প্রকাশ :: ... | ... | ...

বিএনপি ‘রাজনৈতিক সংকট’ তৈরি করছে: জামায়াত জোট


সংযুক্ত ছবি

বিএনপি ‘রাজনৈতিক সংকট’ তৈরি করছে বলে অভিযোগ করেছে বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামীর ১১ দলীয় জোট। জোটের অন্যতম নেতা জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ারের অভিযোগ বিএনপি গণভোটের রায় মেনে না নিয়ে জনগণকে দেওযা ‘প্রতিশ্রুতিই ভঙ্গ করছে না, প্রতারণাও করছে’। গণভোটের রায় বাস্তবায়নের দাবিতে বৃহস্পতিবার বিকালে জামায়াতের নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্যের দেশব্যাপী গণসংযোগ কর্মসূচি উদ্বোধনকালে গোলাম পরওয়ার এ অভিযোগ করেন। এদিন জামায়াতের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে এসে তিনি শেরপুর ও বগুড়ার নির্বাচনে ‘গুরুতর অনিয়মের’ অভিযোগও তোলেন। গণঅভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর অন্তর্বর্তী সরকার রাষ্ট্র সংস্কারে রাজনৈতিক দলগুলোর ঐকমত্যের ভিত্তিতে জুলাই জাতীয় সনদ প্রণয়ন ও গ্রহণ করে। গেল ১২ ফেব্রুয়ারি সংসদ নির্বাচনের সঙ্গে একই দিন জুলাই সনদ বাস্তবায়ন প্রশ্নে গণভোট হয়। জুলাই সনদ বাস্তবায়ন আদেশ অনুসারে সংবিধান সংস্কার পরিষদের অধিবেশন আহ্বান নিয়ে মুলতবি প্রস্তাবে প্রতিকার না পাওয়ার অভিযোগ তুলে সংসদ থেকে ওয়াক আউট করে জামায়াতের নেতৃত্বাধীন বিরোধী জোটের সদস্যরা। এর তারা আন্দোলনে নামে। সংবিধান সংস্কার পরিষদের অধিবেশন আহ্বান করে গণভোটের রায় বাস্তবায়নের দাবিতে গেল ১০ এপ্রিল ঢাকায় বিক্ষোভ কর্মসূচির পর এবার সারাদেশে গণসংযোগ নামল জামায়াত জোট। পাশাপাশি জ্বালানি সংকট নিরসনের দাবিতে জনসচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্যে ১৫ এপ্রিল পর্যন্ত তাদের এই কর্মসূচি চলবে। কর্মসূচির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে জামায়াতের সাবেক এমপি গোলাম পরওয়ার বলেন, “গণভোটে দেশের ৭০ শতাংশ জনগণের রায় মেনে না নিয়ে বিএনপি মানুষের সঙ্গে শুধু প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করছে না, প্রতারণাও করছে। “বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান এবং বর্তমান সরকারের মন্ত্রীরাও গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট চেয়েছেন। কিন্তু গণভোটে ‘হ্যাঁ’ জয়যুক্ত হওয়ার পর বিএনপি গণভোট মানছে না।” তিনি বলেন, “বিএনপি চেয়ারম্যান, আজকের প্রধানমন্ত্রী যদি গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট দিয়ে থাকেন, তবে তিনি কেন গণভোটের রায় বাস্তবায়ন করছেন না?” ৮৪টি সংস্কার প্রস্তাবের মধ্যে বিএনপি যেসব প্রস্তাবে ‘নোট অব ডিসেন্ট’ দিয়েছে, গণভোট জয়যুক্ত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে সেই ‘নোট অব ডিসেন্ট’ বাতিল হয়ে গেছে বলেও দাবি করেন জামায়াতের এই নেতা। এ জন্যই বিএনপির ‘মাথা খারাপ’ হয়ে গেছে মন্তব্য করে তিনি বলেন, “তারা (বিএনপি) ছলে-বলে কৌশলে ফ্যাসিবাদের পথে ফিরে যেতে চায়।” সমাবেশে আরও বক্তব্য দেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মহাসচিব জালাল উদ্দীন, খেলাফত মজলিসের মহাসচিব আহমদ আবদুল কাদের, জাতীয় নাগরিক পার্টি-এনসিপির যুগ্ম সদস্য