বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টি এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, জাতীয় ঐকমত্য কমিশন প্রণীত জুলাই সনদ সইয়ের পর থেকেই ড. ইউনূস সরকারের নির্বাচন ও গণভোটের প্রক্রিয়া নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে, যা জাতিকে আরও গভীর রাজনৈতিক সংকটে ফেলেছে। ফলে ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে প্রস্তাবিত জাতীয় নির্বাচন এখন অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে। বৃহস্পতিবার গণমাধ্যমে পাঠানো ওই বিবৃতিতে বলা হয়, ‘৬০ শতাংশ ভোটারের সমর্থন পাওয়া দলগুলোকে বাদ দিয়ে ঐকমত্যের নামে একটি কাগজ তৈরি করা হয়েছে, যা মূলত রাজনৈতিক প্রতারণা ও ক্ষমতার কৌশল ছাড়া কিছু নয়।’ বিবৃতিতে অভিযোগ করা হয়, ঐকমত্য কমিশনের চূড়ান্ত দলিলে আলোচনায় উত্থাপিত বিষয়গুলো বাদ দেওয়া হয়েছে এবং কিছু ব্যক্তি নিজেদের স্বার্থে দলিলটি পরিবর্তন করেছেন।
ওয়ার্কার্স পার্টির মতে, জুলাই সনদের নৈতিক ভিত্তি এখন সম্পূর্ণভাবে ভেঙে পড়েছে, এবং এই দলিলের ওপর দাঁড়িয়ে জাতীয় সংকট নিরসন সম্ভব নয়। বিবৃতিতে বলা হয়, ড. ইউনূস দেশের বর্তমান রাজনৈতিক অস্থিরতার দায় থেকে বাঁচতে বিদেশি শক্তির পরামর্শে সমঝোতার ব্যর্থতার দায় অন্যদের ঘাড়ে চাপাতে চাইছেন।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ‘দেশজুড়ে রাজনৈতিক দমন, গ্রেফতার, হামলা ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের মাধ্যমে সরকার একধরনের ফ্যাসিবাদী শাসন কায়েম করেছে।’ সাম্রাজ্যবাদী ও মৌলবাদী শক্তি দেশে অস্থিতিশীলতা তৈরির চেষ্টায় লিপ্ত বলেও অভিযোগ জানায় দলটি।
ওয়ার্কার্স পার্টি মুক্তিযুদ্ধ ও সংবিধানের চেতনায় বিশ্বাসী সব রাজনৈতিক ও সামাজিক শক্তিকে ঐক্যবদ্ধভাবে এই ‘দুঃশাসনের’ বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়েছে। বিবৃতিতে স্বাক্ষর করেন দলটির কেন্দ্রীয় মিডিয়া বিভাগের আহ্বায়ক মোস্তফা আলমগীর রতন।
ওয়ার্কার্স পার্টির এই বিবৃতি বাংলাদেশের বর্তমান রাজনৈতিক অচলাবস্থার একটি নতুন মাত্রা উন্মোচন করেছে। জুলাই সনদ নিয়ে বিতর্ক, গণভোটের বৈধতা এবং ড. ইউনূসের সরকারের নৈতিক অবস্থান—সবই এখন প্রশ্নবিদ্ধ। দলটি যেভাবে ফ্যাসিবাদ ও আন্তর্জাতিক প্রভাবের ইঙ্গিত দিয়েছে, তাতে বোঝা যায় বিরোধী রাজনৈতিক শক্তিগুলোর মধ্যে অবিশ্বাস ও বিভাজন আরও গভীর হচ্ছে। তবে অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের মাধ্যমে সংকট নিরসনের আহ্বান রাজনৈতিক পুনর্মিলনের সম্ভাবনাও ইঙ্গিত করছে, যা আগামীর রাজনীতির জন্য এক গুরুত্বপূর্ণ দিক নির্দেশনা হতে পারে।