প্রকাশ :: ... | ... | ...

শাহজাহানপুর ও তেজগাঁও হাট: বাড়ছে হাঁক-ডাক, আসছে পশু


সংযুক্ত ছবি

ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনের নির্দেশনা অনুযায়ী, ২৪ মে থেকে হাটগুলোতে পশু বেচাকেনা শুরু হবে। একপাশে ট্রাক থেকে নামানো হচ্ছে গরু, অন্যপাশে ট্রাক ঘিরে উৎসুক জনতার জটলা। কেউ ছবি তুলছেন পশুর। কেউ আবার আলাপ করছেন কোরবানির পশুর দর এবার কেমন যাবে তা নিয়ে। শুক্রবার রাজধানীর শাহজাহানপুর ও তেজগাঁও পশুর হাট ঘুরে এমন চিত্রই দেখা গেল। ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনের নির্দেশনা অনুযায়ী, ২৪ মে থেকে হাটগুলোতে পশু বেচাকেনা শুরু হবে। তবে এখন থেকেই এ দুই হাটে দূর দূরান্ত থেকে ট্রাক ভরে কোরবানির পশু নিয়ে আসতে শুরু করেছেন ব্যাপারিরা। ইতোমধ্যে হাটে শুধু গরু নয়, ছাগল, ভেড়া, দুম্বা এমনকি উটও এসেছে। ২৪ মে থেকে নির্ধারিত সময়ের আগে পশু বিক্রি নিষেধ থাকলেও দুই হাটেই কিছু বিক্রেতা এরইমধ্যে দুই একটি পশু বিক্রি শুরু করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। দুপুরে শাহজাহানপুর মৈত্রী ক্লাব সংলগ্ন হাট ঘুরে দেখা গেল, এরইমধ্যে বসেছে স্থায়ী-অস্থায়ী খাবারের দোকান। বাঁশের বেড়া দিয়ে তৈরি করা হয়েছে পশুকে রাখার স্থান। বৃষ্টির ছাঁট থেকে রক্ষা পেতে টাঙানো হয়েছে ত্রিপল। হাটের ভেতরেই বিক্রি হচ্ছে খড়-বিচালি। বাঁশের অস্থায়ী বেড়ায় বেঁধে রাখা হয়েছে সারি-সারি পশু। পাশেই খানিকটা ঘুমিয়ে নিচ্ছেন দূর-দুরান্ত থেকে আসা ক্লান্ত ব্যাপারিরা। হাটে পশু মালিকদের কেউ-কেউ আবার ব্যস্ত ছিলেন নিজেদের রান্নায়। বাজারে আনা পশুগুলোর যত্নও করছিলেন কেউ-কেউ। মশা তাড়াতে কয়েল জ্বলতেও দেখা গেল কয়েকটি জায়গায়। জামালপুর থেকে শাহজাহানপুরের হাটে ৯টি গরু নিয়ে এসেছেন সিরাজ উদ্দিন। সঙ্গে পশু নিয়ে এসেছেন আরও ৩ জন। সিরাজ বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “পরশু (বুধবার) এসেছি এই হাঁটে। অনেকেই আসছেন, দামদর করছেন। তবে এখনো বেচাকেনা শুরু হয়নি।” চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা থেকে এই হাটে ৭টি গরু নিয়ে আসা জয়নাল হোসেন বলেন, “আমরা চুয়াডাঙ্গা থেকে চারজন এসেছি ১৭টা গরু নিয়ে। এখানে হাঁটের পরিবেশ ভালো। তবে, ক্রেতা কম এখনো। দু’একদিনের মধ্যে হাট আরও জমবে মনে হয়।” শাহজাহানপুর হাটের ইজারাদার কর্তৃপক্ষের প্রতিনিধি মনসুর আলম বলেন, “আমাদের এখানে সার্বিক প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। কোরবানির পশুও আসতে শুরু করেছে। এখন পর্যন্ত কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। আমরা ব্যবসায়ীদের সুবিধার্থে সার্বক্ষণিক জেনারেটরের ব্যবস্থা ও পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা করেছি।” বৃহস্পতিবার রাতে তেজগাঁও পশুর হাটে গিয়ে দেখা যায়, বাজার ভরে গেছে কোরবানির পশু দিয়ে। সঙ্গে পাল্লা দিয়ে এসেছিলেন নানাবয়সী মানুষ। কেউ-কেউ দামও করছিলেন। হাটের পাশেই স্থাপন করা হয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অস্থায়ী বুথ। রয়েছে হাসিল আদায়ের জন্য বরাদ্দ জায়গা। সেখানে মাইকে বারবার হাটে শৃঙ্খলা বজায় রাখার নির্দেশ দেওয়া হচ্ছিল। স্বেচ্ছাসেবীদেরও দেখা গেল ব্যতিব্যস্ত। হাটের প্রবেশমুখের তোরণ পার হয়ে ভেতরে ঢুকতেই বামপাশে দেখা গেল চারটি বিশালাকৃতির উট। পশুগুলো ঘিরে ছিল মানুষের জটলা। ছবি তুলছিলেন অনেকেই। কুমিল্লা