প্রকাশ :: ... | ... | ...

রংমেক হাসপাতালে ময়নাতদন্ত ছাড়াই মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর


সংযুক্ত ছবি

রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে (রমেক) পুলিশ কেস হিসেবে ভর্তি হওয়া আল মামুন (৪৫) নামে এক ব্যক্তির মৃত্যুর পর আইনগত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে তাঁর মরদেহ পুলিশের কাছে হস্তান্তর না করে গোপন সমঝোতার মাধ্যমে হাসপাতালের অসাধু কর্মচারীদের সহায়তায় পরিবারের কাছে দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। গত ২৫ অক্টোবর রোববার সকালে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এ ঘটনা ঘটে। পরে বিষয়টি প্রকাশ্যে এলে রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের তাজহাট থানার পুলিশ নগরীর ৩২ নম্বর ওয়ার্ডের সরেয়ারতল এলাকার নিহত আল মামুনের বাড়িতে যায়। সেখান থেকে মরদেহ উদ্ধার করে হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়। পরদিন ২৬ অক্টোবর সোমবার ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ পরিবারের সদস্যদের কাছে হস্তান্তর করা হয়। আল মামুন দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থ ছিলেন। অসুস্থতার যন্ত্রণা সহ্য করতে না পেরে গত ২৪ অক্টোবর ইঁদুর মারার ওষুধ খেয়েছিলেন বলে পরিবারের পক্ষ থেকে জানা গেছে। পরে তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়লে পরিবারের সদস্যরা তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করেন। রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ভর্তি রেকর্ড অনুযায়ী, ২৪ অক্টোবর রাত সাড়ে ১০টার দিকে হাসপাতালের এমএমইউ তিন বিভাগের ২৯ নম্বর ওয়ার্ডে ভর্তি হন রংপুর কোতোয়ালি থানার মুনছুর রহমানের ছেলে আল মামুন। তাঁর রেজিস্ট্রেশন নম্বর ২৯০৮১/১০৫ এবং ক্রমিক নম্বর ৫৩৫৬। অভিযোগ উঠেছে, আল মামুনের বাড়ি নগরীর ৩২ নম্বর ওয়ার্ডের সরেয়ারতল এলাকায় হলেও হাসপাতালে ভর্তির সময় নিজের বাড়ির ঠিকানা ব্যবহার না করে কোতোয়ালি থানার বাসিন্দা হিসেবে দেখানো হয়েছিল। অভিযোগ রয়েছে, রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সরদার অফিস ইনচার্জ মো. আবদুল জলিল এবং হাসপাতালের অফিস সহায়ক ও এন্ডোস্কোপি রুমের দায়িত্ব পালনকারী মো. মাসুদ পারভেজ অর্থের বিনিময়ে পুলিশ কেস হিসেবে ভর্তি হওয়ার বিষয়টি গোপন করে সাধারণ মৃত্যু দেখিয়ে আল মামুনের মরদেহ পরিবারের সদস্যদের কাছে হস্তান্তরে সহায়তা করেন। নাম প্রকাশ না করার শর্তে হাসপাতালের একাধিক কর্মচারী জানান, মো. আবদুল জলিল ও মো. মাসুদ পারভেজের যোগসাজশে এ ঘটনা ঘটেছে। তাঁদের অভিযোগ, ওই দুই কর্মচারী নিয়মিত দায়িত্ব পালনে অবহেলা করেন এবং অন্য কাজে ব্যস্ত থাকেন। মাসুদ পারভেজ একটি সক্রিয় চক্রের সঙ্গে জড়িত থেকে প্রভাব খাটিয়ে অর্থের বিনিময়ে এ ধরনের কর্মকাণ্ড ঘটিয়ে আসছেন বলেও অভিযোগ করেন তাঁরা। এ বিষয়ে হাসপাতালের সরদার অফিস ইনচার্জ মো. আবদুল জলিল বলেন, “পুলিশ কেস, নাকি—এটা দেখার সুযোগ ছিল না। এটা আমার ভুল হয়েছে।” টাকা গ্রহণের অভিযোগ অস্বীকার করে তিনি বলেন, “এখানে টাকার কোনো লেনদেন হয় না। যদি কেউ বলে থাকে, সেটা সঠিক বলেনি।” রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আশিকুর রহমান বলেন, বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।