোশাক বা চলাফেরা নিয়ে অযৌক্তিক আক্রমণকে এক করে দেখা ঠিক নয়। কোনো তারকার পছন্দ নিজের পছন্দের সঙ্গে না মিললেই তাঁকে বিদ্রূপ করার প্রবণতা সুস্থ সংস্কৃতির পরিচয় বহন করে না। **এআইয়ের যুগে ব্যক্তিগত গোপনীয়তার প্রশ্ন** এআই প্রযুক্তির বিস্তারের সঙ্গে ছবি ও ভিডিও তৈরি, সম্পাদনা এবং বিভিন্ন ধরনের কনটেন্ট নির্মাণ সহজ হয়েছে। একই সঙ্গে অনুমতি ছাড়া কারও ছবি ব্যবহার, বিকৃত উপস্থাপন কিংবা বাস্তবের সঙ্গে সম্পর্কহীন দৃশ্য তৈরির ঝুঁকিও সামনে এসেছে। বিশেষ করে পরিচিত ব্যক্তিদের ছবি ব্যবহার করে তৈরি কনটেন্ট দ্রুত ছড়িয়ে পড়লে তাঁদের ব্যক্তিগত মর্যাদা ও গোপনীয়তা রক্ষা করা কঠিন হয়ে উঠতে পারে। ঐশ্বরিয়া লক্ষ্মীর অভিজ্ঞতা সেই বৃহত্তর আলোচনাকেই সামনে এনেছে। সামাজিক মাধ্যমে জনপ্রিয়তা ধরে রাখতে তারকাদের নিয়মিত ছবি ও ব্যক্তিগত মুহূর্ত ভাগ করে নেওয়ার যে চাপ রয়েছে, তার সঙ্গে যুক্ত হয়েছে ছবি কীভাবে ব্যবহৃত হবে, তা নিয়ন্ত্রণ করতে না পারার উদ্বেগ। তবে সামাজিক মাধ্যম থেকে সরে যাওয়ার সিদ্ধান্তকে কেবল প্রযুক্তির বিরুদ্ধে অবস্থান হিসেবে দেখছেন না তিনি। এর সঙ্গে নিজের স্বাভাবিক জীবনযাপন, ব্যক্তিগত স্বাধীনতা এবং অন্যের প্রত্যাশা অনুযায়ী নিজেকে উপস্থাপন না করার বিষয়টিও জড়িত। তারকাদের জীবন নিয়ে দর্শকের আগ্রহ থাকবেই। তাঁদের কাজ, অভিনয় কিংবা প্রকাশ্য বক্তব্য নিয়ে আলোচনা ও সমালোচনাও চলবে। কিন্তু সেই আগ্রহ যখন ব্যক্তিগত পছন্দ নিয়ন্ত্রণের দাবি কিংবা অসম্মানজনক ট্রলে পরিণত হয়, তখন প্রশ্ন ওঠে সামাজিক যোগাযোগের সীমা নিয়ে। ঐশ্বরিয়া লক্ষ্মীর অবস্থান স্পষ্ট—দর্শকের ভালোবাসা তাঁর কাছে গুরুত্বপূর্ণ, কিন্তু সেই ভালোবাসার শর্ত হিসেবে নিজের পোশাক, ব্যক্তিগত জীবন কিংবা পরিচয়ের নিয়ন্ত্রণ অন্যের হাতে তুলে দিতে তিনি রাজি নন।