প্রকাশ :: ... | ... | ...

অতিরিক্ত ডিআইজির ভাড়া দেওয়া বাড়িতে ডিবির অভিযান, আটক ৮৪


সংযুক্ত ছবি

রাজধানীর ভাটারায় পুলিশের এক অতিরিক্ত উপমহাপরিদর্শকের (অতিরিক্ত ডিআইজি) আবদুল্লাহ আল জহির ভাড়া দেওয়া বাড়িতে মাদকবিরোধী অভিযান চালিয়েছে ঢাকা মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগ (ডিবি)। সোমবার (১৯ অক্টোবর) রাতে শুরু হওয়া এ অভিযান মঙ্গলবার দুপুর পর্যন্ত চলে। অভিযান শেষে বাড়িটি থেকে ৮৪ জনকে আটক করা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে ২৬ জন নারী। ডিবি সূত্রের বরাতে জানা গেছে, বাড়িটিতে দীর্ঘদিন ধরে মাদক সেবন ও অবৈধ ডিজে পার্টির আয়োজন করা হচ্ছিল। এসব অভিযোগের ভিত্তিতে সেখানে অভিযান চালানো হয়। ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) অতিরিক্ত কমিশনার শফিকুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, ওই বাসাটি পুলিশ সদর দপ্তরের অতিরিক্ত ডিআইজি আব্দুল্লাহ আল জহিরের বাসা। তিনি বাসাটি এয়ারবিএনবির মাধ্যমে ভাড়া দিয়েছিলেন। সেখানে অবৈধভাবে মাদকসেবন, ডিজে পার্টি পরিচালিত হচ্ছিল। সেখান থেকে ২৬ জন মহিলা ও ৫৮ জন পুরুষকে আটক করা হয়েছে। উদ্ধার করা হয়েছে মাদকদ্রব্য। আটকদের মধ্যে একজন আফগানিস্তানের নাগরিকও আছেন। এ ব্যাপারে আইনানুগ পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। এয়ারবিএনবি হলো একটি অনলাইন মার্কেটপ্লেস বা প্ল্যাটফর্ম, যার মাধ্যমে বিশ্বজুড়ে মানুষ তাদের বাড়ি, অ্যাপার্টমেন্ট, ভিলা বা রুম স্বল্প ও দীর্ঘ সময়ের জন্য পর্যটক বা অতিথিদের কাছে ভাড়া দিতে পারেন এবং অতিথিরা বুকিং করতে পারেন। ডিবি পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ওই বাসা থেকে গাঁজা, ইয়াবা, মদ, কনডম জব্দ করা হয়েছে। এছাড়া ইয়াবা খাওয়ার সরঞ্জামাদি জব্দ করা হয়েছে। গোয়েন্দা উত্তরা বিভাগের ডিসি ইলিয়াস কবির বলেন, ওই বাসাটি এয়ারবিএনবির মাধ্যমে ভাড়া দিয়েছিলেন। ওখানে একজন কোহোস্ট ও হোস্টের মাধ্যমে পরিচালিত হচ্ছিল। কোহোস্ট মাহবুবুল আলম আটক আছেন। এয়ারবিএনবিকে ভাড়া দেওয়া হলেও ওই বাসা থেকে যা আয় হতো তার ৭০ শতাংশ নিতেন জহির। ডিবি পুলিশের একটি সূত্রে জানান, অ্যাডিশনাল ডিআইজি আটক কোহোস্টকে ছেড়ে দেওয়ার জন্য তদবিরও করেছিলেন। আড়াই তলার থ্রিপ্লেক্স বাড়িটিতে প্রতি রাতেই অবৈধভাবে মদসহ ডিজে পার্টির আয়োজন করা হতো। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বাড়িটির মালিক অতিরিক্ত ডিআইজি আবদুল্লাহ আল জহির। তিনি পুলিশ সদর দপ্তরের মেইনটেন্যান্স অ্যান্ড রিপেয়ার শাখায় কর্মরত। তাঁর বাড়িতে মাদকের কারবারের অভিযোগে ডিবির অভিযান সম্পর্কে জানতে তাঁর সঙ্গে একাধিকবার ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি। আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কী ধরনের আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে, তাঁদের কাছ থেকে কোনো মাদকদ্রব্য উদ্ধার হয়েছে কি না এবং বাড়িটির ভাড়াটিয়া বা আয়োজকদের মধ্যে কারও বিরুদ্ধে নির্দিষ্ট অভিযোগ রয়েছে কি না—এসব বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনটি আরও হালনাগাদ করা যাবে।