প্রকাশ :: ... | ... | ...

মিরপুরের রাড্ডা সেন্টারে হামলা-লুটপাট: দুষ্কৃতিকারীদের কঠোর শাস্তির দাবি জামায়াত আমিরের


সংযুক্ত ছবি

রাজধানীর মিরপুর-১-এর রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত করে কঠোর শাস্তির দাবি জানিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান। একই ঘটনায় শাহ আলী থানায় করা মামলায় চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তবে হামলা ও ভাঙচুরের সময় ঘটনাস্থলে পুলিশ উপস্থিত থাকার কথা জানিয়েছেন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাহাঙ্গীর আলম। পুলিশের উপস্থিতির মধ্যেও কীভাবে এত বড় পরিসরে ভাঙচুর ও স্থাপনা গুঁড়িয়ে দেওয়া হলো, সে বিষয়ে তিনি স্পষ্ট ব্যাখ্যা দিতে পারেননি। শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) নিজের ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে শফিকুর রহমান বলেন, বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে মিরপুর-১-এর রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারে মুখোশ পরা দুই শতাধিক ব্যক্তি দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হামলা, লুটপাট ও ভাঙচুর চালিয়েছে। পরে ভারী যন্ত্রপাতি দিয়ে স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রটি গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি। তাঁর ভাষ্য, রাতের আঁধারে স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রটি গুঁড়িয়ে দিয়ে সেখানে একটি ‘রহস্যজনক’ সাইনবোর্ড টাঙিয়ে দেওয়া হয়েছে। শফিকুর রহমান প্রশ্ন তোলেন, ঘটনার সময় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কোথায় ছিল। তাঁর অভিযোগ, জনগণের স্বাস্থ্যসেবা পাওয়ার একটি সুযোগ এভাবে নিশ্চিহ্ন করে দেওয়া হয়েছে। সরকার যখন জনগণের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দেওয়ার কথা বলছে, তখন এ ধরনের ঘটনা কেন ঘটছে—সেই প্রশ্নও তোলেন তিনি। একই সঙ্গে ঘটনায় জড়িতদের খুঁজে বের করে কঠোর শাস্তির আওতায় আনার দাবি জানান জামায়াত আমির। এর আগে বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত ১২টা থেকে ২টার মধ্যে রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে বলে প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে জানানো হয়। রাড্ডা কর্তৃপক্ষের অভিযোগ, মুখোশ পরা প্রায় ২০০ থেকে ২৫০ জনের একটি দল দেশীয় অস্ত্র নিয়ে সেখানে প্রবেশ করে। তারা দুই নিরাপত্তাকর্মীকে জিম্মি করে ক্লিনিকে ঢুকে ভাঙচুর ও লুটপাট চালায়। পরে ভারী যন্ত্রপাতি এনে একটি পাকা ও তিনটি সেমিপাকা ভবনসহ স্থাপনাটি গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়। প্রতিষ্ঠানটির কর্মকর্তাদের দাবি, হামলাকারীরা ওষুধ, টিকা, সরকারি টিকাদান কর্মসূচির রেজিস্টার ও নথি, পরিবার পরিকল্পনার সামগ্রী, আলট্রাসনোগ্রাম মেশিন, জেনারেটর, ফ্রিজ, এসি, কম্পিউটারসহ বিভিন্ন সরঞ্জাম ও নগদ টাকা নিয়ে গেছে। সব মিলিয়ে ক্ষতির পরিমাণ দেড় কোটি টাকার বেশি বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে। এ ঘটনায় রাড্ডার নির্বাহী পরিচালক নাসরিন আখতার বাদী হয়ে শাহ আলী থানায় মামলা করেন। মামলায় মিরপুরের বিএনপি নেতা মো. হানিফ মিয়ার নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতপরিচয় আরও ২০০ থেকে ২৫০ জনকে আসামি করা হয়েছে। তাঁদের বিরুদ্ধে অনধিকার প্রবেশ, চুরি, হুমকি ও ক্ষয়ক্ষতির অভিযোগ আনা হয়েছে। তবে হানিফ মিয়া ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। শনিবার সকালে ও দুপুরে অভিযান চালিয়ে মামলায় চারজনকে গ্রেপ্তার করে শাহ আলী থানা পুলিশ। ওসি জাহাঙ্গীর আলম গ্রেপ্তারের তথ্য নিশ্চিত করেছেন। পুলিশ বলছে, গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা অর্থের বিনিময়ে হামলায় অংশ নেওয়ার কথা স্বীকার করেছেন এবং তাঁদের আদালতে পাঠানো হয়েছে। তবে পুলিশের পক্ষ থেকে তাঁদের নাম-পরিচয় প্রকাশ করা হয়নি। গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের স্বীকারোক্তির বিষয়টি আদালতে যাচাইয়ের প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যাবে। ঘটনার সময় পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিল—ওসি জাহাঙ্গীর আলমের এমন বক্তব্যের পর পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। এর আগে তিনি জানিয়েছিলেন, খবর পেয়ে পুলিশ রাতে ঘটনাস্থলে গিয়ে সেখানে উৎসুক জনতাকে দেখতে পায়। পরে শনিবার তিনি বলেন, ভাঙচুরের সময় পুলিশ ঘটনাস্থলে ছিল। পুলিশের উপস্থিতির মধ্যেই কীভাবে এত বড় পরিসরে স্থাপনা ভাঙা ও লুটপাট চলল এবং তখন কাউকে আটক করা হয়নি—এ প্রশ্নের স্পষ্ট ব্যাখ্যা দিতে পারেননি তিনি। এদিকে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক শফিকুল ইসলাম খান ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে জানিয়েছেন, ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের ক্যামেরার ফুটেজ দেখে শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। তিনি বলেন, জায়গা বা স্থাপনা নিয়ে কোনো বিরোধ থাকলে তা আইনগত প্রক্রিয়ায় সমাধান করতে হবে; আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার সুযোগ নেই। রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টার কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, প্রায় ৫০ বছর ধরে প্রতিষ্ঠানটি সরকারের সঙ্গে অংশীদারত্বের ভিত্তিতে মিরপুর এলাকার দরিদ্র ও নিম্ন আয়ের মানুষের জন্য প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা, প্রসূতিসেবা, পরিবার পরিকল্পনা ও শিশুদের টিকাদান সেবা দিয়ে আসছে। সরকারি সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচি (ইপিআই)-এর কার্যক্রমও সেখানে পরিচালিত হতো। হামলা ও স্থাপনা গুঁড়িয়ে দেওয়ার ফলে এসব সেবা কার্যক্রম ব্যাহত হয়েছে বলে জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। ঘটনার কারণ এবং কারা এর পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নের সঙ্গে জড়িত, তা এখনো তদন্তাধীন। মামলায় নাম থাকা ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে অভিযোগও আদালতে প্রমাণিত হয়নি। পুলিশ বলছে, গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদ ও ঘটনাস্থলের ভিডিও ফুটেজসহ অন্যান্য তথ্য-প্রমাণ বিশ্লেষণ করে ঘটনায় জড়িত অন্যদের শনাক্তের চেষ্টা চলছে।