প্রকাশ :: ... | ... | ...

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রদল-জকসু ও জাতীয় ছাত্রশক্তির সংঘর্ষ, আহত অন্তত ৫০


সংযুক্ত ছবি

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বার্ষিকী উপলক্ষে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে আয়োজিত একটি সেমিনারে প্রবেশকে কেন্দ্র করে ছাত্রদল, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদ (জকসু) ও জাতীয় ছাত্রশক্তির নেতা-কর্মীদের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) দুপুর থেকে বিকেল পর্যন্ত চলা এ সংঘর্ষে অন্তত ৫০ জন আহত হয়েছেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের মিলনায়তন, শহীদ মিনার এলাকা এবং ঢাকা ন্যাশনাল মেডিকেল ইনস্টিটিউট হাসপাতাল প্রাঙ্গণে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। গুরুতর আহত কয়েকজনকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। ঢাকা ন্যাশনাল মেডিকেল ইনস্টিটিউট হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ডা. মকবুল হোসেন জানান, দুপুর ১টার পর থেকে আহতরা হাসপাতালে আসতে শুরু করেন। বিকেল ৪টা পর্যন্ত প্রায় ৫০ জন চিকিৎসা নিয়েছেন। তাদের মধ্যে ১৫ থেকে ২০ জন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। অধিকাংশের মাথায় আঘাত রয়েছে এবং গুরুতর আহত কয়েকজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বিশ্ববিদ্যালয়ের আয়োজিত সেমিনারে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) চেয়ারম্যান মামুন আহমেদ ও উপাচার্য অধ্যাপক মো. রইছ উদ্দীন উপস্থিত ছিলেন। এ সময় দ্বিতীয় ক্যাম্পাস, অস্থায়ী হল নির্মাণ এবং মেডিকেল সেন্টারের সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধির দাবিসংবলিত প্ল্যাকার্ড নিয়ে জকসুর নেতা-কর্মীরা মিলনায়তনে প্রবেশের চেষ্টা করলে ছাত্রদলের নেতা-কর্মীদের সঙ্গে ধাক্কাধাক্কি শুরু হয়। পরে জকসুর নেতা-কর্মীরা মিলনায়তনের বাইরে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন। সেমিনার শেষে শহীদ মিনারের সামনে আবারও ছাত্রদল, জকসু ও জাতীয় ছাত্রশক্তির নেতা-কর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষ বাধে। জাতীয় ছাত্রশক্তির জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি শাহীন মিয়া অভিযোগ করেন, সেমিনার শেষে শহীদ মিনারের সামনে ছাত্রদলের নেতা-কর্মীরা তাদের ওপর হামলা চালান। এতে ছাত্রশক্তির সাধারণ সম্পাদক ফেরদৌস শেখ, জকসুর ভিপি, সাধারণ সম্পাদক (জিএস) ও এজিএসসহ কয়েকজন মারধরের শিকার হন বলে তিনি দাবি করেন। অন্যদিকে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের আহ্বায়ক মেহেদী হাসান হিমেল দাবি করেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের অনুষ্ঠানে ইউজিসি চেয়ারম্যানকে অপমান করার উদ্দেশ্যে ছাত্রশিবির ও তাদের সহযোগী সংগঠন প্রস্তুতি নিয়েছিল। তাদের সরে যেতে অনুরোধ করা হলেও তারা এগিয়ে এলে সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়। এ ঘটনায় ছাত্রদলেরও অনেক নেতা-কর্মী আহত হয়েছেন বলে তিনি দাবি করেন। এদিকে বিকেল ৩টা ও ৫টার দিকে ঢাকা ন্যাশনাল মেডিকেল ইনস্টিটিউট হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে যাওয়া জকসু ও জাতীয় ছাত্রশক্তির নেতা-কর্মীদের ওপর হামলার অভিযোগ ওঠে। ভুক্তভোগীদের দাবি, কবি নজরুল সরকারি কলেজ ও সরকারি শহীদ সোহরাওয়ার্দী কলেজ শাখা ছাত্রদলের কিছু নেতা-কর্মী এ হামলায় জড়িত ছিলেন। ঘটনার পর বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নজরদারি জোরদার করেছে। শু/আজা