থেকে বিশাল আকৃতির একটি গরু নিয়ে এই হাটে এসেছেন সোয়াদ ক্যাটল ফার্মের মালিক শাহজালাল সুজন। গলায় মোটা স্টিলের চেইন পরানো কুচকুচে কালো রঙের গরুটির নাম দেওয়া হয়েছে ‘ইরান’। এ নিয়ে হাসি-তামাশাও করছিলেন কেউ-কেউ। গরুটিকে ছুঁয়ে দেখতেও আগ্রহ ছিল অনেকের। বুধবার চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলা থেকে তেজগাঁও হাটে আসা হাবিবুর রহমান বলেন, “আমরা আট থেকে ১০ জনের একটি দল একসঙ্গে এসেছি এখানে। সবাই গরু নিয়ে এসেছে। আমি ১২টি গরু এনেছি।” থাকা খাওয়ার কী ব্যবস্থা জানিতে চাইলে তিনি বলেন, “হাটে আসলে খাওয়া দাওয়া করি হোটেলে। গরু ছেড়ে তো অন্য কোথাও আসলে থাকি না। পাশেই শুয়ে কাটিয়ে দিচ্ছি। এই কয়টা দিন ধকল। তারপর বিক্রিবাট্টা হয়ে গেলে বাড়ি গিয়ে বিশ্রাম। এটা মেনে নিছি।” সিরাজগঞ্জের এনায়েতপুর থেকে এসেছিলেন আরেক বিক্রেতা বাদশাহ। তিনি বলেন, “১৫টা গরু নিয়ে এসেছি এক গাড়িতে, এখনো বেচাকেনা হয়নি। দুই-একজন দাম জানতে চাইছে। অধিকাংশই ঘুরে-ফিরে দেখে যাচ্ছে।” একই জেলার শাহজাদপুর থেকে মঙ্গলবার এসেছেন আব্দুল মতিন। তিনি গরু এনেছেন ১২টি। হাটের সার্বিক পরিবেশ ভালো বলে মত তার। তেজগাঁও হাটে গরু দেখতে এসেছিলেন রুবেল হোসেন নামে একজন। তিনি বলেন, “এখনও গরুর দাম অনেক বেশি। বোঝাই যাচ্ছে, বিক্রেতারা আরও দেখবেন, তারপর গরু ছাড়বেন। আমি কালো একটা গরু পছন্দ করেছিলাম কেনার জন্য; দাম হাঁকিয়েছে ৩ লাখ টাকা। পরে হয়ত সর্বোচ্চ আড়াই লাখ টাকায় দিয়ে দেবে।” তবে গরু বিক্রেতা আল আমিনের দাবি, বেশি দাম হাঁকছেন না তারা। তিনি বলেন, “বাজার তো শুরুই হয়নি এখনো। দুই পার্টিই (ক্রেতা-বিক্রেতা) এখন সঠিক দামে নেই। তবে, একটা গরু কোরবানি উপলক্ষে পালতে অনেক খরচ পড়ে যায়। খড়, বিচালি, খৈল, অসুস্থ হয়ে গেলে চিকিৎসা, সব মিলিয়েই দাম হাঁকা হয়।” তেজগাঁও হাটের ইজারাদার আমিনুল ইসলাম বলেন, “আমাদের হাট একদম প্রস্তুত। শুধু বাজার শুরুর অপেক্ষায় আছি। এখন পর্যন্ত কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি।” তেজগাঁও হাটে কোনো-কোনো বিক্রেতা পশু বিক্রি শুরু করছেন এমন অভিযোগের বিষয়ে আমিনুল ইসলাম বলেন, “আমরা তো ব্যাপারিদের নিষেধ করি। কিন্তু কেউ-কেউ কথা শুনে না। আসলে দূর থেকে কেউ একটা গরু নিয়ে এসেছেন, এখন বলছেন ভাই একটা গরু, আমি বিক্রি করে বাড়ি চলে যাব। আমরা তো আটকাতে পারি না।” এবারের কোরবানির ঈদে রাজধানীতে নির্ধারিত ২৭টি অস্থায়ী পশুর হাটের মধ্যে ২০টির ইজারা সম্পন্ন করেছে দুই সিটি করপোরেশন। এর মধ্যে সর্বোচ্চ দর উঠেছে দিয়াবাড়ির বউবাজার হাটের। এই ২৭টি অস্থায়ী পশুর হাটের মধ্যে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) আওতায় বসছে ১৬টি হাট; আর ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি) এলাকায় ১১টি। দক্ষিণ সিটির ১১টি হাটের মধ্যে ১০টির ইজারা ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে বলে তথ্য দিয়েছেন জনসংযোগ কর্মকর্তা জোবায়ের হোসেন। এর মধ্যে কাজলা ব্রিজ থেকে মাতুয়াইল মৃধাবাড়ির পানির পাম্প পর্যন্ত বিস্তৃত হাটের জন্য সর্বোচ্চ ৪ কোটি ৩৫ লাখ টাকা দর উঠেছে। আর উত্তর সিটির ১৬টি হাটের মধ্যে ১০টির ইজারা সম্পন্ন হয়েছে। এর মধ্যে উত্তরা দিয়াবাড়ি ১৬ ও ১৮ নম্বর সেক্টরসংলগ্ন বউবাজার এলাকার পশুর হাটের জন্য সর্বোচ্চ ১৪ কোটি ১৫ লাখ টাকা দর পাওয়া গেছে। ২৮ মে দেশে ঈদুল আজহা উদযাপিত হবে। সূত্র : বিডিনিউজ