সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে আঞ্চলিক ভাষায় আপত্তিকর মন্তব্য করে নতুন করে আলোচনায় এসেছেন চিত্রনায়িকা শামসুন্নাহার বেগম পরীমনি। শুক্রবার (৬ নভেম্বর) মধ্যরাতে দেওয়া এক পোস্টে ‘শহিদ ভাই’-এর শেখানো কথা উল্লেখ করে একটি আক্রমণাত্মক মন্তব্য করেন তিনি। তবে কাকে উদ্দেশ করে এ কথা বলেছেন, তা স্পষ্ট করেননি অভিনেত্রী। শুক্রবার (৬ নভেম্বর) মধ্যরাতে নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে আঞ্চলিক ভাষায় একটি পোস্ট দিয়ে পরীমনি লেখেন, ‘সাউয়া মাউয়া ছিররা ফালাইতে হবে খানখির পোলাদের…’। এরপর ‘আমাদের শহিদ ভাই শিখায়ে দিয়ে গেছে তো। তাই না?’—এমন মন্তব্য করেন তিনি। তবে ‘শহিদ ভাই’ বলতে কাকে বুঝিয়েছেন কিংবা কাদের উদ্দেশ করে কথাগুলো বলেছেন, তা পোস্টে উল্লেখ করেননি। পরীমনির এই পোস্টের আগে বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) ঢাকার চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন পান তিনি। ব্যবসায়ী নাসির উদ্দিন মাহমুদের করা মারধর, ভাঙচুর ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের মামলায় তাঁর বিরুদ্ধে আগে জামিন বাতিল করে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছিল। এর পরিপ্রেক্ষিতে বৃহস্পতিবার সকালে আদালতে হাজির হয়ে জামিনের আবেদন করেন অভিনেত্রী। পরে বিচারক ৫০০ টাকা মুচলেকায় তাঁর জামিন মঞ্জুর করেন। আদালত থেকে বের হওয়ার সময় পরীমনির ব্যক্তিগত নিরাপত্তাকর্মীদের সঙ্গে সংবাদকর্মীদের ধাক্কাধাক্কির ঘটনা ঘটে। এ সময় এক সাংবাদিককে হেনস্তা এবং তাঁর মোবাইল ফোন কেড়ে নেওয়ার অভিযোগ ওঠে। ভিড়ের মধ্যে কেউ তাঁকে স্পর্শ করেছেন—এমন অভিযোগ তুলে ক্ষোভ প্রকাশ করেন পরীমনি। তাঁকে বলতে শোনা যায়, ‘কত বড় সাহস, গায়ের মধ্যে হাত দেয়।’ এরপর দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন তিনি। আদালত প্রাঙ্গণের ওই ঘটনা এবং পরীমনির আচরণ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পক্ষে-বিপক্ষে আলোচনা শুরু হয়। একদিকে সংবাদকর্মীদের সঙ্গে আচরণের সমালোচনা করেন অনেকে, অন্যদিকে ভিড়ের মধ্যে নারীর নিরাপত্তা ও ব্যক্তিগত পরিসরের বিষয়টি সামনে এনে অভিনেত্রীর পক্ষেও মত দেন কেউ কেউ। এবার তাঁর মধ্যরাতের ফেসবুক পোস্টকে কেন্দ্র করে নতুন বিতর্ক তৈরি হয়েছে। তবে পোস্টে ব্যবহৃত আঞ্চলিক শব্দের লক্ষ্য কিংবা ‘শহিদ ভাই’ পরিচয় সম্পর্কে পরীমনি কোনো ব্যাখ্যা দেননি। অন্যদিকে তসলিমা নাসরিনের বক্তব্যে মূলত নারী-পুরুষের আচরণ বিচার করার ক্ষেত্রে সমাজের দ্বৈত মানদণ্ডের বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে। পাশে দাঁড়ালেন তসলিমা নাসরিন পরীমনির পোস্ট ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সমালোচনা শুরু হলেও পরীমনির পাশে দাঁড়িয়েছেন লেখিকা তসলিমা নাসরিন। শুক্রবার ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে তসলিমা নাসরিন বলেন, পরীমনি গালি দিয়েছেন বলে দেশজুড়ে আলোচনা হচ্ছে। অথচ পুরুষের মুখে একই ধরনের গালিগালাজ শুনে অনেকেই প্রতিক্রিয়া দেখান না। তাঁর মতে, নারীর মুখে এমন কথা শুনলেই সমাজের একাংশের আঁতকে ওঠা নারী-পুরুষের ক্ষেত্রে দ্বৈত মানদণ্ডের প্রকাশ। তসলিমা নাসরিন লেখেন, নারীকে অপমান সহ্য করে মুখে মধু মেখে বসে থাকতে হবে—এমন ধারণা গ্রহণযোগ্য নয়। গালি দেওয়ার অধিকারও কি শুধু পুরুষের? এমন প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, মানুষের ভালো ও খারাপ গুণ কোনো একটি লিঙ্গের একচেটিয়া বিষয় নয়। পুরুষের মতো নারীও রাগ করতে পারেন, ঘৃণা প্রকাশ করতে পারেন, এমনকি খারাপ কাজও করতে পারেন। নারী মানেই মমতাময়ী, সহনশীল, পবিত্র ও নিষ্পাপ—এমন ধারণাকে তিনি পুরুষতান্ত্রিক সামাজিক কাঠামোর তৈরি ছাঁচ হিসেবে উল্লেখ করেন। তসলিমা নাসরিনের বক্তব্য, কোনো নারী অসভ্য আচরণ করলে তার সমালোচনা হওয়া উচিত আচরণের ভিত্তিতে; ‘মেয়ে হয়েও’ কেন এমন আচরণ করেছেন, সেই প্রশ্ন তুলে নয়। একইভাবে নৃশংসতা, প্রতারণা কিংবা অন্যায়কে নারী বা পুরুষের পরিচয় দিয়ে আলাদা মানদণ্ডে বিচার করা উচিত নয়। নারী অপরাধ করলে বাড়তি সমালোচনা আর পুরুষের ক্ষেত্রে ছাড় দেওয়ার প্রবণতা বন্ধ হওয়া প্রয়োজন বলেও মন্তব্য করেন তিনি। পোস্টে নারী-পুরুষের জৈবিক পার্থক্যের প্রসঙ্গ টেনে তসলিমা নাসরিন বলেন, এসব পার্থক্য কাউকে প্রভু বা কাউকে অধস্তন করার যুক্তি হতে পারে না। নারী ও পুরুষ সমান মর্যাদার মানুষ হলেও রাষ্ট্র, সমাজ ও পরিবারে প্রচলিত বিভিন্ন আইন ও প্রথা এখনো পুরুষকে বাড়তি ক্ষমতা ও স্বাধীনতা দেয় বলে তাঁর অভিযোগ।