প্রকাশ :: ... | ... | ...

রানি-কাজলদের বাড়ির পূজা এবার কেন বিশেষ


সংযুক্ত ছবি

মুম্বাইয়ে দুর্গাপূজা মানেই বলিউড তারকাদের উপস্থিতি আর বাঙালির ঐতিহ্যবাহী উৎসবের আবহ। এই দুইয়ের মেলবন্ধনে প্রতিবছর বিশেষ আকর্ষণ হয়ে ওঠে নর্থ বোম্বে সার্বজনীন দুর্গোৎসব। অভিনেত্রী কাজল ও রানি মুখোপাধ্যায়ের পরিবারের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট এই পূজা এবার আরও বিশেষ। কারণ, আট দশকের ঐতিহ্য পেরিয়ে ৮০ বছরে পা দিয়েছে এই আয়োজন। এবারের পূজামণ্ডপ সাজানো হয়েছে কেরলের বিখ্যাত গুরুভায়ুর মন্দিরের স্থাপত্যের আদলে। প্রায় ১৭ ফুট উচ্চতার প্রতিমার সাজেও রয়েছে বিশেষ আকর্ষণ—সোনার গয়না। ঐতিহ্য ও নান্দনিকতার সমন্বয়ে সাজানো এই আয়োজন উদ্বোধনের দিন থেকেই দর্শনার্থীদের আগ্রহের কেন্দ্রে রয়েছে। গত ১৫ অক্টোবর পূজার ৮০তম আয়োজনের উদ্বোধনে উপস্থিত ছিলেন কাজল, তাঁর মা অভিনেত্রী তনুজা ও বোন তনিশা মুখোপাধ্যায়। পরিবারের অন্য সদস্যদের পাশাপাশি অনুষ্ঠানে ছিলেন পরিচালক অয়ন মুখোপাধ্যায় ও অভিনেত্রী শরবানি। প্রতি বছরের মতো এবারও তারকাদের উপস্থিতি উৎসবের আকর্ষণ বাড়িয়েছে। ছোট আয়োজন থেকে আট দশকের ঐতিহ্য নর্থ বোম্বে সার্বজনীন দুর্গোৎসবের যাত্রা শুরু ১৯৪৮ সালে। মুম্বাইয়ের সান্তাক্রুজে ছোট পরিসরে শুরু হওয়া এই পূজার উদ্যোক্তাদের মধ্যে ছিলেন পদ্মশ্রী শশধর মুখোপাধ্যায়, তাঁর স্ত্রী সতীরানি মুখোপাধ্যায় এবং জে এম ভদ্রসহ আরও কয়েকজন। সময়ের সঙ্গে সেই উদ্যোগ মুম্বাইয়ের পরিচিত দুর্গোৎসবগুলোর একটিতে পরিণত হয়। চলচ্চিত্র প্রযোজক শশধর মুখোপাধ্যায় মুম্বাইয়ের চলচ্চিত্রজগতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিলেন। মুম্বাই টকিজ ও ফিল্মিস্তান স্টুডিওর সঙ্গে তাঁর সম্পৃক্ততা ছিল। পূজার সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য গড়ে তোলার ক্ষেত্রেও তাঁর অবদান স্মরণ করা হয়। পরবর্তী সময়ে পরিবারের বিভিন্ন প্রজন্ম এই আয়োজনের সঙ্গে যুক্ত থেকেছে। তাঁদের মধ্যে ছিলেন রাম মুখোপাধ্যায় ও দেব মুখোপাধ্যায়ের মতো বিশিষ্ট ব্যক্তিরা। এই পারিবারিক ধারাবাহিকতাই পূজাটিকে দিয়েছে আলাদা পরিচিতি। এখানে ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানের পাশাপাশি বাঙালির সংস্কৃতি, পারিবারিক বন্ধন ও প্রবাসজীবনের স্মৃতিও একসূত্রে মিশে যায়। ণ্ডপে কেরলের মন্দির, প্রতিমায় সোনার গয়না এবারের আয়োজনের অন্যতম আকর্ষণ মণ্ডপের স্থাপত্য। কেরলের গুরুভায়ুর মন্দিরের আদলে তৈরি মণ্ডপে রাখা হয়েছে দক্ষিণ ভারতের ঐতিহ্যবাহী স্থাপত্যশৈলীর ছাপ। এর সঙ্গে বাঙালির দুর্গোৎসবের পরিচিত অনুষঙ্গ মিলিয়ে সাজানো হয়েছে পুরো আয়োজন। প্রতিবারের মতো এবারও প্রতিমা নির্মাণ করেছেন কলকাতার শিল্পী অমিত পাল ও তাঁর দল। প্রায় ১৭ ফুট উচ্চতার প্রতিমার সাজসজ্জায় ব্যবহৃত হয়েছে সোনার গয়না। প্রতিমার নির্মাণশৈলী, অলংকার ও মণ্ডপসজ্জা—সব মিলিয়ে দর্শনার্থীদের জন্য তৈরি হয়েছে বিশেষ আকর্ষণ। তারকাদের উপস্থিতি, বাঙালির আবেগ নর্থ বোম্বে সার্বজনীন দুর্গোৎসবের সঙ্গে বলিউডের তারকাদের উপস্থিতি দীর্ঘদিন ধরেই জড়িয়ে আছে। তবে এই আয়োজনের পরিচয় কেবল তারকাদের আনাগোনায় সীমাবদ্ধ নয়। প্রতিমা উন্মোচন, ঢাকের তালে নাচ, সিঁদুর খেলা ও নানা ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে এখানে উদ্‌যাপিত হয় বাঙালির দুর্গাপূজার চিরচেনা আবহ। কাজলও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে উৎসবের কিছু মুহূর্ত ভাগ করে নিয়েছেন। ছবির সঙ্গে তিনি লিখেছেন, দিনটি মা-কে তাঁর নানা রূপে উপলব্ধি করার—মা, মেয়ে, রক্ষাকর্তা ও দেবী হিসেবে। তাঁর এই বক্তব্যে মাতৃত্ব ও দেবীভাবনার আবেগ ফুটে উঠেছে। মুম্বাইয়ে বসবাসরত বাঙালিদের কাছে এই পূজা তাই শুধু ধর্মীয় উৎসব নয়; শিকড়, সংস্কৃতি ও পারিবারিক ঐতিহ্যের সঙ্গে সংযোগেরও উপলক্ষ। আট দশক ধরে প্রজন্মের পর প্রজন্মকে একত্র করে নর্থ বোম্বে সার্বজনীন দুর্গোৎসব হয়ে উঠেছে শহরের বাঙালি সংস্কৃতির একটি পরিচিত ঠিকানা। এবারের ৮০তম আয়োজন সেই ঐতিহ্যকে নতুন করে সামনে এনেছে। কেরলের মন্দিরের স্থাপত্য, কলকাতার শিল্পীর গড়া প্রতিমা, সোনার অলংকার আর বলিউডের পরিচিত মুখ—সব মিলিয়ে উৎসবটি পেয়েছে আলাদা মাত্রা। তবে এর স্থায়ী আকর্ষণ রয়ে গেছে বাঙালির শারদীয় আবেগ ও দীর্ঘদিনের পারিবারিক ঐতিহ্যে।