প্রবাসে পুনর্মিলন: এক ফ্রেমে মৌসুমী-শাবনূর

বিনোদন প্রতিবেদক
| প্রিন্ট সংস্করণ | ফটো কার্ড
 ছবি:
ছবি:

নব্বই দশক এবং তার পরবর্তী সময়েও ঢাকাই সিনেমার পর্দা কাঁপানো দুই নায়িকা মৌসুমী ও শাবনূর এখন কেবল চলচ্চিত্রেরই বাইরে নয়, বসবাস করছেন ভিনদেশে। একজন যুক্তরাষ্ট্রে এবং আরেকজন অস্ট্রেলিয়ায়। দুজনকে এক ফ্রেমে পাওয়া একটি দুরূহ ব্যাপার। তবে সেই কাণ্ডটি ঘটেছে যুক্তরাষ্ট্রের মাটিতে।

কীভাবে? গেল ১৭ ডিসেম্বর চিত্রনায়িকা শাবনূরের ৪৬তম জন্মবার্ষিকী গেছে। বিশেষ এই দিনটি উদযাপন করতে অস্ট্রেলিয়া থেকে ছেলে আইজানকে সঙ্গে নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে যান শাবনূর। সেখানে জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে সবাই একত্রিত হন চিত্রনায়ক অমিত হাসানের বাসায়। 


ফেইসবুকে শাবনূরের পোস্ট করা এক ভিডিওতে দুই তারকার আবেগঘন পুনর্মিলনের মুহূর্ত ভক্তদের সামনে এসেছে। ভিডিওতে দেখা গেছে, একগুচ্ছ ফুল হাতে অমিত হাসানের বাসায় আসেন মৌসুমী। বহু বছর পর মুখোমুখি দেখা হতেই আবেগে ভেসে যান দুই তারকা অভিনেত্রী। হাসি, আর ভালোবাসায় তারা একে অপরকে আলিঙ্গন করেন।

ভিডিও পোস্টে শাবনূর লিখেছেন, "অনেক দিন পর মৌসুমী আপুর সঙ্গে দেখা। আপুকে কাছে পেয়ে মনটা ভরে গেছে, কী যে ভালো লেগেছে!"


মৌসুমী দেশ ছেড়েছেন ২০২৩ সালের অক্টোবরে। এরপর আর দেশে ফেরেননি এই নায়িকা। সহসাই দেশে ফিরে এসে নতুন কোনো কাজে এই নায়িকার যুক্ত হওয়ার ‘সম্ভাবনা কম’ বলে গ্লিটজকে জানিয়েছিলেন তার স্বামী অভিনেতা ওমর সানি।

২০ বছর বয়সে ‘কেয়ামত থেকে কেয়ামত’ সিনেমার মধ্য দিয়ে চলচ্চিত্রে অভিষেক হয় মৌসুমীর। তার প্রথম সিনেমার নায়ক প্রয়াত নায়ক সালমান শাহ। শুরুর দিকে মৌসুমী-সালমান শাহ জুটি বেঁধে কয়েকটি সিনেমা করলেও পরে তারা দুইজনেই আলাদা কাজ শুরু করেন।

দীর্ঘ অভিনয়জীবনে মৌসুমী উপহার দিয়েছেন অনেক ব্যবসাসফল সিনেমা। চলচ্চিত্রে অভিনয় করে অর্জন করেছেন জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার ও সেরা অভিনেত্রীর সম্মানও।

অন্যদিকে দীর্ঘদিন ধরে অস্ট্রেলিয়ায় থাকেন শাবনূর। ২০২৩ সালের শেষ দিকে দেশে ফিরেছিলেন। তখন তাকে নিয়ে দুইটি সিনেমার ঘোষণা আসে। এর মধ্যে 'রঙ্গনা' নামের এক সিনেমার শুটিং করেছিলেন তবে সেই সিনেমার ফুটেজ ইউটিউবে প্রকাশ করে দেয় প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান।

সেসময় শাবনূরকে নিয়ে আরেকটি সিনেমার ঘোষণা দিয়েছিলেন নির্মাতা চয়নিকা চৌধুরী।

যশোরের শার্শার নাভারণে ১৯৭৯ সালের ১৭ ডিসেম্বর শাবনূরের জন্ম। তার আসল নাম কাজী শারমিন নাহিদ নূপুর। নির্মাতা এহতেশাম চলচ্চিত্রের জন্য তাকে শাবনূর নামটি দিয়েছিলেন।

১৯৯৩ সালে ‘চাঁদনি রাতে’ সিনেমা দিয়ে ঢালিউডে আত্মপ্রকাশ হয় শাবনূরের। চলচ্চিত্রটি ব্যবসায়িকভাবে ব্যর্থ হলেও পরে সালমান শাহের সঙ্গে জুটি বেঁধে এই নায়িকা হয়ে যান বিখ্যাত।

সালমান শাহ ছাড়াও নায়ক মান্না, রিয়াজ, ফেরদৌস, শাকিল খান, শাকিব খানসহ ওই সময়ের জনপ্রিয় সব নায়কের সঙ্গেও সিনেমায় দেখা গেছে শাবনূরকে।

‘তোমাকে চাই’, ‘আনন্দ অশ্রু’, ‘স্বপ্নের পৃথিবী’, ‘বিয়ের ফুল’, ‘ভালোবাসি তোমাকে’, ‘নারীর মন’, ‘ফুল নেবে না অশ্রু নেবে’, ‘প্রেমের তাজমহল’, ‘হৃদয়ের বন্ধন’, ‘মাটির ফুল’, ‘ব্যাচেলর’সহ প্রায় দুইশ সিনেমায় শাবনূর অভিনয় করেছেন।

২০০৫ সালে মোস্তাফিজুর রহমান মানিকের ‘দুই নয়নের আলো’ চলচ্চিত্রে অভিনয়ের জন্য জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পান শাবনূর।

এলাকার খবর

সম্পর্কিত