প্রকাশ :: ... | ... | ...

আইনের শাসন ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠাই সরকারের লক্ষ্য: মির্জা ফখরুল


সংযুক্ত ছবি

আইনের শাসন ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে সমাজকে এগিয়ে নেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন বিএনপির মহাসচিব ও স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। রোববার (২ আগস্ট) দুপুরে ঠাকুরগাঁও আইনজীবী সমিতির উদ্যোগে আয়োজিত সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। মির্জা ফখরুল বলেন, “রুল অব ল (Rule of Law) এবং জাস্টিস—এই দুটি বিষয় সবসময় ধরে রাখতে হবে। আমরা যদি আইনের শাসন ও ইনসাফ প্রতিষ্ঠা করতে পারি, তাহলে সমাজকে অনেক দূর এগিয়ে নেওয়া সম্ভব হবে।” তিনি বলেন, বিগত সময়ে দেশ এই মূল্যবোধ থেকে বঞ্চিত হয়েছে। আগামী দিনে ন্যায়বিচার, আইনের শাসন এবং সামাজিক ন্যায় প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যেই সরকার কাজ করছে। স্থানীয় সরকারমন্ত্রী জানান, ঠাকুরগাঁওয়ের সার্বিক উন্নয়নে সরকার বিভিন্ন প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে। তিনি বলেন, জেলার জন্য একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে, উপাচার্য নিয়োগ সম্পন্ন হয়েছে এবং বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার জন্য জমিও নির্ধারণ করা হয়েছে। প্রয়োজনীয় বরাদ্দের বিষয়েও কাজ চলছে। তিনি আরও বলেন, ঠাকুরগাঁও মেডিকেল কলেজে আগামী বছর থেকে শিক্ষার্থী ভর্তি শুরু হবে। আপাতত পুরোনো হাসপাতালেই ক্লাস পরিচালিত হবে এবং স্থায়ী ক্যাম্পাস নির্মাণের কাজ পর্যায়ক্রমে এগিয়ে নেওয়া হবে। ঠাকুরগাঁও শহরের পরিকল্পিত উন্নয়নের কথা তুলে ধরে মির্জা ফখরুল বলেন, শহরের জন্য একটি ডাইভারশন বা রিং রোডের প্রস্তাব গ্রহণ করা হয়েছে। পাশাপাশি একটি সমন্বিত মাস্টারপ্ল্যানের মাধ্যমে অপরিকল্পিত নগরায়ণ রোধের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। অর্থনৈতিক উন্নয়নের বিষয়ে তিনি বলেন, ঠাকুরগাঁও এখনও তুলনামূলকভাবে অনুন্নত ও দরিদ্র জেলা। এখানে বড় শিল্পকারখানার অভাব রয়েছে। সরকার কৃষিভিত্তিক শিল্প গড়ে তোলার পাশাপাশি একটি শিল্পাঞ্চল প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছে, যাতে কর্মসংস্থান বাড়ে এবং মানুষের আয় বৃদ্ধি পায়। মন্ত্রী বলেন, দেশের অন্যতম বড় সামাজিক সমস্যা এখন মাদক। তরুণদের রক্ষায় সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে মাদকমুক্ত সমাজ গড়ে তুলতে হবে। মির্জা ফখরুল বলেন, দীর্ঘ আন্দোলন-সংগ্রামের মাধ্যমে দেশ একটি ফ্যাসিবাদী শাসনব্যবস্থা থেকে বেরিয়ে এসেছে। এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে শক্তিশালী করা। তিনি বলেন, স্বাধীন বিচারব্যবস্থা, দক্ষ প্রশাসন এবং কার্যকর সংসদীয় কমিটি নিশ্চিত করা গেলে গণতন্ত্র আরও সুদৃঢ় হবে। রাজনৈতিক মতপার্থক্য প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বিরোধী দল থাকবে, আন্দোলনও হবে। তবে গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলো শক্তিশালী থাকলে গণতন্ত্র টিকে থাকবে। প্রতিবেশী ভারতের উদাহরণ দিয়ে তিনি বলেন, নানা সংকট থাকা সত্ত্বেও সেখানে গণতন্ত্র টিকে আছে, কারণ তাদের বিচারব্যবস্থা, প্রশাসন ও গণমাধ্যম শক্তিশালী। এর আগে সকালে ঠাকুরগাঁও ডায়াবেটিক সমিতির আয়োজনে নেপাল ও বাংলাদেশের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত ‘ফ্রি আই ক্যাম্প-২০২৬’ উদ্বোধন করেন স্থানীয় সরকারমন্ত্রী। এ সময় তিনি বলেন, বাংলাদেশ ও নেপালের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক ভবিষ্যতে আরও দৃঢ় হবে। এই ধরনের যৌথ স্বাস্থ্যসেবা কর্মসূচির মাধ্যমে সীমান্তবর্তী ও দরিদ্র জনগোষ্ঠী উপকৃত হবে এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের উদ্যোগ দেশের অন্যান্য এলাকাতেও সম্প্রসারণের আশা প্রকাশ করেন। শু/আজা