জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর হলসংলগ্ন খেলার মাঠ সংস্কারে সরকারি ক্রয় বিধিমালা (পিপিআর) লঙ্ঘন ও দরপত্র ছাড়াই কাজ করার অভিযোগ উঠেছে হল সংসদের বিরুদ্ধে। গত ২৭ আগস্ট প্রশাসন কাজ স্থগিত করে তদন্ত কমিটি গঠন করলেও শুক্রবারও প্রশাসনের নির্দেশ উপেক্ষা করে সংস্কারকাজ চালিয়ে যাওয়ার প্রমাণ পাওয়া গেছে। শুক্রবার (২৮ আগস্ট) সহকারী প্রক্টর ড. আবদুস সাত্তার ঘটনাস্থলে গিয়ে কাজ বন্ধ রাখার নির্দেশ দেন। এ সময় হলের ভিপি-জিএসের নেতৃত্বে কয়েকজন শিক্ষার্থী প্রশাসনের নির্দেশের যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে কাজ চালিয়ে যাওয়ার অবস্থান নেন। অভিযোগ রয়েছে, ৫ লাখ ৭৫ হাজার ২৫৭ টাকা ব্যয়ের এই কাজ কোনো দরপত্র ছাড়াই লাইসেন্সবিহীন ঠিকাদারের মাধ্যমে দেওয়া হয়েছে। প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক শফিকুল ইসলাম ‘হারুন এন্টারপ্রাইজ’ ও লাইসেন্সধারী ঠিকাদারের কথা বললেও বাস্তবে আবুল হোসেন নামে এক ব্যক্তি কাজ করছেন বলে জানা গেছে, যার বৈধ ঠিকাদারি লাইসেন্স নেই। কাজের জন্য মাঠসংলগ্ন দুটি কৃষ্ণচূড়া গাছও কেটে ফেলার অভিযোগ রয়েছে। অনিয়মের অভিযোগ প্রকাশ্যে আসার পর গত ২৭ আগস্ট মাঠ সংস্কারকাজ স্থগিত করে চার সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। কমিটিকে ১৫ কর্মদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে। এদিকে, কাজ চলমান রাখার বিষয়ে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর হল সংসদের ভিপি অমিত বনিক বলেন, সাধারণ শিক্ষার্থীদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতেই সংস্কারকাজ চালানো হচ্ছে। তবে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ কামরুল আহসান জানিয়েছেন, তদন্ত চলাকালে কাজ বন্ধ থাকবে। তদন্ত শেষে দ্রুত কাজ শেষ করা হবে এবং অনিয়মের সঙ্গে জড়িতদের জবাবদিহির আওতায় আনা হবে। সর্বশেষ শুক্রবার দুপুর সাড়ে ৩টা পর্যন্ত প্রশাসনের নির্দেশ অমান্য করে মাঠের সংস্কারকাজ চলতে দেখা গেছে। এতে যেকোনো সময় অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির আশঙ্কা করছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও হল সংসদ। শু/আজা