সচিব জয়নাল আবেদীন শিশির, ডাকসুর স্বাস্থ্য ও পরিবেশ সম্পাদক আবদুল্লাহ আল মিনহাজ, বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টির সিনিয়র নায়েবে আমির আবদুল মাজেদ আতহারী, এবি পার্টির যুগ্ম মহাসচিব আব্দুল্লাহ আল মামুন রানা, লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব বিল্লাল হোসেন মিয়াজী, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টি-জাগপার সহ-সভাপতি রাশেদ প্রধান। পরে গোলাম পরওয়ারের নেতৃত্বে উপস্থিত নেতারা রাজধানীর শাহবাগে দাবির পক্ষে প্রচারপত্র বিলি করেন। শেরপুর ও বগুড়ার ভোটে ‘গুরুতর অনিয়ম’ দেখছে জামায়াত বৃহস্পতিবার বগুড়া-৬ আসনে উপনির্বাচন ও শেরপুর-৩ আসনে সাধারণ নির্বাচন হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বগুড়ার আসনটি ছেড়ে দেওয়া সেখানে উপনির্বাচন হয়েছে। আসনটি ধরে রাখতে পেরেছে বিএনপি। অন্যদিকে শেরপুর-৩ আসনে জামায়াতের প্রার্থী নুরুজ্জামান বাদলের মৃত্যুতে নতুন করে সেখানে তফসিল ঘোষণা করা হয়েছিল। এ আসনটি পেয়েছে বিএনপি। তবে এ দুটি আসনের ভোটে ‘গুরুতর অনিয়ম’ হয়েছে বলে অভিযোগ করেছে জামায়াতে ইসলামী। রাজধানীর মগবাজারে কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে দলের সেক্রেটারি জেনারেল গোলাম পরওয়ার বলেন, “একটি নির্বাচিত সরকারের অধীনে বগুড়া এবং শেরপুর দুটি আসনে আজ যে উপনির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে সেখানে কিছু গুরুতর অনিয়ম- ভোট কারচুপি, জালভোট, এজেন্টদের বের করে দেওয়া, সকালেই ফলাফল শিটে স্বাক্ষর নিয়ে নেওয়ার মতো অনেক আপত্তিকর ঘটনা ঘটছে। যা খুবই দুঃখজনক।” তিনি এসব ঘটনার প্রতিবাদ জানিয়ে বিচার দাবির পাশাপাশি উদ্বেগ প্রকাশ করে গোলাম পরওয়ার বলেন, “কেবলই দেড়মাস হল অবাধ, নিরপেক্ষ নির্বাচনের কথা বলে আন্দোলন, সংগ্রাম করা, জীবন দেওয়া ফ্যাসিবাদবিরোধী রাজনৈতিক আন্দোলনের দলগুলোর একটি বড় দল ক্ষমতায়। তাদের হাতে প্রথম দুটি উপনির্বাচনে যদি এই যদি চিত্র হয়, তাহলে সামনে স্থানীয় সরকারসহ আর যেসব নির্বাচন হবে সেগুলোতে আমরা কি করে ভোটারদের আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন আশা করতে পারি?’ নির্বাচন কমিশনারের উদ্দেশে জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল বলেন, যেসব কেন্দ্রে কেন্দ্রে অনিয়মের অভিযোগ তারা তুলেছেন, যেসব কেন্দ্র থেকে জালভোট দিয়ে এজেন্টদের বের করে দেওয়া হয়েছে, আগে স্বাক্ষর নেওয়া হয়েছে, সেসব প্রিজাইডিং কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে যেন আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়। সংবাদ সম্মেলনে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও জাতীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সভাপতি এ টি এম মাছুম, সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এবং প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের প্রধান এহসানুল মাহবুব জুবায়ের, নির্বাহী পরিষদ সদস্য মোবারক হোসাইন, ঢাকা মহানগরী উত্তরের সহকারী সেক্রেটারি নাজিম উদ্দিন মোল্লা এবং প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের সেক্রেটারি আতাউর রহমান সরকার।